বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে নামার আগে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির কণ্ঠে যেন অন্যরকম এক আত্মবিশ্বাস। গ্রুপ পর্বে দাপট দেখিয়ে নকআউটে ওঠা বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা নাকি শুধু লিওনেল মেসির জাদুকরী পায়ের ওপর নির্ভরশীল নয়! যদিও পরিসংখ্যান বলছে, দলের ত্রাতা সেই মেসিই। অন্যদিকে, টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় চমক কেপ ভার্দেকে হালকাভাবে নেয়ার কোনো সুযোগই দেখছেন না স্কালোনি; তার মতে, এই ছোট দলটি মাঠের লড়াইয়ে প্রচণ্ড ভয়ংকর।
গ্রুপ পর্বে নিখুঁত রেকর্ড ধরে রেখে ৩ ম্যাচে ৮ গোল দিয়ে মাত্র ১টি হজম করেছে আর্জেন্টিনা। আর মজার ব্যাপার হলো, এই ৮ গোলের মধ্যে ৬টিই এসেছে জাদুকর মেসির পা থেকে! জর্ডানের বিপক্ষে প্রথম একাদশে না থেকেও তিনি কিলিয়ান এমবাপ্পের (যিনি এক ম্যাচ বেশি খেলেছেন) সাথে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সমানে-সমান লড়ছেন।

কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নামলেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ৩০টি ম্যাচ খেলার অনন্য এক ইতিহাস গড়বেন মেসি। নকআউট পর্বে এটি হবে তার ১৩তম ম্যাচ। আর, শেষ পাঁচটি নকআউট ম্যাচে ৯টি গোলে (৫ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট) সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি।
পরিসংখ্যান যখন মেসির জয়গান গাইছে, স্কালোনি তখন কিছুটা 'কূটনৈতিক' সুর ধরলেন। তার দাবি, মেসি যা-ই করুক, তা একটু বেশিই চোখে পড়ে। তবে দলে আরও স্ট্রাইকার আছে। জুলিয়ান আলভারেজ বা লাউতারো মার্টিনেজ যারাই খেলুক, আমরা চাই দলের সবাই যেন গোল করতে পারে।
মেসি কতক্ষণ খেলবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে স্কালোনির সোজা সাপটা উত্তর, এখনই এটার উত্তর দেওয়া অর্থহীন। সে দারুণ খেলছে, তবে কতক্ষণ মাঠে থাকবে তা নির্ভর করবে ম্যাচের পরিস্থিতি আর ওর শারীরিক অবস্থার ওপর।
আর্জেন্টিনার সামনে এবার এমন এক প্রতিপক্ষ, যাদের সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে আগে কখনোই দেখা হয়নি। তবে প্রথম দেখাতেই তারা যে মেসিদের স্নায়ুর চূড়ান্ত পরীক্ষা নেবে, তা একপ্রকার নিশ্চিত।

২০১০ সালে স্লোভাকিয়া এবং ২০০৬ সালে ঘানার পর, প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে এসেই নকআউটে ওঠার অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েছে কেপ ভার্দে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৬৭ নম্বরে থেকে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং শক্তিশালী উরুগুয়েকে রুখে দিয়ে তারা প্রমাণ করেছে,তাদের হারানো মোটেও সহজ কাজ নয়।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব মানেই 'ডু অর ডাই'। স্কালোনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে আসা সবচেয়ে ক্ষুদ্র দেশ হলেও কেপ ভার্দেকে হেলাফেলা করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, আমরা দারুণ ছন্দে আছি ঠিকই, কিন্তু এখন ভুলের মার্জিন খুবই সামান্য। হারলেই সোজা বাড়ির পথ ধরতে হবে। আমরা জানি কেপ ভার্দে কোনো ফালতু দল নয়; তারা এখানে এমনি এমনি আসেনি।

স্কালোনির মতে, কেপ ভার্দের ডিফেন্স এবং কাউন্টার-অ্যাটাক যে কোনো বড় দলের জন্যই চিন্তার কারণ হতে পারে। তিনি বলেন, সৌদি আরবের বিপক্ষে তো তাদের জেতাই উচিত ছিল। স্পেন ও উরুগুয়ের বিপক্ষে হয়তো তারা একটু চাপে ছিল, কিন্তু অসাধারণ ডিফেন্স করেছে। ভেতরের চ্যানেলগুলো বন্ধ করে প্রতি-আক্রমণে ওঠার ক্ষেত্রে তারা দারুণ দক্ষ।
সব মিলিয়ে মায়ামির মাঠে লড়াইটা শুধু বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বনাম আন্ডারডগের নয়। লড়াইটা হবে স্কালোনির রণকৌশল, মেসির রেকর্ড গড়ার ক্ষুধা আর কেপ ভার্দের রূপকথা চালিয়ে যাওয়ার অদম্য জেদের মধ্যে। এখন দেখার বিষয়, স্কালোনির দাবি অনুযায়ী অন্য স্ট্রাইকাররা জ্বলে ওঠেন, নাকি সেই চেনা সুপারহিরো মেসিতেই ভরসা রাখতে হয় আর্জেন্টিনাকে!
