আয়নাঘরে ছিলো শত শত গোপন বন্দিশালা: বিবিসি

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:০২ পিএম

পতিত হাসিনা সরকারের আমলের বহুল আলোচিত আয়নাঘর নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন তৈরি করেছে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি। আয়নাঘরে বন্দি থাকা ছয় জনের সাক্ষাৎকারের উঠে এসেছে, ওইসব কক্ষগুলো ছিলো মূলত শত শত গোপন বন্দিশালা।

এসব বন্দিশালায় বৈদ্যুতিক শক, নির্যাতন, রাতভর জেরা চালানো হতো। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময় এই গোপন বন্দীশালাগুলোর মাধ্যমে রাজনীতি, মতাদর্শ ও স্বাধীন মত প্রকাশের বিরুদ্ধে নিপীড়ন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আট বছর ধরে নিখোঁজ থাকা আইনজীবী মীর আহমাদ বিন কাসেম যখন স্মৃতি আঁকড়ে ধরে একটি রহস্যময় জায়গার সন্ধান দেন, তখন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একদম কাছেই মিলল একটি গোপন কারাগার। দেয়াল ভেঙে সামনে আসে ইট ও কংক্রিটে তৈরি একটি জানালাবিহীন ভবন। সেখানেই ছোট ছোট অন্ধকার কক্ষ, যেগুলো ছিল নির্যাতন ও নিঃসঙ্গ কারাবাসের ঘর।

বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিবিসি বলেছে, এই কারাগারের অবস্থান ছিলো এমন জায়গায় যেটি রাজধানীর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মাত্র কিছু দূরে। যেখানে প্লেনের অবতরণের শব্দ কাসেমের স্মৃতিতে গেঁথে ছিল। সেই শব্দই ছিল তার পথনির্দেশক। সেই ভবন এখনও আছে, তবে অনেক প্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছে।

মীর কাসেমের ভাষ্যমতে, এটা যেন জীবন্ত কবর। বাইরের দুনিয়ার সাথে কোনো সংযোগই ছিল না। তিনি গোটা সময়টা ছিলেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব পরিচালিত এই গোপন কারাগারে। আগে ধারণা করা হতো তিনি ঢাকার গোয়েন্দা সংস্থার ‘আয়নাঘর’ নামক কোন স্থানে ছিলেন।

তদন্তকারীরা বলছেন, দেশে এমন গোপন কারাগারের সংখ্যা ৫০০ থেকে ৭০০-এরও বেশি হতে পারে, যা ছিল একটি পরিকল্পিত ও কাঠামোগত নিপীড়ন ব্যবস্থা।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বিবিসিকে বলেন, এই সব গুমের ঘটনাগুলো সরাসরি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনে হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময় এই গোপন বন্দিশালাগুলোর মাধ্যমে রাজনীতি, মতাদর্শ ও স্বাধীন মত প্রকাশের বিরুদ্ধে নিপীড়ন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিএনপি ঘনিষ্ঠ ছাত্রনেতা আতিকুর রহমান রাসেলও বন্দি ছিলেন এখানেই। বলেন, গাড়িতে উঠেই চোখ বেঁধে ফেলল, হাতকড়া পরিয়ে এক জায়গায় নিয়ে গেল। তারপর শুরু হলো প্রশ্ন আর মারধর।

২৩ বছর বয়সী আরেকজন ভুক্তভোগী রহমাতুল্লাহ জানান, ওই জায়গায় শোবার মতো জায়গাও ছিলো না। ড্রেনের ওপর ঘুমাতাম, পা ছড়িয়ে শোয়া যেতো না। ওটা কোনো মানুষের থাকার জায়গা না। অনেকে বলছেন, তাদের ওপর বৈদ্যুতিক শক, নির্যাতন, রাতভর জেরা চালানো হতো।

এসব গোপন কক্ষে নির্যাতন করার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ১২২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। তবে কাউকে এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি। আইনজীবী কাসেম বলেন, যারা ফ্যাসিবাদী সরকারের সহায়তা করেছে, তারা আজও দায়িত্বে আছে। বিচার না হলে এই অত্যাচার থামবে না।

বাংলাদেশে এখন গণতন্ত্রের পথে এগোনোর এই সুযোগে অতীতের নির্যাতনের বিচার করাই ভবিষ্যতের নিরাপত্তার চাবিকাঠি হতে পারে। আর তাই ভুক্তভোগীরা চান সঠিক বিচার।

এআরএস
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, তিনি বাংলাদেশে ফিরলে আইন অনুযায়ী তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হবে। তবে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আত্মসমর্পণ করে তাকে জেলে যেতে হবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার...
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। আসামি হিসেবে হাসিনার দেয়া বক্তব্য বিবেচ্য...
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক ছয় মন্ত্রী ও সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছে ঢাকার একটি আদালত।
২০২৭ সালের জন্য নতুন তিনটি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় একটি সাধারণ হজ প্যাকেজ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘোষণা করা হয়েছে হজের চূড়ান্ত...
ভারতের জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংসদ অভিমুখে অগ্রসর হওয়া তেলাপোকা জনতা পার্টি (সিজেপি)-র নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভকারীদের ওপর দিনভর ব্যাপক...
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভিন্ন হত্যাসহ হয়রানিমূলক মামলাগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদীয়...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো।
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর