বেসরকারি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিচালনা পর্ষদের নতুন বোর্ড গঠন করে পাঁচ জন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক আদেশে পর্ষদ বাতিল করা হয়, একই আদেশে নতুন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে পাঠানো আদেশে বলা হয়, আমানতকারী ও ব্যাংকের স্বার্থ সংরক্ষণ ও সুশাসন নিশ্চিত করতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে নতুন পর্ষদ গঠন করা হয়েছে।
নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে রূপালী ব্যাংকের সাবেক এমডি ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদকে।
ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ ছাড়াও স্বতন্ত্র পরিচালক হয়েছেন- বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক খুরশীদ ওহাব, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের সাবেক উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল জলিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক এম মাসুদ রহমান এবং চার্টার্ড একাউন্টেন্ট আব্দুস সালাম।
গত পাঁচ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের আর্থিক খাতের অন্যতম আলোচিত বিষয় ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা।
২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংক দখলে নেয় এস আলম গ্রুপ। ব্যাংকটির মালিকানা নেওয়ার পর থেকে নামে বেনামে আলোচিত গ্রুপটি ৭৫ হাজার কোটি টাকা বের করে নিয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে।
ব্যাংকটির শেয়ারের ৮২ শতাংশের মালিকানা রয়েছে এস আলমের হাতে। এরই মধ্যে এস আলমের শেয়ার হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।
একদিন আগে বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পর্ষদ ভেঙে দিয়ে সরকারের সহযোগিতায় ছোট আকারে বোর্ড গঠন করে দেয়া হবে। সেখানে স্বতন্ত্র পরিচালক দেয়া হবে। পরবর্তীতে পুরোনো পরিচালকরা দুই শতাংশ শেয়ার নিয়ে আসতে পারলে তাদের বোর্ডে জায়গা দেয়া হবে।
মালিকানা বদলের পর বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় ব্যাংকটির আর্থিক সূচকগুলোর অবনতি হয়। একদিকে ব্যাংকটিতে আমানত আসা কমে গেছে, পাশাপাশি কমেছে আয়ও। অন্যদিকে বেড়ে গেছে ঋণ বিতরণ ও খেলাপি ঋণ।
নগদ অর্থের সঙ্কট তৈরি হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশেষ ব্যবস্থায় টাকা ছাপিয়ে তারল্য সুবিধা দিয়েছে গত দুই গভর্নরের আমলে। সেই টাকাও গিয়েছে এস আলমের হাতে।
সম্প্রতি জানা গেছে, শুধু ইসলামী ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখাতেই এস আলম গ্রুপের ১২টি কোম্পানির ফান্ডেড ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর বাইরে নন ফান্ডেড ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকের অন্যান্য শাখায় আরও কয়েক হাজার কোটি টাকার ঋণ রয়েছে এস আলম গ্রুপের।
ভেঙে দেওয়া হচ্ছে ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ 