উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতি বৃষ্টিতে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। ২০ আগস্ট থেকে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির পর এখন পর্যন্ত ২৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে উন্নতি হচ্ছে বন্যা পরিস্থিতির, নামতে শুরু করেছে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি।
সোমবার বেলা ১১টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় এই তথ্য জানা গেছে।
মন্ত্রণালয়টি জানায়, ১১টি জেলার ৭৪ উপজেলা, ৫৫০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যা প্লাবিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২৩ জন মৃতের মধ্যে কুমিল্লায় ছয়, ফেনীতে এক, চট্টগ্রামে পাঁচ, খাগড়াছড়িতে এক, নোয়াখালী পাঁচ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক, লক্ষ্মীপুরে এক এবং কক্সবাজারে তিন জন। এছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন মৌলভীবাজারের দুই জন।
পানিবন্দি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য তিন হাজার ৮৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে চার লাখ ৬৯ হাজার ৫২৩ জন এবং ২৮ হাজার ৯০৭টি গবাদি পশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়। ১১ জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য ৬৪৫টি মেডিক্যাল টিম চালু রয়েছে।
বন্যায় ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৪৮টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫৭ লাখ এক হাজার ২০৪ জন বলে জানায় দুর্যোগ মন্ত্রণালয়।
এছাড়া ১১ জেলায় নগদ তিন কোটি ৫২ লাখ টাকা, ২০ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন চাল, ১৫ হাজার প্যাকেট শুকনা ও অন্যান্য খাবার, ৩৫ লাখ টাকার শিশুখাদ্য এবং ৩৫ লাখ টাকার গো-খাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশের সব জেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
অপরদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সোমবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পূর্বাঞ্চলীয় কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনী জেলার ভারতীয় ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এবং ত্রিপুরা প্রদেশের অভ্যন্তরীণ অববাহিকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি। উজানে নদ-নদীর পানি কমার ধারা অব্যাহত আছে। ফলে বর্তমানে ফেনী ও কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলের বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে দুর্যোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যা আক্রান্ত জেলাগুলোর জেলা প্রশাসক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, মেডিক্যাল টিম ও অন্য স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে সমন্বয় করে একযোগে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুর্গতদের সহযোগিতার জন্য সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম ০২৫৫১০১১১৫ খোলা হয়েছে।
এছাড়া বন্যা দুর্গতদের সহযোগিতার জন্য আগ্রহীরা প্রধান উপদেষ্টা ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে সহযোগিতা পাঠাতে পারবেন বলেও জানানো হয়।
হিসাবের নাম: প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল, সোনালী ব্যাংক করপোরেট শাখা, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। হিসাব নম্বর : ০১০৭৩৩৩০০৪০৯৩।
