রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জনের প্রাণহানির প্রেক্ষাপটে তিন দিনে রাজধানীর এক হাজার ১৩২টি রেস্তোঁরায় অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
এসব অভিযানে ৮৭২ জনকে গ্রেপ্তার এবং ২০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ৮৮৭টি ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
বুধবার ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজে অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জন নিহত হন। বাণিজ্যিক ভবন হিসেবে অনুমোদন নিলেও সেখানে রেস্তোরাঁ করার অনুমতি ছিলো না।
ওই ঘটনার পর ধানমণ্ডি, খিলগাঁও, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় একই রকম অনিরাপদ পরিবেশে ভবনজুড়ে রেস্তোরাঁ গড়ে তোলার বিষয় নিয়ে আলোচনায় ওঠে। রোববার থেকে রাজধানীতে যে যার মতো করে অভিযানে নামে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) সিটি করপোরেশন, পুলিশ ও র্যাব।
এসব অভিযানে আবাসিক ভবনে নিয়মের বাইরে গিয়ে বানানো রোস্তোরাঁগুলো বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে এসব অভিযানে। কোথাও কোথাও গ্রেপ্তার ও জরিমানাও করা হচ্ছে। রাস্তার পাশে ছোট খাবারের দোকান থেকেও অনেককে আটক করছে পুলিশ।
ঢাকার বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় সরকারি সংস্থাগুলোর চালানো এসব অভিযানের সমালোচনা করে রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি একে ‘হয়রানি’ বলছে।
সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এখন যে পরিমাণ হয়রানি আমাদের করা হচ্ছে, এটা আসলে কোনো সভ্য দেশে হতে পারে না। আমি বলি হায়েনার মত ঝাঁপিয়ে পড়েছে।
ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা মহানগর এলাকার হোটেল-রেস্তোঁরা, ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান ও রাসায়নিকের গুদামে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এর ধারাবাহিকতায় গত রবি, সোম ও মঙ্গলবার মোট এক হাজার ৩৪৭টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়।
এর মধ্যে ১ হাজার ১৩২টি হোটেল-রেস্তোঁরা, ২০৭টি গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান এবং আটটি রাসায়নিকের গুদাম।
উত্তর সিটির নাকের ডগায় অনিয়ম
এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নাকের ডগাতেই নিয়ম না মেনে চলছে রেস্তোঁরা ব্যবসা। সিঁড়ির জায়গা দখল করে করা হয়েছে দোকানপাট। যদিও সবারই আছে ট্রেড লাইসেন্স। তাহলে কিসের ভিত্তিতে এসব প্রতিষ্ঠান অনুমোদন পেল? শর্ষের মধ্যে থাকা ভূত তাড়াবেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট বলছেন, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সামনেই গুলশান ২ নম্বর মোড়ে চলছে অভিযান। দুই দলে ভাগ হয়ে দুটি ভবনে দুই ঘন্টার অভিযানে চারটি প্রতিষ্ঠানকে দুই লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমান করে সিটি কর্পোরেশনের ভ্রাম্যমান আদালত।
জরুরি পথ বন্ধ থাকা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সনদ,অগ্নি নির্বাপনের অপর্যাপ্ত ব্যাবস্থাসহ রেস্তোঁরাগুলোতে মিলেছে নানা অনিয়ম।
জরুরি সিঁড়ি বন্ধ করে করা হয়েছে দোকান। সেই দোকানেরও আছে ট্রেড লাইসেন্স। এমন দোকানও কীভাবে লাইসেন্স পেলো জানা নেই সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জুলকার নায়েন বলেন, অনেকের সাময়িক বরখাস্ত আছে। অনেকের চাকরি চলে গেছে। অনেকের বেতন বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকের চাকরি চলে গেছে। এই কার্যক্রম চলমান আছে। এখনো যদি কেউ অভিযোগ করে। আপনাদের (সাংবাদিক) কাছে কেউ বলে আমরা তাৎক্ষণিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবো।
মেয়াদ থাকার পরও অকার্যকর ফায়ার স্ট্রিংগুইশারও মিলেছে। তবে এসব যারা তৈরী করেছে তাদের আইনের মুখোমুখি করা হবে কি না এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি অভিযান পরিচালনা কারীরা।
পরে দুটি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
