রাজস্ব খাত সংস্কার নিয়ে উদ্ভূত সঙ্কটের প্রেক্ষাপটে সরকারের আশ্বাসে কর্মবিরতি স্থগিত করেছে রাজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্ল্যাটফর্ম ‘জাতীয় রাজস্ব ঐক্য পরিষদ’।
রোববার (২৫ মে) রাত আটটার দিকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর চেয়ারম্যানকে অপসারনের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহবান জানানো হয়।
এদিকে সন্ধ্যায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে অধ্যাদেশটি সংশোধন করে এনবিআরকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি স্বতন্ত্র ও বিশেষায়িত বিভাগে রূপান্তর করা হবে।
এছাড়া রাজস্ব নীতি পৃথকীকরণের কাঠামো কীভাবে প্রণীত হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, প্রয়োজনীয় সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ-২০২৫’ কার্যকর করা হবে না।
জাতীয় রাজস্ব ঐক্য পরিষদের নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের লিখিত আশ্বাস ও আলোচনার অগ্রগতির ভিত্তিতে কর্মবিরতি কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অংশীজনদের সম্মতিতে একটি টেকসই কাঠামো গঠনের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন তারা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ নামে দুটি বিভাগ করে ১২ মে অধ্যাদেশ জারি করে সরকার। এর পর থেকে এর প্রতিবাদে নানা ধরনের কর্মসূচি পালন করে আসছেন রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এনবিআর বিলুপ্তির অধ্যাদেশ জারির প্রতিবাদে আজ সারা দিন আগারগাঁওয়ের এনবিআর ভবনে কর্মবিরতি চলেছে। বেশির ভাগ শুল্ক-কর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এনবিআরের নিচতলায় প্রধান ফটকের পাশেই সারা দিন অবস্থান করেন। ফলে এনবিআরের কার্যক্রম কার্যত বন্ধ আছে। আজ সকাল থেকে সরেজমিনে গিয়ে এই চিত্র পাওয়া গেছে। গত দুই দিন ধরে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান নিজের কার্যালয়ে আসেননি।
শুধু এনবিআর নয়; ঢাকা কাস্টমস হাউস, চট্টগ্রাম বন্দর, বেনাপোল, ভোমরা স্থলবন্দরসহ দেশের অন্যান্য শুল্ক স্টেশনেও গতকাল সারা দিন কর্মবিরতি চলে। গত কয়েক দিন ধরে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এই আন্দোলন চলছে।
এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের দাবি মূলত চারটি। প্রথমত, জারিকৃত অধ্যাদেশ অবিলম্বে বাতিল করা; দ্বিতীয়ত, অবিলম্বে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে অপসারণ করা; তিন, রাজস্ব সংস্কার বিষয়ক পরামর্শক কমিটির সুপারিশ জনসাধারণের জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা; চার, এনবিআরে প্রস্তাবিত খসড়া ও পরামর্শক কমিটির সুপারিশ ব্যবসায়ী সংগঠন, সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক নেতৃত্বসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামত নিয়ে রাজস্ব ব্যবস্থা সংস্কার নিশ্চিত করা।
