বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনকে বিষাক্ত করে তুলেছে একশ্রেণির মৎস্যজীবী। বনের ছোট বড় খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার করায় ধ্বংস হচ্ছে শত শত প্রজাতির জলজপ্রাণি। ধারণা করা হচ্ছে, খালের বিষাক্ত পানি খেয়ে রোগাক্রান্ত হয়ে মারা পড়ছে একের পর এক বনের রাজা রয়েল বেঙ্গল টাইগার, মায়াবি চিত্রল হরিণসহ অন্য বন্যপ্রাণি।
বুধবার বাগেরহাটের শরণখোলা প্রেসক্লাবে সুন্দরবন দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এমন উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন বক্তারা।
খুলনার ‘সুন্দরবন একাডেমি’র সহযোগীতায় এবারও উদযাপিত হয় দিবসটি।
এদিন সকাল ১০টায় প্রেসক্লাব চত্বর থেকে একটি র্যালি উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালি শেষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মিলনায়তনে প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রিয় গোপাল বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন, শরণখোলা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শেখ মোহাম্মদ আলী ও সাবেক সভাপতি বাবুল দাস। দিবসটির মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উন্নয়ন সংস্থা রূপান্তরের প্রকল্প ব্যবস্থাপক আলমগীর হোসেন মিরু। এছাড়া অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন, প্রেসক্লাবের নির্বাহী মিজানুর রাকিব, সুন্দরবনের ট্যুর অপারেটর রাসেল আহমেদ, পরিবেশ কর্মী সোলায়মা ফরাজী প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, সুন্দরবন সব প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাত থেকে উপকূলবাসীকে রক্ষা করে। এই সুন্দরবনকে রক্ষায় সরকারের আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশপাশি ১৪ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবন দিবসকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান বক্তারা।
সুন্দরবন দিবসের এই কর্মসূচীতে শরণখোলার বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, গণমাধ্যম কর্মী এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
