ভারতে উদ্ভূত কোন রাজনৈতিক কারণে আদানি গ্রুপ যদি বিদ্যুৎ দিতে না পারে, তাহলেও ক্যাপাসিটি চার্জ গুণতে হবে বাংলাদেশকে। এমন বেশ কিছু অন্যায্য শর্ত যুক্ত করে, কোনো দরপত্র ছাড়াই আদানির কাছ থেকে বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি করেছিলো ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার।
চুক্তির শর্ত ঠিক করতে নেওয়া হয়নি সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর অনুমোদন। অসময় এই চুক্তি থেকে বাংলাদেশের বের হয়ে আসার কোন সুযোগও রাখা হয়নি। ফলে চড়া মূল্যে বিদ্যুৎ কেনার খেসারত দিচ্ছে বাংলাদেশ। তবে এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সালিশ আদালতে যাবার সুযোগ আছে বাংলাদেশের।
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি করতে ভারতের ঝাড়খন্ডের গোড্ডায় এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করে ভারতের বিতর্কিত শিল্প গ্রুপ- আদানি। ২০১৭ সালের নভেম্বরে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী সেখান থেকে নিয়মিত বিদ্যুৎ আমদানি করছে বাংলাদেশ। কিন্তু কি ছিলো সেই চুক্তিতে?
রাজস্ব বোর্ড বলছে, তাদের কোন অনুমোদন ছাড়াই বিদ্যুৎ বিক্রিতে আদানিকে কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। চুক্তির পর আদানির জন্য কর ছাড়ের আবেদন করে পিডিবি। কিন্তু চুক্তির কপিটি গোপন রাখায় সেই আবেদন আমলে নেয়নি এনবিআর। বিদ্যুৎ আমদানিতে নিয়মিত এলসি করা হলেও বিল অব এন্ট্রি জমা দেয় না পিডিবি।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর মহাপরিচালক সৈয়দ মুসফিকুর রহমান জানিয়েছেন, এই বিল অব অন্ট্রি জমা না দিলে তা চোরাচালান হিসেবে গন্য হয়। তারপরও বিগত সরকার এক তরফাভাবে অন্যায় কাজটি করে গেছে।

আদানির সাথে করা চুক্তিতে বলা হয়েছে, বিনিয়োগের টাকা না ওঠা পর্যন্ত বাংলাদেশকে তার কাছ থেকে বিদ্যুৎ কিনতেই হবে। নয় তো দিতে হবে ক্যাপাসিটি চার্জ। কর্মসংস্থান, আমদানি রপ্তানি সব সুবিধাও পাবে ভারত। যদিও ভারতের অন্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে এমন শর্ত নেই।
একই ভাবে আদানির বিদ্যুতের দামও প্রায় দ্বিগুন। যা বাংলাদেশে উৎপাদিত বিদ্যুতের দামের চেয়েও বেশি। চুক্তির আরেকটি অদ্ভুত শর্ত হলো, ভারতের কোন রাজনৈতিক সমস্যার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলে বাংলাদেশকে গুণতে হবে ক্যাপাসিটি চার্জ। সেটি আবার এতোটাই বেশি যে, তা নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমেই সমালোচনা হয়।
এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্যবহৃত কয়লা আনা হয় অস্ট্রেলিয়ায় আদানির নিজস্ব উৎস থেকে। সেই কয়লার দামও ধরা হয়েছে বেশি। রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক কমিটির মাধ্যমে চুক্তিটি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। রিটকারীর আইনজীবী এম আবদুল কাইয়ুম বলছেন, দুর্নীতির প্রমাণ মিললে দেশের আদালতেই চুক্তিটি বাতিল হতে পারে। নাইকোর ঘটনাই তার উদাহরণ।
বিচারককে ডিম মারা আইনজীবীদের বার কাউন্সিল সনদ বাতিল হবে: খোকন