ইচ্ছে করে ঋণ খেলাপি হওয়াদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে উল্টো বছরের পর বছর তাদের নানা সুবিধা দিয়ে সহায়তা করেছে খোদ বাংলাদেশ ব্যাংক। এভাবে ফোকলা করে ফেলা হয়েছে দেশের ব্যাংকিং খাত। তাই খেলাপি ঋণ দুই লাখ কোটি টাকা বলা হলেও বাস্তবে সেটি চার লাখ কোটি টাকার কম নয় বলে জানালেন অর্থনীতিবিদরা। তাই ব্যাংকিংখাতে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে সবার আগের একটি কমিশন গঠনের দাবি জানালেন তারা।
ব্যাংকিংখাতের রক্ষক ও অভিভাবক হিসেবে সর্বময় ক্ষমতা দেওয়া আছে বাংলাদেশ ব্যাংককে। কিন্তু সেই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর একের পর এক সুবিধা দিয়ে গেছেন ঋণ খেলাপি আর অর্থপাচারকারীদের।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৯ সালে দেশে খেলাপি ঋণ ছিল ২২ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। ১৫ বছরের মাথায় সেটি বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, খেলাপি ঋণের পরিমাণ আসলে বাংলাদেশে ব্যাংকের দেওয়া এই অঙ্কের দ্বিগুণ। অর্থাৎ প্রায় চার লাখ কোটি টাকা।
তিনি বলেন, কিছু লোন ডিসট্রেসড অবস্থায় আছে। তারপর মামলার কারণে বিভিন্ন জায়গায় আটকে আছে। সেগুলো এখানে যুক্ত হয়েছে কি না তা আমরা জানিনা। কিছু দিন আগে আমরা ব্যাংকিং খাতে সংলাপ করেছিলাম। সেখানে ঋণের পরিমাণ প্রায় চার লাখ কোটি টাকার মতো। এর কত ভাগ ফেরত আসবে কেউ জানেনা। ২০০৯-১০ এবং ২০১২ তে আমরা বলেছিলাম একটা ব্যাংকিং কমিশন করেন। যেটার স্থায়ীত্ব হবে সর্বোচ্চ তিন মাস। কিন্তু এটাকে অনেকেই ভুল বুঝে মনে করলো, আরেকটা কমিশন হচ্ছে।... বাংলাদেশে আগে ব্যাংকিং খাত নিয়ে কমিশন হয়েছে। কিন্তু ওই কাঠামোর মধ্য কুরাজনীতির প্রভাবে কুঅর্থনীতি নীতিমালা হয়েছে।

সানেমের নির্বাহী পরিচাল ড. সেলিম রায়হান বলেন, ব্যাংকিং খাত একেবারে ফোকলা করে দেওয়া হয়েছে। এতে বিশাল একটা খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। খেলাপি ঋণ গৃহীতারা ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে। তারাই ঠিক করেছে ব্যাংকিং খাত কীভাবে চলবে। সবচেয়ে বড় ক্ষতি যেটা হয়েছে, সেটা হলো প্রকৃত উদ্যোক্তারা নিরুৎসাহীত হয়েছে।
ব্যাংকখাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার বদলে, ইচ্ছেকৃত খেলাপিদের একের পর এক ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এক পরিবারের হাতে ৬-৭টি ব্যাংকের মালিকানা দিতে বাড়ানো হয় পরিবারের পরিচালক সংখ্যা।
সরকার পতনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের তোপের মুখে শনিবার ই-মেইল নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। চার ডেপুটি গভর্নরসহ শীর্ষ আরও ছয় জনের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
