সাড়ে ছয় মাস পর করোনায় দৈনিক আক্রান্ত শনাক্তের হার পাঁচ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। গেলো জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতেও এমন স্বস্তিদায়ক অবস্থাই দেশে বিরাজমান ছিলো।
কিন্তু মার্চের পর সেই অবস্থা শোচনীয় হতে সময় লাগেনি। সংক্রমণের হার এখন পাঁচের নিচে হলেও আক্রান্ত শনাক্ত হচ্ছে হাজারেরও বেশি।
তাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, পরিস্থিতিকে এখনই নিয়ন্ত্রণে বলার সুযোগ নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে আরো অনেক অনেক দিন।
গত বছর মার্চে দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হবার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত বন্ধ রাখাসহ মানুষেরর চলাচল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে শনাক্তের হার পাচ শতাংশে নেমে আসে। প্রায় দুই মাস এই হার পাঁচের নীচে থাকলেও ডেল্টার দাপটে এপ্রিল, জুন ও জুলাইয়ে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে করোনা।
স্থবির হয় অর্থনীতির চাকা। আগস্ট থেকে সংক্রমণ কমতে থাকায় স্বাভাবিক হয় মানুষের জীবন জীবিকা। সেপ্টেম্বরে খোলা হয় স্কুল কলেজ।
করোনা সংক্রমণ শুরুর পর গেলো ১৯ মাসের মধ্যে কেবল চলতি মাসেই আবারও আগের মতো স্বাভাবিক বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন: করোনায় একদিনে শনাক্ত কমলেও, বেড়েছে মৃত্যু
মঙ্গলবার শনাক্তের হার নেমে আসে পাঁচ শতাংশের নীচে। গত জানুয়ারিতে সংক্রমনের হার পাঁচের নীচে নেমে আসে তখন দৈনিক শনাক্তের সংখ্যাটা ছিলো ৫০০ থেকে ৬০০ এর মধ্যে। শনাক্তের হার একই হলেও এখন দৈনিক শনাক্তের সংখ্যাটা হাজারের বেশি।
স্বাভাবিক চলাচলে অনেকেই ভুলতে বসেছেন স্বাস্থ্যবিধি, হারিয়ে যাচ্ছে মাস্কের অভ্যাস। তাই আবারো সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে মনে করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
দেশে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে প্রায় সাড়ে পনেরো লাখ মানুষ। মারা গেছেন ২৭ হাজারেরও বেশী। চিকিৎসাধীন প্রায় ১৩ হাজার মানুষ। এই সংখ্যা একেবারে শূন্যে নামিয়ে আনাই এখন মূল লক্ষ্য।
একাত্তর/আরবিএস
