জাপান থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার আরও ৭ লাখ ৮১ হাজার ৩২০ ডোজ টিকা নিয়ে বাংলাদেশে রওনা হয়েছে অল নিপ্পন এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট।
শুক্রবার (৩০ জুলাই) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৪০ মিনিটে ফ্লাইটটি জাপানের নারিতা বিমানবন্দর ত্যাগ করে। জাপান থেকে উপহার হিসেবে আসা টিকার এটি দ্বিতীয় চালান।
আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাপানের টোকিওর বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হকও এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়, শনিবার (৩১ জুলাই) বিকাল ৩টা ১৫ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, হংকং এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় লটে মোট সাত লাখ ৮১ হাজার ৩২০ ডোজ ভ্যাকসিন দেশে এসে পৌঁছাবে। ভ্যাকসিনগুলো গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
গত ২৪ জুলাই জাপানের উপহারের অ্যাস্ট্রাজেনেকার ২ লাখ ৪৫ হাজার ২০০ ডোজ টিকার প্রথম চালান দেশে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন টিকাগুলো গ্রহণ করেন। এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত জাপান দূতাবাসের কর্মকর্তারা এবং স্বাস্থ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সে সময় জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, আগামী ১ মাসের মধ্যে আরও প্রায় ২৮ লাখ টিকা জাপান থেকে বাংলাদেশে আসবে।
জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি সম্প্রতি ১৫টি দেশের জন্য ১ কোটি ১০ লাখ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কোভ্যাক্সের আওতায় দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ওই তালিকার আওতায় বাংলাদেশকে কয়েক ধাপে ২৯ লাখ আ্যস্ট্রাজেনেকার টিকা দেবে জাপান।
আরও পড়ুন: জাপানের উপহারের আড়াই লাখ টিকা পৌঁছেছে
প্রসঙ্গত, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে কোভিশিল্ডের তিন কোটি ডোজ টিকা কেনার জন্য গত বছরের শেষ দিকে চুক্তি করেছিল বাংলাদেশ। সেই টিকার প্রথম চালান পাওয়ার পর ৭ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে গণ-টিকাদান শুরু হয়। কিন্তু দুই চালানে ৭০ লাখ ডোজ পাঠানোর পর ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দিলে সঙ্কটে পড়ে বাংলাদেশ। পর্যাপ্ত টিকা না থাকায় ২৫ এপ্রিল দেশে প্রথম ডোজ দেয়া বন্ধ হয়ে যায়। যারা প্রথম ডোজে কোভিশিল্ড নিয়েছেন, তাদের সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া যায়নি।
সরকার চীনসহ বিভিন্ন উৎস থেকে বিভিন্ন কোম্পানির টিকা সংগ্রহের ব্যবস্থা করলেও যারা প্রথম ডোজে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়েছেন, তাদের জন্য ওই টিকার বিকল্প নেই। এ পর্যন্ত যারা প্রথম ডোজ পেয়েছেন তাদের সবার দ্বিতীয় ডোজ পূর্ণ করতে হলে আরও কয়েক লাখ ডোজ টিকা দরকার।
একাত্তর/আরএ
