ফেনীতে স্কচটেপ দিয়ে হাত-পা ও মুখ বেঁধে সাত বছরের এক কন্যা শিশুকে হত্যার অভিযোগে মাকে তিন দিনের রিমান্ডে পেলো পুলিশ। বাবার দায়ের করা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পরে শুনানি শেষে আদালত তিন দিন রিমান্ড মঞ্জুর করে।
রোববার ফেনী জজকোর্টের আইনজীবী গাজী তারেক আজিজ জানান, শুনানি শেষে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাতেমা তুজ জোহরা এ আদেশ দেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার পুলিশ নিহত শিশু উম্মে সালমা লায়িমার মা আয়েশা বেগমকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়।
ছাগলনাইয়া-পরশুরাম সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ওয়ালী উল্লাহ জানান, শিশুটির বাবা নুরুন্নবী বাদি হয়ে গত মঙ্গলবার রাতে পরশুরাম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। রাতেই লামিয়ার মা আয়েশা বেগম ও সৎমা রেহানা আক্তারকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গত বৃহস্পতিবার সকালে আয়েশাকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুলিশ সৎমা রেহানাকে বাদির জিম্মায় ছেড়ে দেয়।
যা জানালো প্রাণে বেঁচে যাওয়া শিশু নিহা
ছয় ফেব্রুয়ারি দুপুরে পরশুরাম উপজেলার পৌর এলাকার বাঁশপদুয়া গ্রামে হেলমেট পরা দুই যুবক নুরুন্নবীর ভাড়া বাসায় গিয়ে নিজেদের বিদ্যুতের কর্মী পরিচয় দিয়ে দরজা খুলতে বলেন।
নিহা জানায়, বিদ্যুৎ অফিসের লোক পরিচয় দিয়ে মাথায় হেলমেট পড়া দুই যুবক দুপুরে তাদের ঘরে ঢোকে। এসময় বাবা ও সৎ মা রেহানা আক্তার বাড়িতে ছিলেন না। তারা ঘরে ঢুকেই লামিয়ার হাত-পা ও মুখ স্কচটেপ দিয়ে বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এসময় নিহার সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয় এবং কৌশলে ঘর বের হয়ে পাশের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরে প্রতিবেশীদের ঘটনা জানালে তারা এসে দেখেন হাত-পা বাঁধা লামিয়ার মরদেহ মেঝেতে পড়ে আছে। এর আগে পালিয়ে যায় খুনিরা। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
কী বলছেন স্থানীয়রা
চার বছর আগে লামিয়ার মা আয়েশা বেগমের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় নুরুন্নবীর। পরে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। নিহত লামিয়া ও তার ১২ বছর বয়সী বড় বোন নিহা বাবার কাছে থাকতো। নুরুন্নবী দ্বিতীয় বিয়ে পর থেকে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তার বিরোধ চরমে ওঠে।
বাবার দাবি
নুরুন্নবীর ধারণা, তাকে ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে ফাঁসাতে সাবেক স্ত্রী আয়েশা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে।
