উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়ার আবেদনের বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন শনিবারের মধ্যে এ বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।
শুক্রবার (৭ মে) রাতে একাত্তর জার্নালে একথা বলেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১-১ ধারায় সরকার তার ক্ষমতা বলে বেগম খালেদা জিয়ার সাজা ও দণ্ডাদেশ স্থগিত করা হয়েছিল। খালেদা জিয়ার পরিবার থেকে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী মানবিক কারণে এক নির্বাহী আদেশে তার দণ্ডাদেশ স্থগিত করে তাকে মুক্তি দিয়েছেন। কারণে এখানে দুটি নির্দিষ্ট শর্ত দেওয়া ছিল। শর্ত দুটি ছিল- তিনি বাড়িতেই থাকবেন এবং কোনো রাজনৈতিক তৎপরতায় অংশ নিতে পারবেন না। চিকিৎসার প্রয়োজনে তাকে বেসরকারি বিশেষায়িত হাসপাতালে এবং সরকারি হাসপাতালে নেওয়া যাবে।
ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৪০১-১ ধারা সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, ৪০১ এর আরও ৬টি উপধারা আছে। খালেদা জিয়ার পরিবার থেকে করা সেই আবেদন সেহেতু কার্যকর করা হয়ে গেছে, এই ধারায় আবারও সেটি রিভিউ করার আইনি কোনো সুযোগ আছে কি না দেখতে হবে। আর বিষয়টি মানবিক দিকটি আইনের ব্যাখ্যার মাধ্যমে ন্যায় সঙ্গত করতে হবে।
খালেদা জিয়া চিকিৎসা নিতে কোনো দেশে যেতে চান এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিকেল ৪টায় আবেদন পেয়েছি। খালেদা জিয়াকে কোন দেশে নিতে আগ্রহী আবেদনে তা উল্লেখ করা হয়নি। সংযুক্তি হিসেবে তার মেডিকেল রিপোর্টগুলো দেওয়া হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে- প্রয়োজনে এখান থেকে তাকে হায়ার সেন্টার নিতে হবে। কোন দেশে নেবেন এবং বিদেশে নিতেই হবে এমন কথা আবেদনে বলা হয়নি। খালেদা জিয়ার তিনজন ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং এভার কেয়ারের চিকিৎসকসহ ১০/১১ জন চিকিৎসকের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তারা সবাই সই করে দিয়েছেন।
আইনমন্ত্রী যোগ করেন, সংবাদ মাধ্যতে তিনি জানতে পেরেছেন তার জন্য নাকি লন্ডনে যাবার জন্য প্লেন, অ্যাম্বুলেন্স রেডি আছে। কিন্তু বর্তমান কোভিড পরিস্থিতে ইউকে, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, ভারতে যাবার সুযোগ নেই। এই অবস্থায় তারা কোথায় নেবেন, কী করবেন সে বিষয়ে সরকারকে কিছু জানানো হয়নি।
ক্যালেন্ডারের পাতায় যেহেতু শুক্রবার সেক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত আসতে কার্যদিবস বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি মানবিক ভাবে দেখা হবে। আশা করছি শনিবার পর্যন্ত গড়াবে না।
খালেদা জিয়ার জামিনের সুযোগ আছে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে আইনমন্ত্রী বলেন, জামিন মানে হচ্ছে কারাগারে থাকলে আদালতের নির্দেশে কারাগার থেকে বের হওয়ার জন্য জামিন দেওয়ায়। বেগম খালেদা জিয়া কিন্তু কারাগারে নাই।
জামিনের আরেকটা অবস্থা হচ্ছে- হয় তিনি আন্ডার ট্রায়াল কারাগারে আছে অথবা সাজা ভোগ করার জন্য কারাগারে আছে। তিনি তো কারাগারে নেই।
নির্বাহী আদেশে দণ্ডাদেশ স্থগিত করা হয়েছে ছয় মাসের জন্য। সেক্ষেত্রে জামিনের সে সিচুয়েশন প্রেজেন্ট নাই। সেক্ষেত্রে জামিনের কোনো সুযোগ নাই।
নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়া মুক্ত হবেন কি না এ প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাহী আদেশ প্রধানমন্ত্রী দেন। ফাইল তো এখনো প্রধানমন্ত্রীর কাছে যায়নি। প্রথমত ফাইল আমার কাছে। এখানে আইনি বিষয় দেখার পর তা যাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাছে। তারপর তা যাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে।
এর মধ্যেই সামনে আসে আরেক নতুন তথ্য। খালেদা জিয়ার বিদেশ যাবার আবেদন করা হলেও তার পাসপোর্টটি এখনও মেয়াদোত্তীর্ণ। তার নিরাপত্তা ও দেখভালে যারা নিয়োজিত তার এখনও পাসপোর্টটি রিনিউ-ই করেনি।
একাত্তর/এসি
