প্লাস্টিকের দূষণ মোকাবেলায় পতেঙ্গা সৈকতে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। নাগরিকদের অংশগ্রহণের আহবান জানিয়ে কর্মসূচি যৌথভাবে আয়োজন করে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সিসিসি)।
অনুষ্ঠানে শহরের নেতৃত্ব, উন্নয়ন সহযোগী ও স্থানীয় জনগণ একত্রিত হয়ে পতেঙ্গাকে রক্ষা এবং পরিচ্ছন্ন ভবিষ্যতের জন্য টেকসই অভ্যাস গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত চট্টগ্রামের অমূল্য সম্পদ। বারবার সতর্ক করার পরও যারা সৈকত দখল করে অবৈধভাবে ব্যবসা চালাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সৈকত এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানের পর মেয়র জানান, পতেঙ্গা দেশের ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য প্রধান আকর্ষণ। তাই সৈকতকে সুশৃঙ্খল ও সুন্দর রাখা দায়িত্ব সবার।
এসময় সৈকত এলাকার নানা অসুবিধার কথাও তুলে ধরেন মেয়র। বলেন, বিচের ওয়াকওয়ে বা জনসাধারণের পথ দখল করে টেবিল-ছাতা রেখে ব্যবসা বসাতে পারবে না।পর্যটকদের জোর করে খাবার খাওয়ানো বা বিল চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগও আমরা পেয়েছি, অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো।
সৈকতের পেছনের অংশে দোকান-পাট আছে এবং সেখানে পর্যাপ্ত খাবারের সুযোগ থাকার পরও সৈকত অঞ্চলে হোটেল বা স্থায়ী বসতি গড়ে তুলে জনস্বার্থ বিপন্ন করা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন মেয়র।
বলেন, আমি বারবার দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা সম্মতিও জানিয়েছেন যে, বিচ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এরপর আমরা সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং পরবর্তীতে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করেছি। কিন্তু এরপরও যারা সি-বিচ দখল করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। জেলা প্রশাসন, সিডিএ, টুরিস্ট পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহকারী রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সরদার এম. আসাদুজ্জামান পতেঙ্গার পরিবেশগত গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, পতেঙ্গা শুধু একটি সৈকত নয়, এটি চট্টগ্রামের গর্বের প্রতীক। কিন্তু প্রতিদিন এখানে জমা হওয়া প্লাস্টিক বর্জ্য সামুদ্রিক প্রাণী, জনস্বাস্থ্য ও জীবিকার জন্য হুমকি তৈরি করছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এভারেস্টজয়ী ইকরামুল শাকিল।
দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরা সৈকত পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করে, পরিবেশবান্ধব ডাস্টবিন ও সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করে এবং আগত দর্শনার্থীদের প্লাস্টিক ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি দিতে উদ্বুদ্ধ করে।
এই কর্মসূচি ইউএনডিপি বাংলাদেশের ‘প্লাস্টিক সার্কুলারিটি প্রজেক্টের’ অংশ, যা কোকা-কোলা ফাউন্ডেশনের সহায়তায় বাস্তবায়ন হচ্ছে।
প্রকল্পটির লক্ষ্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও টাঙ্গাইল জেলায় ১৫ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য পুনরুদ্ধার ও দায়িত্বশীলভাবে ব্যবস্থাপনা করা, যেন যাতে প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারযোগ্য সম্পদে রূপান্তরিত হয়।
