দেশের ২৪টি ব্যাংকের নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে সাড়ে তিন লাখ কোটি। যা এক বছরেই বেড়েছে দুই লাখ ৯৩ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
ভালো ও মন্দ ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত পরিমাণ নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) রাখতে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষে বেসরকারি খাতের শরীয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতি ৮২ হাজার ৯৪ কোটি টাকা।
ব্যাংকাররা বলছেন, বিগত বছরগুলোতে ব্যাংকগুলো যেসব ঋণ বিতরণ করেছে তার বিপরীতে তারা নিরাপত্তা জামানতও ঠিকভাবে নেয়নি। অনেক ক্ষেত্রে যেসব জামানত রেখেছে সেসব জামানতে অতি মূল্যায়ন দেখানো হয়েছে। এজন্য ঋণগুলো খেলাপি হওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শর্ত অনুযায়ী নিরাপত্তা সঞ্চিতিও রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত সেপ্টেম্বর শেষে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মোট ২৪টি ব্যাংকের সম্মিলিত সঞ্চিতি ঘাটতির পরিমাণ দাড়িয়েছে তিন লাখ ৪৯ হাজার ৮৫৯ কোটি টাকা। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ছিলো ১০ ব্যাংকের ৫৬ হাজার ৩৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ, বছরের ব্যবধানে এই তালিকায় ১৪টি ব্যাংক যুক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রভিশন ঘাটতি বেড়েছে দুই লাখ ৯৩ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা।
তবে কিছু ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত প্রভিশনের বেশি সংরক্ষণ করায় দেশের ব্যাংক খাতের সার্বিক প্রভিশন ঘাটতি দাড়িয়েছে তিন লাখ ৪৪ হাজার ২৩১ কোটি টাকা।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, খেলাপি ঋণ বাড়ার কারণেই এমন দুরবস্থা।
নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে পরিচালন মুনাফার শূন্য দশমিক পাঁচ থেকে পাঁচ শতাংশ সাধারণ ক্যাটাগরির ঋণের বিপরীতে প্রভিশন হিসেবে রাখতে হয়। নিম্নমানের খেলাপি ঋণের বিপরীতে ২০ শতাংশ এবং ৫০ শতাংশ সন্দেহজনক খেলাপি ঋণের বিপরীতে রাখতে হয়। এ ছাড়া প্রতিটি ব্যাংকের জন্য মন্দ বা লোকসান ক্যাটাগরির খেলাপি ঋণের বিপরীতে ১০০ শতাংশ প্রভিশনিং আলাদা করে রাখার বিধান রয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) কামাল উদ্দিন জসিম একাত্তরকে বলেন, ব্যাংকের বিভিন্ন ঋণে অনিয়মের কারণে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। এতে প্রভিশনেও ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি ঋণগুলো উত্তোলন করার জন্য।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর শেষে প্রভিশন ঘাটতিতে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে- ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক; ৫২ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা।
প্রভিশন ঘাটতির তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক। আর চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংক।
