ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের মাধ্যমে বিচার ও জনগণের ক্ষমতায়নের প্রতিশ্রুতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রোমে বিশ্ব খাদ্য ফোরামে দেওয়া ভাষণে তিনি এই কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাইয়ে তরুণদের আন্দোলনের দাবি ছিল জনগণের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া। এসময় বিশ্বব্যাপী চলমান যুদ্ধ বন্ধ করে সংলাপ চালুর মাধ্যমে খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিতের প্রস্তাবও করেন অধ্যাপক ইউনূস।
ইতালীর রোমে এফএও’র সদর দপ্তরে বিশ্ব খাদ্য ফোরামে যোগ দেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এসময় সংস্থাটির মহাপরিচালক উষ্ণ অভ্যর্থনায় বরণ করে নেন তাকে।
পরে মূল বক্তা হিসেবে ভাষণ দেন তিনি। শুরুতে তিনি তুলে ধরেন বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নানা দিক। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণকে ক্ষমতায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আজ সেই তরুণরাই আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনে অংশ নিচ্ছে। তারা নতুন এক বাংলাদেশ গড়ছে, যেখানে জনগণই শাসনের কেন্দ্রে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে আমরা জাতীয় নির্বাচন করবো এবং এর মাধ্যমে আমরা ন্যায় বিচার এবং জনগণের ক্ষমতায়নের প্রতিশ্রুতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছি।

প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে উঠে আসে রোহিঙ্গা সঙ্কটের কথাও। তিনি বলেন, বাংলাদেশ, যার ভৌগোলিক আয়তন ইতালির অর্ধেক, সেখানে আমরা ১৭ কোটিরও বেশি মানুষকে খাদ্য দিচ্ছি। পাশাপাশি মিয়ানমারের সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকেও সহায়তা করছি।
পরে বৈশ্বিক অনাহারের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ বন্ধসহ খাদ্য নিরাপত্তায় ছয়টি প্রস্তাব দেন প্রফেসর ইউনূস।
তিনি বলেন, আমাদের অবশ্যই সিস্টেম পরিবর্তন করতে হবে। আমি কয়েকটি পদক্ষেপ প্রস্তাব করি। এর মধ্যে আছে ক্ষুধা-সংঘাতের চক্র ভেঙে ফেলুন, যুদ্ধ বন্ধ করুন, সংলাপ শুরু করুন, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে খাদ্য প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করুন। এসডিজি অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ করা, জলবায়ু কর্মকাণ্ড গুরুত্ব সহকারে নেওয়া এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণদের স্থিতিস্থাপকতা তৈরিতে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে। আঞ্চলিক খাদ্য ব্যাংক তৈরি করুন। অর্থ, অবকাঠামো এবং বৈশ্বিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের, বিশেষত তরুণ উদ্যোক্তাদের তৈরি এবং সমর্থন করুন। রফতানি নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটান, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের অ্যাক্সেস এবং বিকাশ নিশ্চিত করুন।
বলেন, ২০২৪ সালে ৬৭৩ মিলিয়ন মানুষ অনাহারে ছিলো। অথচ আমরা পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদন করি। এটি উৎপাদনের ব্যর্থতা নয়, এটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ব্যর্থতা। এটি নৈতিক ব্যর্থতা। যেখানে অনাহার দূর করতে কয়েক বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা যায় না, সেখানে বিশ্ব ২.৭ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে অস্ত্রের পেছনে। এটাই কী উন্নয়নের সংজ্ঞা?
শেষে সামাজিক ব্যবসা ও বিশ্ব পরিবর্তনের তিন শূন্য তত্ত্বের গুরুত্বও তুলে ধরেন প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
