তিস্তা-সুরমায় স্বস্তি, নেত্রকোনায় শঙ্কা, পাহাড়ে বন্যার দগদগে ক্ষত

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৬, ০১:০৭ পিএম

দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির কোথাও উন্নতি হয়েছে, আবার কোথাও নতুন করে নদীর পানি বাড়ছে। নীলফামারীতে তিস্তা নদী এবং সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করায় উপকূলীয় ও নিম্নাঞ্চলের মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরছে। তবে নেত্রকোনায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে জেলা প্রশাসন। এদিকে বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলেও খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে কৃষি ও গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ফুটে উঠেছে। 

একাত্তরের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের প্রতিবেদন:

নীলফামারীতে তিস্তার পানি বিপদসীমার নিচে, নামছে নিম্নাঞ্চলের পানি

উজানে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে নীলফামারীতে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে তা আবার বিপদসীমার নিচে নেমে এসেছে।

পাউবোর নীলফামারীর ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, সোমবার বিকেল তিনটার পর থেকে উজানের ঢলে নদীর পানি বাড়তে থাকে এবং রাত ৯টায় বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল সামান্য প্লাবিত হয়ে বসতবাড়ি ও ফসলি জমিতে পানি প্রবেশ করে। তবে রাত ১১টার পর থেকে ঢল কমায় মঙ্গলবার বেলা ১২টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার পাঁচ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিলো।

ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, উজানে বৃষ্টি ও ঢলের প্রবাহ কমায় নদীর পানির স্তর আরও হ্রাস পাবে। প্লাবিত নিম্নাঞ্চল থেকেও ধীরে ধীরে পানি নেমে যাচ্ছে। তবে পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

সুনামগঞ্জে এক সপ্তাহ পর রোদের দেখা, খুলছে সড়ক যোগাযোগ

টানা এক সপ্তাহ পর সুনামগঞ্জে রোদের দেখা মিলেছে। বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় জেলার সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। পাউবো জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় মাত্র ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং ভারতের উজানেও বৃষ্টি কমেছে।

সুরমা নদীর পানি ১০ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে নদী থেকে হাওরের দিকে নামছে। সুরমার ছাতক পয়েন্ট ও কুশিয়ারার মার্কুলি পয়েন্টে পানি বিপদসীমা থেকে নিচে নেমে আসছে। পানি কমায় জেলার তাহিরপুর ও আনোয়ারপুর সড়কে পুনরায় যান চলাচল শুরু হয়েছে। তবে সড়ক ভেঙে যাওয়ায় জগন্নাথপুর উপজেলার আটটি গ্রামের মানুষ এখনও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছেন।

সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমদাদুল হক জানান, নতুন করে বৃষ্টিপাত না হলে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নদ-নদীর পানি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

নেত্রকোনায় উব্দাখালীর পানি বিপদসীমার ওপরে, প্রস্তুত ২৮৯ আশ্রয়কেন্দ্র

ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে উব্দাখালী নদীর পানি বিপদসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মগড়া ও ধনু নদীর পানিও বাড়ছে, তবে এখনও তা বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। কংশ ও সোমেশ্বরী নদীর পানি সকাল নাগাদ কিছুটা কমেছে।

কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম জানিয়েছেন, নদীর পানি বাড়লেও এখনও লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেনি এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১০টি উপজেলায় ২৮৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া আপৎকালীন সহায়তার জন্য এক হাজার ৭৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার, পাঁচ লাখ টাকা এবং ১০০ টন চাল মজুত রয়েছে।

খাগড়াছড়িতে পানি নামতেই দৃশ্যমান ক্ষত, ৩১৭ হেক্টর ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট

খাগড়াছড়িতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও দীঘিনালা উপজেলার ছোটমেরুং-এর কিছু নিচু এলাকায় পানি জমে থাকায় কয়েকটি পরিবার এখনও স্থানীয় বিদ্যালয়ে অবস্থান করছে। তবে পানি নেমে যাওয়ার পর কৃষি, মৎস্য ও গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দৃশ্যমান হচ্ছে।

খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরী জানান, জেলায় অন্তত এক হাজার হেক্টর জমির আমন বীজতলা, আউশ ধানের চারা ও সবজিক্ষেত আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩১৭ হেক্টর ফসলি জমি, যার মধ্যে দীঘিনালায় ক্ষতি সবচেয়ে বেশি। এছাড়া বন্যার পানিতে বহু পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।

যোগাযোগের ক্ষেত্রে পানছড়ি উপজেলার নালকাটা-শুকনাছড়ি সড়ক এবং মহালছড়ি উপজেলার মহালছড়ি-মুবাছড়ি সড়কের কয়েকটি স্থানে ভাঙন দেখা দেওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত জানান, জেলাজুড়ে বসতবাড়ি ছাড়াও কৃষি, মৎস্য ও গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সরকারিভাবে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ এখনও চলছে।

এদিকে খাগড়াছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ। দুর্গত পরিবারের দুর্ভোগ লাঘবে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় জেলার মহালছড়ি উপজেলার লেমুছড়ি এলাকায় ১৫০টি বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ, জনসংযোগ কর্মকর্তা চিংলা মং চৌধুরীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পানি নামতেই রাঙ্গামাটিতে বন্যা দগদগে ক্ষত

টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়া রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি, বরকল ও বিলাইছড়ি উপজেলার দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়নের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় নতুন করে বড়ো ধরনের কোনো বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ফারুয়া ইউনিয়নের অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল ও লোকালয় থেকে বন্যার পানি আস্তে আস্তে নেমে যেতে শুরু করেছে। তবে পানি নেমে যেতেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে বন্যার ক্ষত। 

সরেজমিন, পানি নেমে গেলেও দুর্গতদের দুর্ভোগ কমেনি, বরং বেড়েছে। বাঘাইছড়ি, বরকল ও ফারুয়া ইউনিয়ন থেকে পানি সরে যাওয়ার পর দেখা গেছে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ। বেশ কিছু কাঁচা ঘরবাড়ি পাহাড়ি ঢলে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। 
বন্যার পানি নেমে গেলেও এলাকায় তীব্র খাদ্য, বিশুদ্ধ খাবার পানি এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং রান্নার ব্যবস্থা না থাকায় বহু মানুষ এখনো চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

পাহাড়ি ঢলে রাইংখ্যং নদীর তীব্র স্রোতের কারণে প্রথম দিকে দুর্গম ফারুয়ায় নৌপথে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। বর্তমানে পানি কমে আসায় স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবি যৌথভাবে দুর্গম এলাকাগুলোতে ত্রাণ পৌঁছানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে সীমান্ত সড়ক ভেঙে যাওয়ায় এবং দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সবখানে সমানভাবে সাহায্য পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষদের খাবারের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে। তবে বসতবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া পরিবারগুলোকে দ্রুত পুনর্বাসনের আওতায় না আনলে পার্বত্য এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে পারে। আর এর সঙ্গে রয়েছে খাদ্যসঙ্কট, বাসস্থান হারানো এবং কাদামাটির স্তূপে ঢেকে যাওয়া এইসব এলাকার মানুষদের কেবলই বেঁচে থাকার আর ঘুরে দাঁড়ানোর কঠিন সংগ্রাম।

একাত্তর/এসি
কক্সবাজারে টানা বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। রোববার (১২ জুলাই) বিকেলের পর থেকে বৃষ্টি কমে যাওয়ায় জেলার সদর, পেকুয়া, চকরিয়া, কুতুবদিয়া, রামু, মহেশখালী,...
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জেলার বন্যা পরিস্থিতির কোথাও কোথাও কিছুটা উন্নতি হলেও দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ এখনও কাটেনি।...
নীলফামারীতেনির্মাণাধীন বিদ্যুৎ লাইনে কাজ করার সময় বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের পাকারমাথা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ভারী বৃষ্টিপাত ও ভারত থেকে নেমে আসা উজানের পাহাড়ি ঢল কমায় নীলফামারীতে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে তিস্তা নদীর পানি।
বরিশাল সফরে যাওয়ার পথে মাদারীপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহরে কেউ ইটের টুকরা নিক্ষেপ করেনি বলে জানিয়েছেন মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান।
ডালাসে রাত ১টায় এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে যখন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে স্পেন আর ফ্রান্স মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, তখন মাঠের ফুটবল শুরুর আগেই ড্রেসিংরুমের বাইরে শুরু হয়ে গেছে এক হাই-ভোল্টেজ...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে দেশের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের প্রতিনিধিদল।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নরওয়ের রূপকথার মতো ঐতিহাসিক যাত্রা কোয়ার্টার ফাইনালে শেষ হয়ে গেলেও, দেশে ফিরে সব লাইমলাইট একা কেড়ে নিলেন দলটির প্রাণভোমরা আর্লিং হ্যালন্ড। তবে এবার মাঠের কোনো গোল বা...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর