বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে যে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, আগামী বছর তা আরও বাড়বে বলে এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে। এতে বলা হচ্ছে, সামনের বছরগুলোতে এ অঞ্চলের গত তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হবে।
গেল এপ্রিলে রেকর্ড ভাঙা গরম পড়েছে বাংলাদেশে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতেও একই অবস্থা। বাংলাদেশে ৫২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, ৪৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সবচেয়ে বেশি সময় ধরে বয়ে গেছে তাপপ্রবাহ।
তীব্র তাপপ্রবাহের সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী এশিয়া মহাদেশ। এদের মধ্যে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো বেশি। ভারতে এবার তাপমাত্রা ছাড়িয়েছে ৪৬ ডিগ্রি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মিয়ানমার, লাওস ও ভিয়েতনামও দেখেছে সবচেয়ে উষ্ণতম এপ্রিল।
ভারতের তাপমাত্রা বৃদ্ধি চিন্তা বাড়িয়েছে আরও। মরুভূমির তুলনায় গাঙ্গেয় সমভূমির ভয়ানক গরম নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা।
তাই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কারণে এপ্রিলের এই ভয়াবহ গরম আগামী বছর আরও বাড়বে বলে সমীক্ষায় জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন (ডাব্লিউডাব্লিউএ)। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সঙ্গে এল নিনো যুক্ত হয়ে তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে তুলবে।
সমীক্ষাটি চালিয়েছে মালয়েশিয়া, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের মোট ১৩ জন গবেষক। তাদের দাবি, আগামী বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার গত তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ৪৫ গুণ বেশি।
তীব্র তাপপ্রবাহে অস্থির হয়ে উঠেছে জনজীবন। বেঘোরে প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ। অতি তীব্র দাবদাহে শুধু এপ্রিল মাসেই বাংলাদেশেই মৃত্যু হয়েছে ২৮ জনের। এছাড়াও ভারত, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইনেও মারা গেছেন বেশ কয়েকজন।
করোনাই ভাইরাস মহামারির সময় নিউ নর্মাল খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। মহামারি প্রায় শেষের দিকে। তবে নিউ নর্মাল থেকেই যাচ্ছে। তীব্র তাপপ্রবাহের এপ্রিলকেই এখন থেকে নিউ নর্মাল বলে মেনে নিতে হবে।
সাগরের দুই রহস্য এল নিনো ও লা নিনা
বিশ্বের গড় উষ্ণতার চেয়ে দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে এশিয়া