গেলো ১৫ বছরে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের সাথে জড়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে জানিয়ে শিগগিরই একটি ব্যাংকিং মিশন গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সেই সঙ্গে ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠনে ছয় মাসের মধ্যে একটি রোডম্যাপ বাস্তবায়নের ঘোষণাও দেয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলো ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থপাচার। এনিয়ে একের পর এক শিরোনাম তৈরি হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি পতিত আওয়ামী লীগ সরকার। ফলে আর্থিকখাতে নেমে এসে চরম অরাজকতা।
সম্প্রতি বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০০৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অর্থাৎ ১৫ বছরে ব্যাংকখাতে ২৪টি বড় ধরনের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে। এসব কেলেঙ্কারিতে আত্মসাৎ হয়েছে ৯২ হাজার ২৬১ কোটি টাকা।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যূত্থাণের মধ্যে দিয়ে গঠিত অন্তবর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, দুর্নীতি ও প্রতারণার মাধ্যমে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তি অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করেছে। যা টাকার অংকে লক্ষাধিক কোটি টাকার ওপরে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বুধবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক দুর্নীতি ও প্রতারণার মাধ্যমে তাদের নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণের অর্থ আত্মসাত হয়েছে এবং তা বিদেশে পাচার করেছেন, যার সঠিক পরিমাণ নির্ণয়ের কাজ চলমান রয়েছে।
ব্যাংকগুলো নতুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিএফআইইউ, সিআইডি ও দুদকের সহায়তা নিয়ে করে আত্মসাৎকারীদের স্থানীয় সম্পদ অধিগ্রহণ ও পাচার করা অর্থ প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থ পুনরুদ্ধারের শুরু হয়েছে। অর্থ ফেরাতে বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
সরকার শিগগিরই একটি ব্যাংকিং কমিশন গঠন করবে, যারা সংশ্লিষ্ট প্রতিটি ব্যাংকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করবে এবং ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠনের জন্য ছয় মাসের মধ্যে একটি বাস্তবায়নযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়ন করবে। সরকারের লক্ষ্য হলো আর্ন্তজাতিক মানের শক্তিশালী ব্যাংকিং খাত গড়ে তোলা।
তবে এই উদ্দেশ্য অর্জনের কার্যক্রমের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সময়, আন্তর্জাতিক কারিগরি সহায়তা ও অর্থের প্রয়োজন হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার অর্থ আত্মসাৎকারীদের দেশি-বিদেশি সম্পদ অধিগ্রহণ এবং বিদেশ হতে ফেরত এনে ব্যাংকগুলোকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে কার্যক্রম হাতে নিচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোর এই পুনর্গঠন এবং আর্থিক খাতের কাঠামোগত সংস্কার সময় সাপেক্ষ ব্যপার। তবে, সরকার আর্থিক খাতকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার ব্যপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
দুর্নীতি ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এরিমধ্যে ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংকের পর্ষদগুলো পুনর্গঠন করা হয়েছে।
অবশিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহেও সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা হবে। নতুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত এসব অর্থের প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং তাদের মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত অর্থের প্রকৃত পরিমাণ নির্ণয়ের লক্ষ্যে অডিট কার্যক্রম শুরু করা কথাও জানিয়েছে অন্তবর্তী সরকার।
আরও তিন ব্যাংকের পর্ষদ ভাঙলো