ইনজুরি আর নেইমার জুনিয়র- এ যেন এক মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ! কাফ মাসলের চোটের কারণে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামতে পারেননি ব্রাজিলের এই পোস্টার বয়। আশা ছিল দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে ফিরবেন, কিন্তু ভাগ্য এবারও সহায় হলো না।
চোটের নতুন জটিলতায় হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের দ্বিতীয় ম্যাচ থেকেও পুরোপুরি ছিটকে গেছেন তিনি। দলের বাকি সদস্যরা যখন ম্যাচ খেলতে ফিলাডেলফিয়াতে গেছেন, নেইমার তখন একা পড়ে ছিলেন নিউ জার্সিতে দলের ট্রেনিং সেন্টারে, চালিয়ে গেছেন নিজের চোট কাটিয়ে ওঠার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া।

মাঠে নেইমারের এই অনুপস্থিতি এবং রিহ্যাব সেশন নিয়ে এবার আর ছেড়ে কথা বলেননি ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। কিছুদিন আগেই মেসিকে ব্রাজিলে সাইন করানোর রসিকতা করা লুলা এবার নেইমারকে রীতিমতো চড়া ভাষায় খোঁচা দিয়েছেন।
নেইমারের এই দলের বাইরে থাকা নিয়ে কটাক্ষ করে লুলা মন্তব্য করেন, নেইমার হলেন ‘বিশ্বের প্রথম খেলোয়াড়, যাকে হোম অফিসের (বাসা থেকে কাজ) জন্য জাতীয় দলে ডাকা হয়েছে।
প্রেসিডেন্টের এমন পরোক্ষ ও বিষাক্ত কটাক্ষে দমে যাওয়ার পাত্র যে নেইমার নন, তা আবারও প্রমাণিত হলো। লুলার এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মাথায় নেইমারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পেজ থেকে ধেয়ে আসে এক নীরব অথচ কড়া জবাব।

নিউ জার্সির ট্রেনিং সেন্টারে ঘাম ঝরানো জিম ও কঠোর অনুশীলনের একটি ছবি পোস্ট করা হয় নেইমারের অ্যাকাউন্ট থেকে। যেখানে ক্যাপশনে খুব ছোট করে কিন্তু সগৌরবে লেখা ছিল, ‘নো ডে অফ’ (কোনো ছুটির দিন নেই)।
কোনো বাড়তি কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি না করে নেইমার ৱবুঝিয়ে দিলেন, মাঠের বাইরে থাকলেও তিনি অলস বসে ‘হোম অফিস’ করছেন না, বরং দ্রুততম সময়ে মাঠে ফিরতে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটছেন। ডান পায়ের কাফ মাসলের ইনজুরিটা যে তার বিশ্বকাপ মিশনকে বড়সড় হুমকির মুখে ফেলেছে, তা নেইমার নিজেও জানেন।
এখন দেখার বিষয়, প্রেসিডেন্টের এই চাবুকের মতো কথা আর নেইমারের এই ‘নো ডে অফ’ জেদ ব্রাজিল দলকে হাইতির বিপক্ষে কতটা চাঙ্গা করে তোলে, নাকি মাঠের বাইরেই চলতে থাকবে এই ‘লুলা বনাম নেইমার’ ঠান্ডা লড়াই!
