বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ মাঠে গড়াচ্ছে আজ মধ্যরাতে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগ মূহুর্তে ফেভারিট দলগুলোর পারফরম্যান্স ঘিরে যেমন আলোচনা শুরু হয়েছে, তেমনি সমানভাবে আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে সম্ভাব্য চমক দেওয়া কিছু দলও।
ফুটবল বিশ্বে যেসব দলকে শিরোপার দৌড়ে খুব বেশি এগিয়ে রাখা হয় না, কিন্তু যারা বড় দলগুলোকে হারিয়ে অপ্রত্যাশিত সাফল্য এনে দিতে পারে—তাদেরই বলা হয় ‘ডার্ক হর্স’। এবারের আসরেও সেরকম চমক দেখার অপেক্ষায় আছেন কোটি কোটি ভক্ত-সমর্থক।
নতুন ফরম্যাটে ৪৮টি দল নিয়ে আয়োজিত এই বিশ্বকাপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেমন বাড়বে, তেমনি বাড়বে অপ্রত্যাশিত ফলের সম্ভাবনাও। ফলে বড় নামের বাইরেও কয়েকটি দল এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
২০২২ বিশ্বকাপে ঐতিহাসিক সাফল্য নিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে যাওয়া মরক্কো এবারও সম্ভাব্য ডার্ক হর্স হিসেবে আলোচনায় আছে। সংগঠিত রক্ষণভাগ, শৃঙ্খলাবদ্ধ খেলাধুলা এবং দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক—এই শক্তিগুলো তাদের বড় দলগুলোর বিপক্ষে কার্যকর করে তুলতে পারে।
এশিয়ার দল জাপানও ধারাবাহিক উন্নতির কারণে নজরে রয়েছে। ইউরোপের শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে সাম্প্রতিক সাফল্য এবং দ্রুতগতির টেকনিক্যাল ফুটবল তাদের আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। অনেক বিশ্লেষকের চোখে জাপান আবারও বড় চমক দেখাতে পারে।
অন্যদিকে ইউরোপের নরওয়ে নিয়ে আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। আর্লিং হালান্ড ও মার্টিন ওডেগার্ডের মতো বিশ্বমানের তারকার উপস্থিতি দলটিকে যেকোনো ম্যাচে ফল বদলে দেওয়ার সক্ষমতা দেয়। দীর্ঘ সময় পর বড় মঞ্চে ফেরা এই দলটি ঘিরে প্রত্যাশাও তাই বেশি।
লাতিন আমেরিকার কলম্বিয়াও ডার্ক হর্স তালিকায় রয়েছে। টেকনিক্যাল দক্ষতা, দ্রুত আক্রমণ এবং অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে তারা যেকোনো ফেভারিট দলের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বড় ধরনের চমক দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন ফরম্যাটে নকআউটে ওঠার সুযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় তুলনামূলক কম শক্তির দলগুলোর জন্যও ইতিহাস গড়ার পথ খুলে গেছে।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ যত এগোবে, ততই স্পষ্ট হবে—শুধু ফেভারিট নয়, বরং ‘ডার্ক হর্স’ দলগুলোর পারফরম্যান্সও কখনও কখনও আসরের মূল গল্প লিখতে পারে, বদলে দিতে পারে সব সমীকরণ।
অপেক্ষার পালা শেষে শুরু হচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের মহাযজ্ঞ
ট্রফি জয়ে ফ্রান্স-আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে রাখলেন উইটসেল
২০ মিনিটেই ‘মেসি ম্যানিয়া’ দেখালেন ফুটবল ঈশ্বর!