সরকারি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে গিয়ে অস্তিত্বহীন ৭৪ শিশুর জন্ম দেখিয়ে পরবর্তীতে জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে তাদের মৃত্যু দেখিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করার এক গুরুতর অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও নিবন্ধন সহকারী আবুল বাছেরের বিরুদ্ধে এ অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার পর তার নিবন্ধন সহকারীর ক্ষমতা প্রত্যাহারসহ আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন রেজিস্টার জেনারেলের কার্যালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, বিডিআরআইএস সিস্টেমে চররমনী মোহন ইউনিয়নের ওই ৭৪টি ভূয়া নিবন্ধন করা হয়েছিলো। জালিয়াতির ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের ডেপুটি রেজিস্ট্রার জেনারেল (যুগ্ম সচিব) মো. লুৎফুর রহমানের সই করা এক চিঠিতে আবুল বাছেরের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা জারি করা হয়। চিঠিটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে।
নিবন্ধন সহকারীর দায়িত্বে থাকা আবুল বাছের বর্তমানে সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত আছেন। রেজিস্টার জেনারেলের কার্যালয়ে গত ২৭ আগস্ট উপস্থিত হয়ে তিনি একটি লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি স্বীকার করেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের অতিরিক্ত চাপের কারণেই ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে তিনি ওই ৭৪টি ভূয়া জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করেছিলেন। এসব অনভিপ্রেত নিবন্ধন বাতিলেরও অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
তবে সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় তথ্যভান্ডারে কীভাবে এবং কী উদ্দেশ্যে এমন কাল্পনিক তথ্য সংযোজন করা হলো—এর পেছনে কোনো আর্থিক লেনদেন বা প্রভাবশালী কারও মদদ ছিলো কি না, তা নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাষ্ট্রীয় মৌলিক তথ্যভান্ডারে এ ধরনের জালিয়াতি কেবল প্রশাসনিক গাফিলতি নয়, বরং সরকারি ডেটাবেজের বিশ্বাসযোগ্যতাকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলে।
চিঠিতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী আবুল বাছেরকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন কাউকে দায়িত্ব প্রদান, তথ্য পরিকাঠামোর শুদ্ধতা নষ্টের অপরাধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে চররমনী মোহন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক শুভ্রজিত রায় জানান, বাছেরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা জানান, জেলা প্রশাসক বা সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে লিখিত চিঠি হাতে পেলেই নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
