ফিফা বিশ্বকাপে প্রথম দল হিসেবে নকআউটের টিকিট কেটে ইতিহাস গড়ল সহ-আয়োজক মেক্সিকো। শুক্রবার সকাল সাতটায় গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে এ-গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে হাভিয়ের আগিরেসর শিষ্যরা।
এই জয়ের ফলে ৩০ জুন মেক্সিকো সিটিতে নিজেদের চেনা মাঠে শেষ বত্রিশের ম্যাচ খেলার হোম অ্যাডভান্টেজও পকেটে পুরল তারা। ২০০২ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে চ্যাম্পিয়ন হলো মেক্সিকো, আর কাকতালীয়ভাবে সেবারও দলের ডাগআউটে ছিলেন এই বুড়ো গুরু আগিরেই।

অথচ ম্যাচের প্রথমার্ধের চিত্রটা ছিল একেবারেই ভিন্ন। ঘরের মাঠে চেনা দর্শকদের সামনে শুরুটা দুর্দান্ত করলেও দক্ষিণ কোরিয়ার রক্ষণ ভাঙতে পারছিল না মেক্সিকো। উল্টো প্রথমার্ধের শেষের দিকে সন হিউং-মিনের দল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে মেক্সিকানদের রীতিমতো নাচাতে শুরু করে। মেক্সিকোর এমন ম্যাড়মেড়ে ফুটবল দেখে মেজাজ হারিয়ে প্রথমার্ধের বাঁশি বাজতেই ঘরের মাঠের দর্শকরা নিজেদের দলকেই তীব্র দুয়োধ্বনি দিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য করেন।
খেলার খরা কাটে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই, অর্থাৎ ৪৮তম মিনিটে। তবে এই গোলের পুরো কৃতিত্ব মেক্সিকোর চেয়ে কোরিয়ান গোলরক্ষক কিম সেউং-গিউরই বেশি প্রাপ্য! নিজেদের এক ডিফেন্ডারের সাথে ধাক্কা খেয়ে বক্সে আসা একটি সহজ ক্রস হাত থেকে ফেলে দেন কোরিয়ান কিপার। ওত পেতে থাকা মেক্সিকান মিডফিল্ডার লুইস রোমো ফাঁকা বক্সে বল ঠেলে দিয়ে মেক্সিকোকে ১-০ তে এগিয়ে নেন।

এই এক গোলেই যেন পুরো স্টেডিয়ামের আবহ এক নিমেষে বদলে যায়। মেক্সিকান সমর্থকরা দুয়ো দেওয়া ভুলে মেক্সিকোর বিখ্যাত লোকসংগীত ‘সিয়েলিতো লিন্দো’ (ও আমার মিষ্টি জান) গেয়ে পুরো গ্যালারি মাথায় তোলেন। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মেক্সিকো ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল, কিন্তু রাউল জিমেনেজের জোরালো হাফ-ভলি এবং পরে ওবেদ ভার্গাসের দূরপাল্লার শট চমৎকারভাবে ঠেকিয়ে নিজের আগের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করেন কোরিয়ান কিপার কিম।
ম্যাচের শেষ দিকে সমতায় ফিরতে অল-আউট আক্রমণে ঝাঁপায় দক্ষিণ কোরিয়া। একের পর এক কোরিয়ান আক্রমণে মেক্সিকোর ডিফেন্স যখন প্রায় ভেঙে পড়ার মুখে, ঠিক তখনই প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান মেক্সিকান গোলরক্ষক রাউল রাঙ্গেল। একদম পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে কোরিয়ার একটি নিশ্চিত শট প্রথমে পা দিয়ে ঠেকান তিনি, এবং রিবাউন্ড থেকে আসা দ্বিতীয় শটটিও অবিশ্বাস্যভাবে গোললাইনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে রক্ষা করেন। রাঙ্গেলের এই ‘ডাবল সেভ’ মেক্সিকোকে কোরিয়ান ঝড় থেকে বাঁচিয়ে দেয়। এর আগে প্রথমার্ধে সিজার মন্তেসের নিষেধাজ্ঞার কারণে ডিফেন্সে খেলা অধিনায়ক এডসন আলভারেজও গোললাইন থেকে সন হিউং-মিনের একটি শট ওভারহেড ক্লিয়ারেন্সে বাঁচিয়েছিলেন।

টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে সবার আগে মেক্সিকো নকআউটে চলে গেলেও কোরিয়ার শেষ বত্রিশের আশা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রের মুখোমুখি হবে মেক্সিকো, আর কোরিয়ানরা বুধবার বাঁচা-মরার লড়াইয়ে নামবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে।
ম্যাচ শেষে তৃপ্তির হাসি হেসে মেক্সিকান কোচ হাভিয়ের আগিরে বলেন, খুব ক্লোজ ম্যাচ ছিল। যে ভুল করতো সেই হারতো, আর ভুলটা ওরাই করেছে। আমরা ধৈর্য ধরেছিলাম। আমি খুশি যে আমাদের আপাতত নিজেদের প্রিয় মেক্সিকো ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে হচ্ছে না।
