জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনের প্রেক্ষাপটে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের কার্যক্রম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ডেপুটি অ্যাম্বাসেডর জন এফ. ড্যানিলয়েচ। তিনি সম্প্রতি নিউইয়র্কে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং এ নিয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেন।
ড্যানিলয়েচ বলেন, ড. ইউনূস এখনো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অসম্ভব সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতা উপভোগ করছেন। তার বৈঠকগুলো ছিলো বৈচিত্র্যময়, পূর্ণ এবং গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক। তার কর্মশক্তি এখনও বিস্ময়কর।
তিনি আরো বলেন, এই সফর নিছক আনুষ্ঠানিকতা বা সৌজন্য সফর ছিলো না, বরং ‘গভীর ও কৌশলগত আলোচনায় ভরপুর একটি বাস্তবমুখী মিশন’ ছিলো।
প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যরাও সক্রিয়ভাবে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড্যানিলয়েচ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের এই সফরে অন্তর্ভুক্তি ছিলো এক ‘চালাকির মোক্ষম উদাহরণ’।
তিনি বলেন, এতে কেবল জাতীয় ঐক্যের বার্তাই যায়নি, বরং তারা নিজ নিজ দলের কার্যক্রমও সুচারুভাবে পরিচালনা করতে পেরেছেন।
সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জোর দিয়ে বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক উত্তরণ সম্ভব হবে বলে তার বিশ্বাস।
তিনি বলেন, সংস্কারের পথ এখনও শেষ হয়নি, কিন্তু ইতিমধ্যেই অনেক কিছু অর্জিত হয়েছে।
নতুন নির্বাচিত সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অর্জনগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে ভবিষ্যতের সরকারের প্রধান দায়িত্ব।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে ড. ইউনূসের বেসরকারি ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
সবশেষে ড্যানিলয়েচ বলেন, যারা অন্তর্বর্তী সরকারে দায়িত্ব নিয়েছেন, তারা অনেক ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত ত্যাগ স্বীকার করেছেন। ভুল-ভ্রান্তি থাকলেও তাদের প্রতিশ্রুতি ও নিষ্ঠা প্রশংসার যোগ্য। বাংলাদেশ তাদের কাছে ঋণী।
ড্যানিলয়েচের এই মন্তব্য বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক উত্তরণ প্রক্রিয়ার প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রেখেছে: প্রধান উপদেষ্টা