ইতিহাসের সবচেয়ে জটিল সময় পার করছে ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তথ্য সন্ত্রাসে নেমেছে ভারতীয় গণমাধ্যম। বিপরীতে কূটনৈতিক উপায়ে পরিস্থিতি মোকাবেলার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। ভারতের ঘৃণার রাজনীতির বলি হয়েছে আগরতলার বাংলাদেশ মিশন।
আর আন্তর্জাতিক রীতি মেনে হাইকমিশনারকে ডেকে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু ভারতের তরফ থেকে অযথা উত্তেজনা তৈরির প্রবণতা কমছে না। এই অবস্থায় কী করতে পারে বাংলাদেশ?
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাবার পর থেকেই টানাপড়েন শুরু। দেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ঘটনাকে জঙ্গি উত্থান বলে প্রচারণা শুরু করে ভারতীয় গণমাধ্যম।
এরপর গেল চারমাসে বিভিন্ন ঘটনাকে সংখ্যালঘু নির্যাতনের নামে মিথ্যা তথ্য প্রচারণায় মেতে উঠে ভারতের গণমাধ্যম ও বিজেপি সরকার। এমন কি লোকসভাতেও গলা চড়িয়েছেন দেশটির আইনপ্রণেতারা।

সবশেষ, কলকাতার পর আগরতলায় বাংলাদেশ মিশনে হামলার ঘটনায় তলানিতে ঠেকেছে দুই দেশের সম্পর্ক। নিয়ম মাফিক ভারতীয় হাইকমিশনারকে ডেকে প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলছেন, যে কোন দেশের মিশনে হামলা-ভাংচুর ভিয়েনা কনভেনশনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বাংলাদেশ চাইলে এ বিষয়ে ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ফোরামে অভিযোগ জানাতে পারে। তবে এখনও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পথেই হাঁটছে বাংলাদেশ। তাকে দূরদর্শিতা বলেই মনে করছেন এই বিশ্লেষক।
তিনি বলেন, এই অবস্থায় প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সংখ্যালঘু নির্যাতনের যে কোন অভিযোগকে গুরুত্ব দেয়া ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরতে পারে বাংলাদেশ। সেই সাথে সরকারের বাইরে আলাদা আলাদা ফোরামেও চলতে পারে সংলাপ।
অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ আরও বলেন, ভারতকে উপলব্ধি করতে হবে যে, বাংলাদেশের জনগণের পরিবর্তে এতো দিন তারা কেবল একটি দলের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখেছিলো। ভারতের সেই নীতিই মূলত বুমেরাং হয়েছে। তাই নির্দিষ্ট কোন দল নয় বরং জনগণের সাথেই ভারতকে সম্পর্ক গড়ার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে হবে। হাঁটতে হবে সৌহার্দ্য আর শান্তির পথে।
