বাংলাদেশে রপ্তানি করা বিদ্যুৎ বিলের মোটা অংকের বকেয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে ভারতের আদানি গ্রুপ। বিদ্যুৎ বিক্রির পাওনা বেড়ে যাওয়ার পরিস্থিতিকে 'টেকসইযোগ্য নয়' বলে উল্লেখ করেছে তারা।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছে ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী এ ব্যবসায়ী গোষ্ঠী।
বিবৃতিতে আদানি পাওয়ারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আমরা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। তাদেরকে এ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেছি।
'আমরা শুধু সরবরাহের প্রতিশ্রুতিই পূরণ করছি না; উপরন্তু ঋণদাতা ও সরবরাহকারীদের প্রতিশ্রুতি পূরণেও কাজ করে যাচ্ছি,' যোগ করেছে আদানি পাওয়ার।
তারা আরও বলেছেন, বকেয়া বেড়ে চলা সত্ত্বেও, আমরা আমাদের গোড্ডা প্ল্যান্ট থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালিয়ে যাবো।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাংলাদেশে বিদ্যুতের বকেয়া দাঁড়িয়েছে তিন দশমিক সাত বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, বাংলাদেশের কাছে আদানির পাওনা রয়েছে ৮০০ মিলিয়ন ডলারের মতো।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে বিলিয়ন ডলার ঋণের জন্য বিশ্বব্যাংকসহ ঋণদাতাদের কাছে আবেদন করেছে। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এ আগুন নেভানোর চেষ্টা করছি।
নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসন প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রবর্তন, নিয়ন্ত্রক কমিশনের ক্ষমতায়ন এবং আগের সরকারের অধীনে আলোচিত জ্বালানি চুক্তিগুলি পুনরায় পরীক্ষা নীরিক্ষা করতে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন ফাওজুল কবির খান।
গত বছরের এপ্রিলে গৌতম আদানির মালিকানাধীন ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় ১৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে। এটিই ভারতের একমাত্র বিদ্যুৎকেন্দ্র; যেখানে উৎপাদিত পুরো বিদ্যুতই বাংলাদেশে রপ্তানি করা হয়।
২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে এই বিষয়ে চুক্তি হয়। যদিও তখন এ নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছিলো। উচ্চ আমদানি ব্যয়ের এই প্রকল্পটি বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর নয় বলেও সমালোচকরা মনে করেন।
আন্তঃদেশীয় গ্রিডের মাধ্যমে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে বাংলাদেশ। গত এপ্রিল পর্যন্ত আগের ৯ মাসে ভারত থেকে মোট রপ্তানির ৬৩ শতাংশই করেছিলো আদানির এই কেন্দ্রটি।
আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে গত পাঁচ আগস্ট পদত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ভারত গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।
শেখ হাসিনার সরকার পতনের এক সপ্তাহের মধ্যেই গত ১২ আগস্ট ভারতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় নীতি সংশোধন করে আদানির বিদ্যুৎ দেশটির অভ্যন্তরে বিক্রির সুযোগ সৃষ্টি করে।
আদানির বাংলাদেশে রপ্তানির বিদ্যুৎ ভারতেও বিক্রির অনুমতি