মিয়ানমার সীমান্তে নেই সেদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। সেখানকার নিরাপত্তা চৌকি ও ক্যাম্প দখল করে বসে আছে বিদ্রোহী গোষ্ঠি। এতে সীমান্ত দিয়ে মাদক-স্বর্ণ এমনকি অস্ত্রধারী ঢোকার ঝুঁকি বেড়েছে। সোমবার সকাল থেকেও বোমা ও গুলির শব্দে কেঁপে উঠছে টেকনাফ সীমান্ত। উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ এলাকা থেকে মিয়ানমারের গুলি ও বোমার শব্দ থেমে থেমে পাওয়া যাচ্ছে।
মিয়ানমার সীমান্তের পুরো নিয়ন্ত্রণ এখন বিদ্রোহীদের হাতে। তাদের সীমান্তরেখায় দায়িত্বশীল কোনো সরকারি বাহিনী টহল বা নিরাপত্তায় নেই। নাফ নদী হয়ে বাংলাদেশের প্রবেশের চেষ্টা করছে অনেক রোহিঙ্গা। তবে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সতর্ক রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মিয়ানমার সীমান্ত বিদ্রোহীদের দখলে যাওয়ায় ঝুঁকি বেড়েছে বাংলাদেশের। সীমান্ত অরক্ষিত হওয়ায় মাদক, স্বর্ণ এমনকি অস্ত্র বাংলাদেশে অবাধে ঢোকার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় নাগরিকরা। কারণ যারা সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে তাদের আয়ের মূল রসদ মাদক ও চোরাকারবার।
কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, মিয়ানমারের সংঘর্ষের মাঝেও মাদক ঢুকছে বাংলাদেশে। বর্ডার গার্ড বিজিবি সীমান্ত সংক্রান্ত ইস্যুতে কার সাথে কথা বলবে তাও অজানা।
বাংলাদেশ মিয়ানমারের সীমান্ত বাণিজ্যে ধস নামলেও বান্দরবান, উখিয়া টেকনাফ, থেকে প্রতিদিন মাদক স্বর্ণ পাচারের খবর দিচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, মিয়ানমারের সীমান্ত থেকে গুলি ও বোমার শব্দ থেমে থেমে পাওয়া যাচ্ছে। হতাহতরা অনেকেই বাংলাদেশে প্রবেশ করে আশ্রয় নিতে চাচ্ছে। তবে আর কোনো রোহিঙ্গাকে প্রবেশ করতে দেওয়া উচিত হবে না। টেকনাফের সীমান্ত এলাকায় অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে কাজ করছে পুলিশও। তারা বলছে, কোনো দালালের প্ররোচনায় রোহিঙ্গা যেন অনুপ্রবেশ করতে না পারে সেদিকে কড়া নজরদারি রয়েছে।
বান্দরবানের ঘুমধুম ও তুমব্রুর ওপারে মিয়ানমার সীমান্তের ঘাঁটিগুলো আরকান আর্মির দখলে। সেখানে আপাতত গোলাগুলি বন্ধ হলেও এবার টেকনাফের সীমান্তের ওপারে চলছে তুমুল লড়াই। মর্টারশেল ও গোলাগুলির শব্দে ভূমিকম্পের মতো কেঁপে উঠছে এপাড়ের ঘরবাড়ি। নিরপাত্তার কারণে শাহপরীর দ্বীপ জেটিতে স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের ভ্রমণে চলাচল বন্ধ রেখেছে বিজিবি।
টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, সীমান্তে গোলাগুলিতে নিরাপত্তার কারণে নাফ নদীর শাহপরীর দ্বীপ জেটিতে মানুষের চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। আজও সীমান্তের বিভিন্ন জায়গায় গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। তবে সেটি মিয়ানমারের অনেকে ভেতরে। তবে নতুন করে যাতে কেউ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য আমরা সর্বোচ্চ সর্তক অবস্থানে রয়েছি।
তিনি বলেন, আমরা রোববার পর্যন্ত শাহপরীর দ্বীপসহ কয়েকটি সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকালে ১৬৫ জন রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠিয়েছি। পাশাপাশি সীমান্তে বসবাসকারী লোকজনকে জরুরি কাজ ছাড়া সীমান্তে ঘুরাঘুরি না করতে নিষেধ করা হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রের খবর বলছে, রাখাইনে জান্তা ও আরাকান আর্মির মধ্যে যুদ্ধে মংডু শহরের বাঘগোনা, হাদিবিল, নলবনিয়া নয়াপাড়া গ্রামে হেলিকপ্টার দিয়ে হামলা চালায়। ফলে কয়েক দিন ধরে এসব এলাকার প্রায় চার হাজার লোক বাড়িঘর ছেড়ে সীমান্তবর্তী সিকদারপাড়া ও মন্নিপাড়া গ্রামে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। তারা সুযোগ বুঝে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অপেক্ষা করছে। তবে সতর্ক আছে বিজিবি।
রাখাইনে গোলাগুলির তোড়ে নাফ নদীতে রোহিঙ্গারা