বিশ্বকাপের নকআউটের লড়াই মানেই টানটান উত্তেজনা, আর যখন প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দের মতো অজেয় ডার্ক হর্স, তখন স্নায়ুর চাপ থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মাঠের খেলোয়াড়দের চেয়েও আজ যেন বেশি উত্তেজিত আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা। তবে এই উত্তেজনার কারণ শুধু মেসিদের ফর্ম নয়, বরং অদ্ভুত এক ‘আধ্যাত্মিক লড়াই’।
ঘটনার সূত্রপাত ঘানার আলোচিত তান্ত্রিক নানা কোয়াকু বোনসামের এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্যে। তিনি দাবি করেছেন, তার ‘ঐশ্বরিক’ বা কুহকী শক্তির প্রভাবে নাকি বিশ্বকাপের নকআউট থেকে বিদায় নেবে আর্জেন্টিনা! তান্ত্রিকের এই অশনি সংকেত প্রকাশ্যে আসতেই ইন্টারনেটে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে শোরগোল।
কিন্তু আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা কি এত সহজে হাল ছাড়ার পাত্র? মোটেও না! তান্ত্রিকের এই ‘অভিশাপ’কে বুড়ো আঙুল দেখাতে ভক্তরা আবারও ফিরিয়ে এনেছেন তাদের সেই চিরচেনা ও শক্তিশালী শব্দবন্ধ, ‘আনুলো মুফা’। কাতার বিশ্বকাপে যা ছিল মেসিদের জন্য এক অঘোষিত ‘সুরক্ষা কবচ’, সেই একই মন্ত্র এখন আবারও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
লাতিন আমেরিকান ফুটবল সংস্কৃতিতে ‘মুফা’ মানে অপয়া বা দুর্ভাগ্য। আর ‘আনুলো মুফা’ বলে ভক্তরা যেন মহাবিশ্বের কাছে বার্তা পাঠাচ্ছেন, সব ধরনের অশুভ শক্তি আমরা বাতিল করলাম!
২০২২ সালের সেই রোমাঞ্চকর জয়ের পথে ভক্তদের এই কুসংস্কারই যেন পরিণত হয়েছিল এক ধরনের আবেগি হাতিয়ারে। প্রতিপক্ষের যেকোনো নেতিবাচক মন্তব্য বা ভবিষ্যদ্বাণীর জবাবে কেবল এই দুটি শব্দ লিখে তারা প্রতিহত করতেন অশুভ সব ভাবনা। এবারও কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে সেই পুরোনো অস্ত্রেই শান দিচ্ছেন তারা।
যদিও এর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই, তবুও সমর্থকদের এই বিশ্বাস আর ভালোবাসার জোর কম নয়। মাঠের লড়াই শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত হবে মেসির বাঁ পায়ের জাদুতে আর দলের রণকৌশলে, কিন্তু সাইডলাইনে বসে সমর্থকদের এই অভিনব ‘মানসিক যুদ্ধ’ ফুটবল উন্মাদনাকে নিয়ে গেছে এক অন্য উচ্চতায়। এখন দেখার বিষয়, তান্ত্রিকের ‘অভিশাপ’ নাকি ভক্তদের ‘আনুলো মুফা’ শেষ হাসি হাসে কে?
মায়ামির আকাশে আজ কি শুধু বলের লড়াই হবে, নাকি বাতাসে ভাসবে কুসংস্কার কাটানোর এক অদ্ভুত সুর? উত্তরটা পেতে ফুটবলপ্রেমীরা চোখ রাখছেন মাঠের দিকে!
অসম্ভব হলেও মেসিদের হারানো সম্ভব: বুবিস্তা
নাগেলসমানের বিদায়, ক্লপের অপেক্ষায় জার্মানি