চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদীর হাকিমপুর চরে নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় নাব্য সঙ্কটে ১৮৩ টন পাথরবোঝাই একটি জাহাজ আটকে পড়েছে। জাহাজটি ভারতের ময়া থেকে রাজশাহীর সুলতানগঞ্জ আসছিল।
নতুন এ রুটটি পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পরই গত ৯দিন ধরে ময়া-সুলতানগঞ্জের নৌপথের পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে।
শনিবার রাতে বিআইডব্লিউটিএ’র ক্রয় ও সংরক্ষণ বিভাগের পরিচালক রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পাথরবোঝাই ‘এমভি আতিয়া’ জাহাজটি ভারতের ময়া থেকে রওয়ানা হয় গত ১৬ ফেব্রুয়ারি। মেঘনা ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে এ পাথর আমদানির এলসি খোলেন মনিরুজ্জামান নামের এক ব্যবসায়ী। কিন্তু সুলতানগঞ্জ ঘাট থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশ সীমান্তে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদীর হাকিমপুর চরে এসে নদীর নাব্য কম হওয়ায় জাহাজটি আটকা পড়ে। এতে এ নৌপথ দিয়ে অন্য কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারছে না।
আমদানিকারক মনিরুজ্জামান জানান, এ ধরনের জাহাজ চলাচলের জন্য পানির গভীরতা কমপক্ষে সাত ফুট হতে হয়। কিন্তু হাকিমপুর চর এলাকায় পানির গভীরতা আছে সাড়ে চার ফুটের মতো। এ কারণে পাথরবাহী জাহাজটি আটকে যায়। ওই জাহাজের পাথর বিকল্প উপায়ে আনতে ২০ ফেব্রুয়ারি সোনামসজিদ স্থলবন্দরের উপ-কাস্টমস কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন করলেও এখনও কোনো সাড়া মেলেনি।
এ বিষয়ে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের কাস্টমস বিভাগের উপ-কমিশনার নুর উদ্দিন মিলন জানান, পণ্যবাহী জাহাজ লোড-আনলোডের সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার তার নেই। তাদের আবেদনের পর রাজশাহীর কাস্টমস কমিশনারের কার্যালয় থেকে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বিআইডব্লিউটিএ’র ক্রয় ও সংরক্ষণ বিভাগের পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, এ নৌপথের একটি অংশে সামান্য নাব্য সংকট রয়েছে। পানির গভীরতা সাড়ে পাঁচ ফুটের বেশি লাগে এমন জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। আমদানিকারক সম্ভবত সেই নির্দেশনা মানেননি।
সোনামসজিদ স্থলবন্দর পাথরসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানিকারক আব্দুল আওয়াল জানান, ১৮৩ মেট্রিকটন পাকুড় স্টোন চিপস বোঝাই এ জাহাজটি ভারতের মায়া বন্দর থেকে ছেড়ে বাংলাদেশের সুলতানগঞ্জ ঘাটে আসার পথে নদীতে পানি কম থাকার কারণে আটকে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী। এখন নৌকায় করে অতিরিক্ত খরচ করে পণ্য খালাস করতে হবে। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
ময়া-সুলতানগঞ্জ নৌপথে জাহাজ চলাচল এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আছে। আপাতত তিনটি জাহাজ চলাচল করে। এরমধ্যে একটি আটকা পড়েছে। বাকি দুইটির মধ্যে একটি ময়ায়, আরেকটি সুলতানগঞ্জে আছে। আটকে পড়া জাহাজটি ঘাটে ফিরলে পুনরায় চলাচল স্বাভাবিক হবে।
জয়পুরহাটে ট্রাকচাপায় অটোভ্যান চালক নিহত