ভারী বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোণার দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী ও কংস নদীর পানি বাড়লেও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে নদী তীরবর্তী কুল্লাগড়া, গাঁওকান্দিয়া, চন্ডিগড় ও কাকৈরগড়া ইউনিয়নের প্রায় বিশ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
জেলার প্রধান নদীগুলোর পানি বৃদ্ধির ফলে পানি দ্রুত নামতে না পারায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। রাস্তা ও মাঠ-ঘাট তলিয়ে গেছে। স্কুল, মাদ্রাসা ও ঘর-বাড়ির চারপাশেই পানি। তলিয়ে গেছে ফসলি জমিও। গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে মানুষ। এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যের সংকট।
নেত্রকোণা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সারওয়ার জাহান জানান, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জেলার সোমেশ্বরী নদীর পানি দুর্গাপুর পয়েন্টে, কংস নদের পানি জারিয়া পয়েন্টে, উব্ধাখালী নদীর পানি কলমাকান্দা পয়েন্টে এবং ধনু নদের পানি খালিয়াজুরী পয়েন্টে বাড়ছিলো। তবে, পানি কিছুটা কমছিলো সোমেশ্বরীর বিজয়পুর পয়েন্টে।
এর মধ্যে সোমেশ্বরীর পানি বিজয়পুর পয়েন্টে বিপদসীমার ৩.৩৯ সেন্টিমিটার, দুর্গাপুর পয়েন্টে বিপদসীমার ০.৮০ সেন্টিমিটার, উব্ধাখালী নদীর পানি কলমাকান্দা পয়েন্টে বিপদসীমার ০.৩২ সেন্টিমিটার, কংস নদের পানি জারিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ০.৫৬ সেন্টিমিটার এবং ধনু নদের পানি বিপদসীমার ২.০২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিলো।
তবে কোনও পয়েন্টেই বিপদসীমা অতিক্রম না করলেও সোমেশ্বরীর দুর্গাপুর পয়েন্টে, কংস নদের জারিয়া পয়েন্টে এবং উব্ধাখালী নদীর কলমাকান্দা পয়েন্টে পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে।
উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নেমে আসায় কলমাকান্দা উপজেলার নয়াপাড়া, মুক্তিচর, ধান মহাল, বিশরপাশা, বাউশাম, হরিপুর চকবাজার, আনন্দপুর, বরুয়াকোনা, রংছাতি পাকা সড়কের উপর দিয়ে পানি বয়ে যাচ্ছে।
এছাড়াও কলমাকান্দা সদরসহ লেংগুরা, খারনৈ, রংছাতি নাজিরপুর, ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কের উপর দিয়ে পানি বয়ে যাচ্ছে। পানিবন্দি হয়েছে উপজেলার হাজারো মানুষ। পাশাপাশি তলিয়ে গেছে শতাধিক পুকুর, আউশ, রোপা আমনসহ বীজতলা।
অপরদিকে দুর্গাপুর উপজেলার সাত ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচ ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৩০-৪০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সোমেশ্বরী ও পার্শ্ববর্তী নেতাই নদীর পানি প্রবেশ করে উপজেলার গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়ন, কুল্লাগড়া ইউনিয়ন ও বাকলজোড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামসহ প্রায় ৪৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন গ্রামের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় জীবনযাপন করছেন।
খবর পেয়ে শনিবার বিকালে পানিবন্দি এলাকা পরিদর্শনে যান নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাস। এ সময় তিনি উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখেন এবং পচার রে রামবাড়ী গ্রামে শতাধিক মানুষের মাঝে শুকনো খাবার, চাল ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করেন।
পূর্বাঞ্চলে বন্যায় ক্ষতি ১৪ হাজার ৪২১ কোটি টাকা: সিপিডি
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রয়োজন: পরিবেশ উপদেষ্টা