খোদ নিজের শিক্ষকের কাছে যখন নিরাপত্তহীনতায় ভোগে সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীরা তখন সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হতে হয় শিক্ষার্থীদের। ভিকারুননিসার শিক্ষক মুরাদ হোসেনের যৌন নিপীড়নের ঘটনায় অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তার বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কেকা রায় চৌধুরী বলেন, ধাপে ধাপে নিয়ম মেনে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ বলেন, এ ব্যাপারে তদন্ত করে যদি যথাযথ ব্যবস্থা না নেয় তাহলে মাউশি থেকে আমরা অ্যাকশানে যাবো। ইতিমধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিক ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রয়োজনে মাউশি নিজেরাও তদন্ত করতে পারে।
কেবল ভিকারুননিসাই নয়। সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। কথা ছিলো প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল থাকবে। যাতে শিক্ষার্থীরা সহযে অভিযোগ জানাতে পারে। প্রশ্ন উঠেছে এই সেল আসলে কতোটা কার্যকর।
সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার কারণেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন বন্ধ হচ্ছে না। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল আরও কার্যকর করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মাকসুদ কামাল বলেন, দীর্ঘসূত্রিতার একটি বিষয় আছে। সেই দীর্ঘসূত্রিতা নানবিধ কারণেই সংঘটিত হয়। আবার অনেক সময় এ সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতেও একটু সময় লেগে যায়। আমাদের মূল দায়িত্ব হলো ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত করা। বিচারের দেরি হওয়া বা ক্ষমতার প্রভাবে বিচার না হওয়ার মতো ঘটনাগুলোও এই প্রবণতা বাড়ার জন্য দায়ী।

সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক মাহবুবা নাসরিন বলেন, যেখানে আইন বিশেষজ্ঞ থাকেন এবং খুব ইতিবাচক তার মনোভাব থাকে যে দোষী হলে শাস্তি হবে, না হলে হবে না; তাকে যেন প্রভাবিত করা না যায়। যে কোনো তদন্ততে অনেক বেশি সময় চলে যায়। এই সময় ক্ষেপন যেন অতোটা বেশি না হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যৌন নিপীড়ন বিরোধী কার্যকর সেল ও বিচারের বাধ্যবাদকতা নিশ্চিত করা গেলে এমন ঘটনা কমে আসবে।
ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করার অভিযোগে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আজিমপুর ক্যাম্পাসের দিবা শাখার এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কেকা রায় চৌধুরীর সই করা অফিস আদেশে বলা হয়, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়া গেছে। তাকে অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সংযুক্তর বিষয়টি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে।
তবে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ কী, তা অফিস আদেশে উল্লেখ না করা হলেও অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, অভিযুক্ত ওই শিক্ষক কোচিংয়ে পড়ানোর সময় ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করতেন।
