সরকারের এক সিদ্ধান্তে স্বস্তি এসেছে প্লেনের টিকেটের দামে। কোনো কোনো রুটে ভাড়া নেমেছে অর্ধেকের নিচে। তবে এপ্রিলে আবার ভাড়া বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অভিযোগ মিলেছে, সৌদিয়াসহ কয়েকটি এয়ারলাইন্স সিন্ডিকেট সক্রিয় রাখার চেষ্টা করছে। এদিকে, টিকেট সিন্ডিকেটে জড়িত সেলস ও ট্রাভেল এজেন্টদের অবৈধ সম্পদ ও কর ফাঁকি অনুসন্ধান শুরু করেছে এনবিআর।

যেভাবে টিকেটের দাম বেড়ে যেতো
ধরা যাক সৌদি আরবের জেদ্দাগামী একটি বিমানে আসন ৩১৫। এসব টিকেট জেনারেল সেলস এজেন্ট জিএসএর মাধ্যমে যায় ট্রাভেল এজেন্টদের হাতে। এতো দিন এই তিন পক্ষ মিলেমিশে বেনামে বেশিরভাগ টিকেট বুক করে রাখতেন। এতে বেড়ে যেতো দাম।
সম্প্রতি এই বেনামি বুকিং বন্ধ করেছে সরকার। নির্দেশনা দিয়েছে, ভিসা-পাসপোর্ট নম্বর ছাড়া টিকেট বুক করা যাবে না। এতে বাজারে বেড়েছে সরবরাহ। কমেছে দাম।
সংশ্লিষ্টরা জানান, রমজানে কম চাহিদা ও ওমরা হজ বন্ধ থাকাও টিকেটের দাম কমার কারণ।
তবে এই স্বস্তি কতদিন থাকে, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এপ্রিলে চাহিদা বাড়ায় দামও বাড়তে শুরু করেছে।
কেএসবি নামের ট্রাভেল এজেন্ট কোম্পানির ম্যানেজার জানান, এপ্রিলে সিঙ্গাপুরের বাজার অস্থির হয়েছে। মঙ্গলবার এক এপ্রিলের টিকেটের দাম দেখায় বিমান বাংলাদেশে ৩৬ হাজার, ইউএস বাংলায় ৫৫ হাজার আর সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসে ৭৬ হাজার টাকা। ট্রানজিট এয়ারলাইনসগুলোর ভাড়াও ৪০ হাজারের কিছু বেশি। মধ্যপ্রাচ্যের টিকেটের দামও বাড়তি।
এদিকে টিকেটের দাম বাড়লে অতিরিক্ত অর্থের বেশিরভাগ যায় এয়ারলাইনস কোম্পানির পকেটে। দামের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে এজেন্টদের কমিশনও। সরকারের সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছে সিন্ডিকেট চক্র। ফলে তারা এখন ভিন্ন চিন্তা করছে।
অভিযোগ মিলেছে, সৌদিয়া এয়ারলাইনস, এয়ার ইন্ডিয়াসহ কয়েকটি কোম্পানি এখনো গ্রুপ টিকেট বিক্রি করছে।

সাবেক আয়কর কমিশনার সাজ্জাদ হোসেন জানান, সিন্ডিকেটে জড়িত সেলস এজেন্ট ও বড় ট্রাভেল এজেন্টদের অবৈধ সম্পদ খতিয়ে দেখছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআরের কর গোয়েন্দা ইউনিট। তালিকায় আছেন মধ্যপ্রাচ্যসহ এশিয়ার দেশগুলোর এজেন্ট। গোয়েন্দা নজদারিতে আছে ৫০টির মতো কোম্পানি। এরই মধ্যে অনেকের বিপুল অবৈধ সম্পদের খোঁজও মিলেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেলস ও ট্রাভেল এজেন্টদের পাশাপাশি এয়ারলাইনস কর্মকর্তাদেরও তদন্তের আওতায় আনতে হবে। অর্থসহ নানা প্রলোভনে তারা সিন্ডিকেটে যুক্ত হন বলে অভিযোগ তাদের।
