সম্প্রতি দেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে হাম এবং হাম সন্দেহজনক রোগী ভর্তি না করার অভিযোগ উঠেছে। এই প্রেক্ষিতে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এসব রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আইনি বাধ্যবাধকতাসহ ছয় দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সঙ্গে আলাদা বার্তায় সরকারি হাসপাতালগুলোর জন্য পাঁচ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসানের সই করা এক পত্রে এই তথ্য জানানো হয়।
সরকারি পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি বেসরকারি হাসপাতালে হাম ও হাম সন্দেহজনক রোগী ভর্তি না করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবিলম্বে ছয় নির্দেশনা প্রতিপালনের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।
নির্দেশনায় ‘বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন-২০২২’ এর ৬ এর (ট) ধারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী—সব বেসরকারি মেডিক্যার কলেজ হাসপাতালে ন্যূনতম ১০ শতাংশ শয্যা দরিদ্র জনগণের জন্য সম্পূর্ণ বিনা ভাড়ায় সংরক্ষণের বিধান রয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এই সংরক্ষিত ১০ শতাংশ শয্যার অর্ধেক শয্যা কেবল হাম এবং সন্দেহজনক হাম রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট রাখতে হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, কোনো ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১০ শতাংশের অর্ধেক (৫ শতাংশ) হিসেবে ১২টি শয্যা হাম রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট রাখতে হবে। এই বিষয়টি হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও অনুসন্ধান ডেস্কেও অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অধিদপ্তরের ছয় দফা নির্দেশনা
১. সব বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে আবশ্যিকভাবে হাম ও সন্দেহজনক হাম রোগীদের চিকিৎসার জন্য আলাদা ওয়ার্ড বা কেবিন নির্ধারণ করতে হবে।
২. কোনো রোগীকে ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না; হাম ও সন্দেহজনক হাম রোগীদের চিকিৎসার্থে ভর্তি পূর্বক প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করতে হবে।
৩. বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন অনুযায়ী দরিদ্রদের জন্য সংরক্ষিত শয্যার অর্ধেক হাম রোগীদের জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে।
৪. হাসপাতালে সংক্রমণ ছড়ানো রোধে প্রত্যেক ভর্তি রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ একজন অভিভাবক বা দর্শনার্থী অবস্থান বা প্রবেশ করতে পারবেন।
৫. ভর্তি রোগী সম্পর্কিত তথ্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট এমআইএস সার্ভারে http://surveillance.dghs.gov.bd আপলোড করতে হবে। প্রয়োজনে হটলাইন নাম্বারে (01759114488) যোগাযোগ করা যাবে।
৬. হাম ও হাম সন্দেহজনক রোগীদের চিকিৎসায় স্থানীয় সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সাথে সার্বিক সমন্বয় সাধন করতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে।
সরকারি হাসপাতালের জন্য নির্দেশনা
দেশের সব সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হাম এবং সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পাঁচ দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নির্দেশনায় প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে আবশ্যিকভাবে আলাদা ওয়ার্ড বা কেবিন চালু করাসহ প্রতিদিন দুইবেলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের রাউন্ড দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সরকারি হাসপাতালগুলোর জন্য এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
সরকারি আদেশে জানানো হয়েছে, দেশের সব সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে হাম ও সন্দেহজনক হাম রোগীদের চিকিৎসাসংক্রান্ত নিম্নলিখিত পাঁচটি নির্দেশনা বাধ্যতামূলকভাবে প্রতিপালন করতে হবে। সেগুলো হলো-
১. সব সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান আবশ্যিকভাবে হাম ও সন্দেহজনক হাম রোগীদের চিকিৎসার জন্য পৃথক ওয়ার্ড অথবা কেবিন নির্ধারণ করবে।
২. হাসপাতালে আসা কোনো হাম রোগীকে ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না। প্রতিটি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এ ধরনের রোগীদের চিকিৎসার্থে ভর্তি পূর্বক প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করবে।
৩. হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি ছুটির দিনসহ প্রতিদিন সকাল ও বিকাল—দুইবেলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের আবশ্যিকভাবে রাউন্ড দিতে হবে।
৪. হাসপাতালে সংক্রমণ ছড়ানো রোধে প্রত্যেক ভর্তিকৃত রোগীর সাথে সর্বোচ্চ একজন অভিভাবক বা দর্শনার্থী অবস্থান অথবা প্রবেশ করতে পারবেন।
৫. সার্ভারে তথ্য আপলোড: হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের সমস্ত তথ্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট এমআইএস সার্ভারে http://surveillance.dghs.gov.bd আপলোড করতে হবে। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে বা তথ্য সহায়তায় হটলাইন নাম্বারে (01759114488) যোগাযোগ করা যাবে।
