তিস্তা নদীর সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার মহাপরিকল্পনা নিয়ে ভারত ও চীন দুই দেশই প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, চীন সম্ভাব্যতা যাচাই করছে, ভারতও করবে। তবে বাংলাদেশ সবদিক বিবেচনা করে যাদেরটা লাভজনক হবে সেটাই নেবে।
মঙ্গলবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের পর প্রশ্ন-উত্তর পর্বে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে বলেন, ভারত যদি আমাদের তিস্তা প্রজেক্টটা করে দেয়, তাহলে আমাদের সব সমস্যারই তো সমাধান হয়ে গেল। তো সেটাই আমার জন্য সহজ হলো না? ভারত যখন এগিয়ে আসছে, আমরা যদি এটা করি, তাহলে পানি নিয়ে আর প্রতিদিন প্যাঁ প্যাঁ করতে হবে না।
তিস্তা প্রকল্প ও মমতা ব্যানার্জী
২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফর করেন। তার আগে আগে দুই দেশের পানি সম্পদ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছিল।
মনমোহন সিংয়ের সফরেই বহু প্রতীক্ষিত তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতায় তা আটকে যায়।
নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি সরকার ভারতের ক্ষমতায় আসার পর তিস্তা চুক্তি নিয়ে আশার কথা শোনা গেলেও মমতার মত বদলায়নি।
এদিকে গঙ্গা-তিস্তার আলোচনা নিয়ে আবারও আপত্তি তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার প্রধানমন্ত্রী মোদীকে লেখা এক চিঠিতে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গকে ‘পাশ কাটিয়ে’ ফারাক্কা চুক্তি নবায়ন ও তিস্তার পানি নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া ‘অগ্রহণযোগ্য ও অপ্রত্যাশিত’।
এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেটা মমতা ব্যনার্জি বলেছেন, উনার ক্ষোভ যে উনার সঙ্গে আলোচনা করেনি, উনি তো ছিলেন না দিল্লিতে। আমি নিজেই তো যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি, উনি ছিলেন না। থাকলে নিশ্চয় উনাকে নিয়ে আমরা আলোচনা করতাম। অন্তত আমি করতাম।
শেখ হাসিনা বলেন, মমতা ব্যানার্জির যে চিঠি, সেটা তো তিনি লিখেছেন উনার দেশের প্রধানমন্ত্রীকে। এটা তো তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এখানে আমার তো কিছু বলার নাই। এটা সম্পূর্ণ ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এভাবে আমার তো নাক গলানোর কোনো দরকার নাই। কিছু বলার দরকার নাই।
“আমার সঙ্গে সকলের সম্পর্ক ভালো। মমতা ব্যানার্জির সম্পর্কও খুব ভালো। আবার প্রাইম মিনিস্টার নরেন্দ্র মোদী, তাদের সঙ্গেও সম্পর্ক ভালো। উনাদের সব দলের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালো। এটুকু বলতে পারি যে ভারতের দল মত নির্বিশেষে প্রত্যেকের সাথে আমার একটা সুসম্পর্ক আছে।”
তিস্তা প্রকল্পে মোদী সরকারের আগ্রহ
গত মাসে ঢাকা সফরে এসে তিস্তা প্রকল্পে অর্থায়নে ভারতের আগ্রহের কথা জানান দেশটির পররাষ্ট্র সচিব বিনয় কোয়াত্রা।
পরে ২১ জুন শনিবার শেখ হাসিনার সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, তার সরকার ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর তিস্তা নদীর সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আলোচনার জন্য ভারতের একটি কারিগরি দল শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবে।
দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ ধরে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, “গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন ও বাংলাদেশে তিস্তা নদীর পানি ব্যবস্থাপনা ও পানি সংরক্ষণের প্রকল্পে ভারতের সহায়তার ব্যাপারে আমরা আলোচনা করেছি। তবে এর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তি না হওয়া তিস্তার পানি ভাগাভাগির কোনো সম্পর্ক নেই। আমাদের যে তিস্তা প্রজেক্ট, সেই তিস্তা প্রজেক্টটাই আমরা ভারতের সহযোগিতায় করবো, আমরা সেই আশ্বাস পেয়েছি।”
তিস্তা প্রকল্পে চীন
অপরদিকে, এমন এক সময় ভারত তিস্তা প্রকল্পের বিষয়ে আগ্রহ দেখালো, যখন তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের অর্থায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। বলা হচ্ছে, জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেইজিং সফরেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।
ভারতের সঙ্গে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি আটকে থাকার মধ্যে ‘তিস্তা রিভার কমপ্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টোরেশন প্রজেক্ট’ শীর্ষক এ প্রকল্প হাতে নেয় সরকার।
গণমাধ্যমে খবর আসে, ২০১৯ সালের জুলাইয়ে বেইজিং সফরে এটিসহ আরও কয়েকটি প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীন সরকারের সহায়তা চেয়েছিলেন।
তিস্তা প্রকল্পে নদীটির উপকূল ব্যবস্থাপনায় অবকাঠামো নির্মাণ ছাড়াও বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রীষ্মকালে পানি সঙ্কট দূর করতে বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে বলেও খবর আসে।
বেইজিং ইতিমধ্যে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের আনুষ্ঠানিক প্রকল্প প্রস্তাব জমা দিয়েছে। শেখ হাসিনার আসন্ন চীন সফরে ওই প্রস্তাব নিয়েই আলোচনা হওয়ার কথা।
ভারত সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ: প্রধানমন্ত্রী
তারাই ভারতের কাছে বিক্রি, পা ধরে বসে থাকতে দেখেছি: প্রধানমন্ত্রী
রাসেলস ভাইপার নিয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী