মেক্সিকোর ফুটবল আর গুইলারমো ওচোয়া এখন সমার্থক শব্দ। দেশটির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেই আইকনিক মুখ গুইলারমো ওচোয়া ঘোষণা করেছেন, জাতীয় দলের হয়ে তিনি তাঁর শেষ প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন। ৪০ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে নিজের ষষ্ঠ আসরে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে এক অনন্য রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্টে ওচোয়া লিখেছেন, এই জার্সিটি গায়ে জড়ানো আমার কাছে কখনোই রুটিন ছিল না... এটি ছিল একটি বিশাল সম্মান। আজ আমার শেষ প্রশিক্ষণ ক্যাম্প শুরু হচ্ছে। তবে, এবার আমি একে ভিন্নভাবে দেখছি, হৃদয়ভর্তি স্মৃতি আর সেই শিশুর মতো একই উত্তেজনা নিয়ে, যে একদিন এই ব্যাজটি রক্ষার স্বপ্ন দেখেছিল।

আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে এই বিশ্বকাপ। কোচ জাভিয়ের আগুইরোর স্কোয়াডে ওচোয়ার অন্তর্ভুক্তি এখন শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র।
২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপ দিয়ে যাত্রা শুরু করা ওচোয়া একে একে ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপে মেক্সিকোর জাল সামলেছেন। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠে নামলে তিনি লিওনেল মেসি এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো কিংবদন্তিদের তালিকায় নাম লেখাবেন, যারা ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার বিরল কৃতিত্বের অধিকারী।
মেক্সিকান সংবাদমাধ্যম টিইউডিএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওচোয়া ইঙ্গিত দিয়েছেন, বিশ্বকাপের পর তিনি পেশাদার ফুটবল থেকেও অবসর নিতে পারেন। বর্তমানে সাইপ্রাসের ক্লাব এএল লিমাসোলের হয়ে খেলা এই গোলরক্ষক মেক্সিকোর হয়ে ১৫০-এরও বেশি ম্যাচ খেলেছেন।
২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য সব সেভ এবং ২০২২ বিশ্বকাপে পোল্যান্ডের লেভানদোভস্কির পেনাল্টি রুখে দিয়ে ওচোয়া বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান। নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে তিনি লিখেছেন, আমি অবিস্মরণীয় কিছু রাত কাটিয়েছি, অগণিত ম্যাচ খেলেছি এবং জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় এখনো আমার গায়ে কাঁটা দেয়। প্রতিবার যখন মেক্সিকো আমাকে ডাকে, আমার ভেতরে নতুন কিছু শুরু হয়।

বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ে নামার আগে মেক্সিকো আগামী ২২ মে ঘানা, ৩০ মে অস্ট্রেলিয়া এবং ৪ জুন সার্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে। এরপর ১১ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে স্বাগতিক মেক্সিকো।
গুইলারমো ওচোয়া শুধু একজন গোলরক্ষক নন, মেক্সিকান ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। ষষ্ঠ বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর শেষবারের মতো মাঠে নামাটা ফুটবল ভক্তদের কাছে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে থাকবে। তাঁর গ্লাভস জোড়া যখন তুলে রাখবেন, তখন ফুটবল বিশ্ব হারাবে এমন এক অতন্দ্র প্রহরীকে, যিনি বছরের পর বছর মেক্সিকোর গোলপোস্টকে আগলে রেখেছেন অদম্য সাহসে।
