করোনা মহামারিতে বিশ্বের সম্পদশালীরা আরও ধনী হয়েছেন। আর অন্যদিকে, বহু মানুষের জীবনে নেমে এসেছে দারিদ্র্য।
অলাভজনক আন্তর্জাতিক সংস্থা অক্সফাম বৈশ্বিক অসমতা নিয়ে, তাদের এবারের প্রতিবেদনে এমন কথাই জানিয়েছে।
অক্সফামের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালের মার্চ থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বের ১০ জন ধনীর সম্পদ দ্বিগুণ হয়েছে। অন্যদিকে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীতে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে ২১ হাজার মানুষ।
ফোর্বস ম্যাগাজিনের বরাত দিয়ে অক্সফাম জানায়, বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ দশ ধনী ব্যক্তি হলেন ইলন মাস্ক, জেফ বেজোস, বার্নার্ড আর্নল্ট ও পরিবার, বিল গেটস, ল্যারি এলিসন, ল্যারি পেজ, সার্গেই ব্রিন, মার্ক জাকারবার্গ, স্টিভ বালমার ও ওয়ারেন বাফেট।
যৌথভাবে এদের সম্পদ ৭০০ বিলিয়ন থেকে দেড় ট্রিলিয়নে গিয়ে ঠেকেছে। তবে তাদের মধ্যে বেশকিছু বৈচিত্র রয়েছে। যেমন, ইলন মাস্কের সম্পদ এক হাজার শতাংশের বেশি বেড়েছে, আর বিল গেটসের বেড়েছে ৩০ শতাংশ।
অক্সফাম গ্রেট ব্রিটেনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, মহামারিকালে বছরের প্রায় প্রতিদিনই একজন করে বিলিয়নিয়ার তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: বুস্টার ডোজ পাবেন পঞ্চাশোর্ধ সকল নাগরিক: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
অন্যদিকে লকডাউন, বাণিজ্যহ্রাস, বৈশ্বিক পর্যটন সংকোচনের কারণে বিশ্বের ৯৯ শতাংশ মানুষ লোকসানে পড়েছে এবং এর ফলে ১৬ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমায় নেমে গেছে।
কোভিড মহামারিবিহীন সময়ের তুলনায় এখন বাড়তি ১৬ কোটি মানুষ সাড়ে পাঁচ মার্কিন ডলারের কম আয়ে দিন পার করছে।
মহামারি শুরুর পর ২০২০ সালের মার্চ থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বের শীর্ষ ১০ জন ধনীর সম্মিলিত সম্পদ দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
সাধারণত দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সভা শুরুর আগে অক্সফাম বৈশ্বিক বৈষম্যের ওপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে।
সুইজারল্যান্ডের নৈসর্গিক স্কি রিসোর্ট দাভোসে এবারও এই সভা অনলাইনে হচ্ছে, যা শুরু হয়েছে সোমবার। শুরুতে শারীরিক উপস্থিতিতে সভা আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ধরনটি ছড়িয়ে পড়ায় তা বাদ দেয়া হয়।
একাত্তর/টিএ
