বিক্ষোভ দমনে নির্বিচারে গুলি চালানোর নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা, বিবিসির অনুসন্ধান

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৫, ০২:৩৮ পিএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিক্ষোভ দমন করতে নির্বিচারে গুলির নির্দেশ দিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই তথ্য উঠে এসেছে বিবিসির অনুসন্ধানী ইউনিট বিবিসি আই ইনভেস্টিগেশনে। ওই সময়ের ফোনালাপ বিশ্লেষণ করে সেই নৃশংসতার ঘটনায় তার সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে।

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় বিক্ষোভ দমন অভিযানে প্রাণঘাতী সহিংসতার সরাসরি অনুমোদন দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা- এমন একটি ফোন কলের অডিওর সত্যতা যাচাই করেছে বিবিসি আই। বুধবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বিবিসি। অডিওটির মেটাডাটাসহ যাবতীয় খুঁটিনাটি বিষয় খতিয়ে দেখেছে বিবিসি আই।

এ বছর মার্চ মাসে অনলাইনে ফাঁস হওয়া ওই অডিওতে শেখ হাসিনাকে একজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে বলতে শোনা যায়, তিনি তার নিরাপত্তা বাহিনীকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘মারণাস্ত্র ব্যবহারের’ অনুমতি দিয়েছেন এবং নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তাদের যেখানেই পাওয়া যাবে, গুলি করা হবে’।

৩৬ দিনের আন্দোলনের সময়কার শত শত ভিডিও, ছবি, ডকুমেন্ট বিশ্লেষণ করেছে বিবিসি। সিসিটিভি ফুটেজ, ড্রোন ভিডিও এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সহায়তায় তারা দেখিয়েছে, পুলিশ বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালায়। ফাঁস হওয়া অডিওটি সম্পর্কে জানেন এমন একটি সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, গত ১৮ জুলাই নিজের সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে শেখ হাসিনা ওই ফোনালাপটি করেন।

মূলত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথোপকথনের এই ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডিং থেকে জানা যায়, গত গ্রীষ্মে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের অনুমতি তিনি নিজেই দিয়েছিলেন।

অজ্ঞাত একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথনের ফাঁস হওয়া এই অডিওটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ যে, তিনি সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের গুলি করার জন্য সরাসরি অনুমতি দিয়েছিলেন।

ব্রিটিশ ফরেনসিক অডিও বিশেষজ্ঞ দল ইয়ারশট এবং বাংলাদেশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট সিআইডি অডিওটি মেটা ডাটা পরীক্ষা করে অবিকৃত এবং বিশ্বাসযোগ্য বলে নিশ্চিত করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, অডিওটি বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এনটিএমস রেকর্ড করেছিল। তবে অডিওটি কে ফাঁস করেছে, তা নিশ্চিত নয়।

বিবিসির দেখা পুলিশের নথিপত্র অনুযায়ী, শেখ হাসিনার ওই ফোন কলের পরবর্তী দিনগুলোতে সামরিক মানের রাইফেল ঢাকা শহরজুড়ে ব্যবহৃত হয়েছিল। আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচার গুলি ও হত্যার বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বাহিনীর একজন মুখপাত্র ঘটনা স্বীকার করে বিবিসিকে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে তৎকালীন পুলিশ বাহিনীর কিছু সদস্য অতিরিক্ত বলপ্রয়োগে লিপ্ত হয়েছিলেন এবং আন্দোলনকারীদের নিয়ন্ত্রণে অপেশাদার আচরণ করেছিলেন।

ওই অডিও রেকর্ডটিকে হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংক্রান্ত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছেন প্রসিকিউটররা।

হাসিনার অনুপস্থিতিতেই এই বিচার চলছে। জাতিসংঘের তদন্তকারীদের মতে, জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের সময় প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়। শেখ হাসিনার পাশাপাশি, বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ডে সাবেক সরকার ও পুলিশের কর্মকর্তাদেরও অভিযুক্ত করা হয়েছে। আইসিটি মোট ২০৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে, যাদের মধ্যে ৭৩ জন বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন।

এআরএস
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া পলাতক আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে সরকার। তাকে দেশে ফেরানো বা পাওয়া মাত্রই গ্রেপ্তার করে কারাগারে...
দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট ঘোষণা করা হলেও এতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
পল্লবীতে শিশু রামিশা হত্যার ঘটনা ‘আইয়ামে জাহেলিয়াতকে’ও হার মানিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
শেখ হাসিনার পতনের মধ্য দিয়ে যে ফ্যাসিস্ট শাসনের অবসান ঘটেছে, সেই গণতান্ত্রিক ধারাকে যেকোনো মূল্যে অব্যাহত রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো।
স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের এমনটিই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্পেনের মহাকাব্যিক জয় শুধু একটি ঐতিহাসিক ট্রফি অর্জন আর রূপকথার গল্প নয়, এটি ছিল ফুটবলের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজংশে ব্যাটন হস্তান্তরের স্মারক। ফুটবল...
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ইনজুরি টাইমে ফেরান তোরেসের অবিশ্বাস্য গোল স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন ইতিহাস লিখেছে। ২০১০ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশকে...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর