গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, গত আড়াই মাসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে না পারলে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে পরামর্শ নেন। বেশি অক্ষম হলে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
শনিবার বিকেলে ঝিনাইদহ শহরের উজির আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জেলা গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা করেন।
গত আগস্টের বিপ্লবে গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও আহতদের প্রতি সমবেদনা জানাতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও গণঅধিকার পরিষদের জেলা সভাপতি প্রভাষক সাখাওয়াত হোসেন।
এসময় নুর বলেন, দেশে আর কোন ফ্যাসিবাদের উত্থান আমরা দেখতে চাই না। মানুষের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে আমরা বার বার হামলার শিকার হয়েছি। এখন মানুষ মুক্ত ও স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছে। এই পরিবর্তন ধরে রাখার দায়িত্ব আমাদের সকলের।
তিনি বলেন, যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশে রাজনীতির যে জমিদারি প্রথা চলে আসছে তা ভেঙে ফেলতে হবে। মন্ত্রীর ছেলে মন্ত্রী আর এমপির ছেলে এমপি হবে এটা চলতে দেয়া হবে না। এজন্য আমরা পরিবর্তনের রাজনীতি নিয়ে মাঠে নেমেছি। আগে আমাদের নিজেদের পরিবর্তন হতে হবে, তারপর দেশের।
তিনি আরও বলেন, আগস্ট বিপ্লবের এই নতুন স্বাধীনতা আমাদের নতুন স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছে। আমরা আর কোনো দেশের দাসত্ব করতে চাই না। বাংলাদেশ সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবো।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি বলেন, গত ৫ দশকে যারাই ক্ষমতায় গেছেন তারাই দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা আমেরিকা, লন্ডন, কানাডা, মালেশিয়া ও সিঙ্গাপুরে পাচার করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে। ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার থেকে শুরু করে প্রাইমারি স্কুলের পিয়ন, সকলেই দুর্নীতির সাথে যুক্ত ছিলেন।
গণঅধিকার পরিষদ দুর্নীতি মূল থেকে তুলে ফেলে সমৃদ্ধশীল দেশ ও জাতি গঠনে মাঠে নেমেছে।

নুরুল হক নুর বলেন, থানার ওসি, ইউএনও, এসপি, ডিসি, সকলেই সাধারণ ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর পা দিয়ে নতুন করে পদায়ন হয়েছে। কাজেই এই কথাটি খেয়াল রেখে আপনাদের কাজ করতে হবে। শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করলে কাউকে ছাড়া হবে না।
তিনি বলেন, শেষ সময়ে এসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিবাদের জননী শেখ হাসিনা মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। সে কারণেই তিনি বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুসকে জেলে পাঠাতে চাইছিলেন। ক্ষমতায় থাকতে খুনি হাসিনা বলতেন তিনি নাকি দেশের মানুষকে খাবার দিতেন, ঘরে ঘরে টেলিভিশন দিয়েছেন, হাতে হাতে মোবাইল ফোন দিয়েছেন। এসব কথা বলে তিনি মানসিক রোগীর মত কর্মকাণ্ড করেছেন। অথচ পালানোর সময় জুতা পর্যন্ত পায়ে দিতে পারেননি। ক্ষমতার লোভে তিনি মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন।
ঢাবির সাবেক এই ভিপি বলেন, নির্বাচন নিয়ে আমাদের তাড়া নাই। সরকারকে জনগণের পালস বুঝতে হবে। প্রশাসনে এখনো আওয়ামীদের প্রেতাত্মা রয়ে গেছে।
ঝিনাইদহের কৃতি সন্তান ও গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খাঁন বলেন, আগামী নির্বাচনে আমরা ক্ষমতায় গেলে জেলার চিকিৎসাখাতে উন্নয়ন এবং বেকার শিক্ষিত যুবকদের চাকরি দেয়ার ব্যবস্থা করবো। প্রতিটা বাড়ি থেকে এক জন করে চাকরি পাবে। দেশে কেউ বেকার থাকবে না।
অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহ-২ আসন থেকে আগামী সংসদ নির্বাচন করলে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খাঁনকে ভোট দেয়ার জন্য আহ্বান জানান বক্তারা।
দ্রুত সার্চ কমিটি ও ইসি সংস্কার: মাহফুজ