হঠাৎ ঝড়ে লন্ডভন্ড পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি, আহত ১৫

আপডেট : ৩০ মে ২০২৪, ১১:৩৬ পিএম

আকস্মিক ঝড়ে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার চারটি ইউনিয়নে প্রায় পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। উপড়ে গেছে অসংখ্য গাছ। গাছপালা ও ঘর চাপা পড়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১৫। এদিকে ঝড়ে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ায় চার ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে ডিমলা উপজেলার খালিশাচাপানী, নাউতারা, ঝুনাগাছচাপানী এবং গয়বাড়ি ইউনিয়নের ওপর দিয়ে এ আকস্মিক ঝড় বয়ে যায় বলে জানান সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা।

স্থানীয়রা জানান, মাত্র চার থেকে পাঁচ মিনিট স্থায়ী ঝড়ে খালিশাচাপানী ইউপির বাইশপুকুর, ছোটখাতা, ডালিয়া গ্রাম, নাউতারা ইউপির আকাশকুড়ি, নিজপাড়া, কাকড়া, সাতজান ও শালহাটি গ্রাম, ঝুনাগাছজচাপানী ইউপির ছাতুনামা, ভেন্ডাবাড়ি ও উত্তর সোনাখুলি গ্রাম এবং গয়াবাড়ি ইউপির দক্ষিণ গয়াবাড়ি মৌজার ভেন্টিয়াপাড়া, চেয়ারম্যান পাড়া, নয়া জামায়াত পাড়া এলাকার পাঁচ শতাধিক কাঁচা-আধাপাকা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। অধিকাংশ ঘরবাড়ির চাল ও বেড়া উড়ে গেছে। উপড়ে যায় ছোটবড় অসংখ্য গাছ। এসময় অন্তত ১৫ জন আহত হন।

নাউতরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আশিক ইমতিয়াজ মোর্শেদ মনি জানান, চার থেকে পাঁচ মিনিট স্থায়ী ওই ঝড়ে ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামের দেড় শতাধিক পরিবারের তিন শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। অধিকাংশ ঘরবাড়ির চাল ও বেড়া উড়ে গেছে। বাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ায় দেড় শতাধিক পরিবার খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। এছাড়াও বেশ কয়েকটি স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

খালিশা চাপানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সহিদুজ্জামান সরকার বলেন, ঝড়ে আমার ইউনিয়নের বাইশপুকুর গ্রাম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও ছোটখাতা, ডালিয়া গ্রাম আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই তিন গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবারের আড়াই শতাধিক কাঁচা ও আধাপাকা ঘর ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। অনেকের ঘরের চাল ও বেড়া উড়ে গেছে। গাছপালা উপড়ে পড়েছে মানুষের বাড়িঘরে। ঝড়ে গাছ ও ঘর চাপা পড়ে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। এছাড়াও একটি ছাগল ও একটি গরু মারা গেছে। ঘরবাড়ির ওপরে উপড়ে পড়া গাছপালা সরাতে কাজ করছে ডিমলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মীরা।

গয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইবনে ফয়সাল চৌধুরী মুন বলেন, ঝড়ে আমার ইউনিয়নের দক্ষিণ গয়াবাড়ি গ্রামের ভেন্টিয়াপাড়া, চেয়ারম্যান পাড়া, নয়া জামায়াত পাড়ার শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে।

ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মো. একরামুল হক বলেন, ঝড়ে আমার ইউনিয়নের ছাতুনামা, ভেন্ডাবাড়ি, উত্তর সোনাখুলিসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে দুই শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

ডিমলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক বলেন, বেলা সাড়ে ১২টার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা বাইশপুকুর, ছোটখাতা, ডালিয়া গ্রামে ছুটে আসি। তিন গ্রামেই অসংখ্য গাছপালা রাস্তাঘাট ও মানুষের বসতবাড়ি ওপর পড়ে রয়েছে। ভেঙ্গে পড়া গাছপালা অপসরণ করা হচ্ছে। দ্রুত এসব কাজ সম্পন্ন হবে।

এ বিষয়ে নীলফামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. মফিজুর রহমান বলেন, ওইসব এলাকায় ঝড়ে বিদ্যুতের সরবরাহ লাইনের আটটি খুঁটি উপড়ে পড়ে এবং ৭টি ট্রান্সমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনশত স্পটে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের তার ছিঁড়ে গেছে। এসব মেরামতের কাজ চলমান আছে। অধিকাংশ স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়েছে। সন্ধ্যার মধ্যে শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

ডিমলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মেজবাহুর রহমান বলেন, ঝড়ে যেসব এলাকায় মানুষের বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেইসব ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে তালিকা জমা দিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে সালমা বলেন, উপজেলার খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, নাউতরা ও গয়াবাড়ি ইউনিয়নের ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানগণ ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা সংগ্রহ করছেন। সন্ধ্যার মধ্যে তালিকা চেয়েছি। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা হাতে পেলে রাতেই জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে পাঠানো হবে। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে বুধবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে সৈয়দপুর পৌর শহরের আমিন মোড় এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়। ওই ঝড়ে ১২টি দোকান ঘরের চাল ও বেড়া উড়ে গেছে। এসময় পুরোনো কয়েকটি গাছ উপড়ে আটটি বসত ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে সৈয়দপুর পৌরসভা ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিল মো. জোবায়দুর রহমান শাহিন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণসহ ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করে তাদের সরকারি সহযোগিতা প্রদানের জন্য পৌর প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হবে।

আরবিএস
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানিয়েছেন, আগামী বছরই আনুষ্ঠানিক সূচনা হতে যাচ্ছে কাঙ্ক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনার। এই মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হলে লালমনিরহাটসহ তিস্তাপাড়ের...
নীলফামারীতে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ভিকটিমের পরিবারের দাবি, যৌতুকের দাবিতে তাকে নির্যাতনের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এমন অভিযোগ এনে নিহতের বাবা বাদি হয়ে...
নীলফামারীতে তিস্তা নদীর পানি কমে বিপদসীমার নিচে নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল থেকে নীলফামারীর ডিমলায় অবস্থিত তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার সাত সেন্টিমিটার নিচ...
নীলফামারীর ডোমারে পানির তীব্র চাপে হরিডারা নদীর একটি স্লুইসগেট ধসে পড়েছে। এতে একটি বসতবাড়ির অর্ধেক অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পাশাপাশি পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় কয়েক শত বিঘা...
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা শেষে সরকার ও দলের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতেই পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন সদ্য সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য...
নিজ নির্বাচনী এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে প্রকাশ্যে ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন ও মহড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দেশব্যাপী তোলপাড় ও সমালোচনার মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক...
সৌদি আরবে সম্প্রতি দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়ায় কূটনৈতিক তথ্য আদান-প্রদানে মারাত্মক ঘাটতি থাকার কথা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক...
বিতর্ক ও সমালোচনার জেরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে ইশরাক হোসেন বলেছেন, দল তাঁকে পদত্যাগ করতে বলেনি, বরং তিনি নিজে থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একটি...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর