বুধবার রাতের আটলান্টা থ্রিলারের আগে ফুটবল বিশ্বে নতুন করে বোমা ফাটল! মাঠের ভেতরের ফুটবল যুদ্ধ কিংবা মাঠের বাইরের ফকল্যান্ডের রাজনৈতিক বারুদ তো ছিলই, এবার তার সাথে যুক্ত হলো এক বিস্ফোরক রেফারিং কেলেঙ্কারি। সেমিফাইনালের হাইভোল্টেজ ম্যাচে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে থ্রি-লায়ন্সদের এক রক্তহিম করা সতর্কবার্তা পাঠিয়েছেন প্রিমিয়ার লীগের সাবেক এক ডিফেন্ডার। তাঁর সোজা দাবি, চলতি বিশ্বকাপে রেফারিরা যেন চোখ বন্ধ করে আর্জেন্টিনাকে দু’হাত ভরে সুবিধা বিলিয়ে দিচ্ছেন, যা বুধবার হ্যারি কেইনদের ফাইনালের স্বপ্নকে গিলে খেতে পারে!
দুই দলই অতিরিক্ত সময়ের শ্বাসরুদ্ধকর নাটক পার করে শেষ চারে উঠেছে। জুড বেলিংহ্যামের ডাবল ধামাকায় ইংল্যান্ড ২-১ ব্যবধানে নরওয়েকে বিদায় করেছে। অন্যদিকে, ১০ জনের সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে জিতেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কিন্তু সুইসদের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সেই জয়ের পরই রেফারিং নিয়ে ফিফার দরবারে উঠেছে তীব্র নিন্দার ঝড়।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে এক নজিরবিহীন ‘মিস্টেকেন আইডেন্টিটি’ নিয়মের গ্যাঁড়াকলে পড়ে লাল কার্ড দেখেন সুইস স্ট্রাইকার ব্রিল এম্বোলো। প্রথমে আর্জেন্টিনার লিয়েন্দ্রো পারেদেসকে এম্বোলোকে ফাউল করার জন্য হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছিল। কিন্তু ভিএআর রিভিউতে দেখা যায় পারেদেসের সাথে কোনো স্পর্শই হয়নি।
ব্যস, নাটকীয়ভাবে পারেদেসের হলুদ কার্ডটি বাতিল করে উল্টো এম্বোলোকে ‘ডাইভিং’ বা অভিনয়ের দায়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা লাল কার্ড দিয়ে মাঠছাড়া করেন রেফারি জোয়াও পেদ্রো সিলভা পিনহেইরো! এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সুইজারল্যান্ডের বস মুরাত ইয়াকিন। তিনি এই নিয়মকে সরাসরি ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে দাগিয়ে দিয়েছেন।

তবে সবচেয়ে বিস্ফোরক মন্তব্যটি করেছেন ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক সুইস ডিফেন্ডার ম্যানুয়েল আকাঞ্জি। ম্যাচ শেষে ক্ষোভ উগরে দিয়ে আকাঞ্জি বলেন, যখন স্বয়ং রেফারি আপনার বিপক্ষে লেগে যান, তখন ম্যাচ জেতা অসম্ভব। আমাদের বিরুদ্ধে প্রতিটি ছোটখাটো বিষয়ে বাঁশি বাজানো হয়েছে, আর আর্জেন্টাইনদের প্রতিটি ডাইভিং এবং ফাউলকে রেফারি বেকসুর খালাস করে দিয়েছেন। আমি সাধারণত রেফারি নিয়ে কথা বলি না, কিন্তু ক্যারিয়ারে এত একপেশে রেফারিং কখনো দেখিনি। ১১ বনাম ১১ জনের লড়াই হলে ম্যাচটি আমাদের পকেটেই যেত। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা আমাদের সামনে দাঁড়ানোর সুযোগই পেত না।
আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে রেফারিদের এমন ‘গা ঘেঁষা’ পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ অবশ্য এবারই প্রথম নয়। ভক্তরা সামাজিক মাধ্যমে প্রমাণসহ আঙুল তুলছেন, কোয়ার্টার ফাইনালে গোল উদযাপনের সময় ব্যারিয়ার টপকে দর্শকদের মাঝে চলে গেলেও লাউতারো মার্টিনেসকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানোর সাহস পাননি রেফারি।

এমনকি শেষ ষোলোর ম্যাচে মিসরের বিরুদ্ধেও ঘটেছিল একই কান্ড। মিসর যখন ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার উৎসবে মাতোয়ারা, ঠিক তখনই ভিএআর-এর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে লিসান্দ্রো মার্টিনেসের ওপর ফাউলের অজুহাতে গোলটি বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলের ঠিক আগের মুহূর্তে মিসরীয়দের একটি নিশ্চিত পেনাল্টি থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছিল বলে জোরালো দাবি উঠেছে।
১৯৬৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার সোনালী স্বপ্ন দেখছে ইংল্যান্ড। কিন্তু মাঠের ভেতরে মেসির জাদু আর মাঠের বাইরে রেফারিদের এই ‘স্পেশাল ট্রিটমেন্ট’ দুইয়ের যুগলবন্দী ভাঙতে থমাস টুখেলের শিষ্যরা বুধবার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে কোনো অলৌকিক রণকৌশল দেখায়, তা দেখার জন্য চাতক পাখির মতো চেয়ে আছে পুরো ফুটবল দুনিয়া!
