মিয়ানমারের মর্টার শেল ও গুলির শব্দে সেন্টমার্টিনে পণ্য সরবরাহের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ালো কক্সবাজার প্রশাসন। বৃহস্পতিবার থেকে বোটে সাগরের বিকল্প পথে সেন্টমার্টিনে পণ্য সরবরাহ ও জরুরি চলাচলের সিদ্ধান্ত হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তবে নিজ উদ্যোগে বোটে টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনে যাতায়াত করেছেন অনেকেই।
পণ্য সরবরাহ ও জরুরি ভিত্তিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের টেকনাফ সেন্টমার্টিনের যাওয়া আসার সিদ্ধান্তের বিষয়টি বুধবার সন্ধ্যায় জানিয়ে দেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।
কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে শাহপরীর দ্বীপের গোলারচর থেকে পণ্যবাহী বোট সেন্টমার্টিন পাঠানো যায়নি। কারণ মধ্যরাতেও মিয়ানমারে মর্টারশেল ও গুলির শব্দ শোনা গেছে এপাড়ে। ঝুঁকি থাকায় সিদ্ধান্ত পাল্টায় প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সেন্টমার্টিন থেকে চারটি যাত্রীবাহী বোট ছাড়ে টেকনাফের দিকে। বোট মালিকরা নিজেরাই এ সিদ্ধান্ত নেন।

এদিকে টেকনাফে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় আটকে থাকা শত শত সেন্টমার্টিনের মানুষ বাড়ি ফিরতে ভিড় করে সাবরাং সাগর পাড়ে। তাদের অনেকেই বোটে উঠতে পারেননি।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, চলমান সমস্যা দ্রুত সমাধান করা না গেলে এখানকার মানুষ আরও কষ্টে পড়বে।
স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি বলেন, মিয়ানমারের কাছে নয়, আমাদের জলসীমার যদি নিরাপত্তা থাকে। আশাকরি যারা জলদস্যু হোক বা আর যায় হোক তারা আমাদের যাত্রীবাহী ট্রলারকে গুলি করবে না বলে আমার ধারণা।
বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মিয়ানমারের সেন্টমার্টিন ও শাহপরীর দ্বীপ অংশে মর্টারশেল ও গুলির শব্দ শুনেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সেন্টমার্টিন থেকে বঙ্গোপসাগরের অদূরে মিয়ানমার অংশে বড় জাহাজকে যুদ্ধজাহাজ ভেবে ভয়ও পাচ্ছেন তারা।
এর আগে ২০২০ সালের ৮ নভেম্বর মিয়ানমারের পার্লামেন্টারি নির্বাচনে অং সান সুচির ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) ৪১২ আসনের মধ্যে ৩৪৬টিতে জয় পায়। কিন্তু অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।
এরপর ২০২১ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী ক্ষমতা দখল করে। এরপর থেকে তাদের নিপীড়ন-নির্যাতন ও হামলায় অন্তত সাড়ে চার হাজার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। বন্দী করা হয়েছে ২৫ হাজার মানুষকে। জান্তা বাহিনীর নৃশংস হামলায় মিয়ানমার জুড়ে অন্তত ৭৮ হাজার বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে আরাকান আর্মিসহ দেশটির একাধিক বিদ্রোহী সংগঠন জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে। এর ফলে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।
গোলাগুলির শব্দে কাঁপছে টেকনাফ, নাফ নদে যুদ্ধজাহাজ
টেকনাফে রোগীবাহী স্পিডবোটে মিয়ানমার থেকে গুলি 