বিশেষ সাক্ষাৎকার: অর্থনীতি আসলে কেমন আছে

বৈষম্য, নতুন দারিদ্র অর্থনীতি ও রাজনীতির চ্যালেঞ্জ: এমএম আকাশ

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৩, ০৪:০২ পিএম

বৈষম্যবেড়েছে এবং তা এতোই স্পষ্টযে এখন সরকারও  অস্বীকার করতে পারছে না।আর নতুন দারিদ্র; সরকার রাজনীতির বড় চ্যালেঞ্জ হয়েউঠেছে। তবে পুরনো পদ্ধতিতেআর এই সমস্যার সমাধানকরা যাবে না। জুলিয়াআলমকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেনঅর্থনীতিবিদ এমএম আকাশ

তিনিবলেন, ধনী এবং ধনতান্ত্রিকরাজনৈতিক পদ্ধতির পাশে হেঁটে হেঁটেআওয়ামী লীগ লাগামছাড়া মুক্তবাজারেরপথে অনেক দূর চলেএসেছে- তাই বঙ্গবন্ধুর অর্থনৈতিকদর্শনে ফেরা এই দলেরজন্য সত্যিই কঠিন।

image


জুলিয়া:কয়েক বছর ধরে আমরাদেশের ভেতরে বাইরে বাংলাদেশেরঅর্থনীতি নিয়ে সম্ভাবনার কথাইশুনেছি, উচ্চ প্রবৃদ্ধির কথাশুনেছি, আর এখন সংকটেরকথা শুনছি। বলা হচ্ছে এরকারণ বৈশ্বিক- আপনার নিজস্ব পর্যবেক্ষণ কি?

এম এম আকাশ: এরকারণ দুই রকম- একটিহলো, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ হয়েছে তার আগে করোনা।এগুলোর অভিঘাতে কিছু দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সৃষ্টি হয়েছে। সেটা পুরো পৃথিবীতেহয়েছে। বাংলাদেশ এটা থেকে মুক্তনয়। সুতরাং ওই কারণগুলো তোআছেই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে সেই কারণগুলোতে একেকদেশ একেক মাত্রায় আক্রান্তহয়েছে এবং একেক দেশ একেক অঞ্চলের রেজিলিয়েন্স বাডিফেন্স ক্ষমতা একেক রকম। চীনযেমন সমস্যাটি দ্রুত কাটিয়ে উঠেছে, ভারতে কেরালা রাজ্য দ্রুত কাটিয়ে উঠেছে কিন্তু অন্য রাজ্য পারেনি।বাংলাদেশে আমরা প্রথমদিকে টিকাব্যবস্থাপনার নজর দিলাম এবং সে সমস্যা ভালইকাটাতে পারলাম। কিন্তু টিকার পরেও করোনা চলাকালেই বিশ্বমন্দানেমে আসলো এতে আমাদের অনেক কলকারখানা বন্ধহয়ে গেল, আমাদের এক্সপোর্ট কমেগেল, টাকার দাম কমে গেল, আমদানিকৃত পণ্যের দাম বেড়েগেল, জাহাজ ভাড়া বেড়ে গেল তখনই একটা অর্থনৈতিকসঙ্কট আমাদের এখানে নেমে আসলো। পরিস্থিতির এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীই বললেন দুর্ভিক্ষআসছে। কিন্তু এতটা সংকটতো হওয়ার কথানা। কেন হলো? হলোএই কারণে যে বাংলাদেশে অনেকআগে থেকে কতগুলো সংকটজমছিলো, জমানো সংকটের উপর শেষ আঘাতযখন আসলো তখনই বিপর্যয়তৈরি হলো। আমরাতো টাকারদাম আগেই অ্যাডজাস্ট করেফেলতে পারতাম কিন্তু আমরা কমাইনি। পাঁচ বছরধরে আমরা ১৫% ইনজয়করেছি টাকাকে কৃত্রিমভাবে অতিমূল্যায়িত রেখে। এরপর এখন কমাতেই হবে কারণ এতবেশি রাখলে পরে আমাদের এক্সপোর্টহবে না এবং তখনআমাদের ডলার মজুদ থাকবে না- ডলারের তুলনায় টাকার মূল্যমান ২০% -২৫% নাকমাই তাহলে আমাদের রিজার্ভ শূন্য হয়ে যাবে। সুতরাংএখন করতেই হবে আর সেটি করতেগিয়ে দ্রব্যমূল্য বেড়ে গেল- বাড়তে বাড়তে আমাদের মুদ্রাস্ফীতি % হয়ে গেলো।কিন্তু সময়ের এক ফোড় অসময়েরদশ ফোড়! কারণ এরই মধ্যেযে উলটপালট হয়ে গেছে তা সামলানো কঠিন হয়ে গেছে। এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে আমাদের দেশপ্রেমের অভাব। আমাদের সাধারণ প্রবাসী শ্রমিকেরা দেশে টাকা পাঠাতে চায় কিন্তু তারাওযখন দেখেছে হুন্ডিতে টাকা পাঠালে বেশি সুবিধা কারণ হুন্ডিতে রেটভালো পাওয়া যায় সুতরাং তারাআর পাঠাচ্ছে না। আর আগেই আমরা রিপোর্ট দেখেছি এদেশের ধনীরা বছরে ৭৬ হাজার কোটিটাকা দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেয়- আন্ডার ইনভয়েসিংওভার ইনভোয়েসিং করে তারা সুইস  ব্যাংকেটাকা রাখতো। এখন আমাদের ছেলেমেয়েরাযায় পড়তে, অনেকের বউরা থাকে বেগমপাড়ায়।সেখানেও টাকা পাঠাতে হয়। অনেকেই টাকাকে ডলারকরে ওখানে পাঠিয়ে দিচ্ছে আর এতে আমাদের ডলারের ক্রাইসিস হয়েছে এর ফলে আমদানিতে ক্রাইসিসহয়েছে আর আমদানি নির্ভর শিল্পেও তা ক্রাইসিস তৈরি করেছে। আমাদের প্রধান রপ্তানি শিল্পও আমদানি নির্ভর। অনেক কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি বাহির থেকে আনা হয়।তো আমি বলবো এখানে আভ্যন্তরীণ কারণ আছে,বাহিরের করণ আছে, দেশপ্রেমের অভাব আছে এবংসুশাসনের অভাব আছে। আর দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি আর অপচয়ও হচ্ছেই।  আমরা যদি গ্যাসআগে থেকে উত্তোলন করতামতাহলে এখন গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ আমরা তৈরি করতেপারতাম। গ্যাসফিল্ডগুলো আমরা ব্যবহার করতেপারতাম কিন্তু আমরা বললাম গ্যাস তুলবোনা আমরা এলএনজি আমদানিকরবো। সরকারের প্রাইভেট সেক্টর এডভাইজারই চাইলেন এলএনজিই যেন বেশি আমদানি হয়কারণ ওই কোম্পানিটা তার। সুতরাং সরকারেরলোক এবং আমদানি লবিই সেগুলো ইনকারেজ করলেন আর সরকারও সেখানে নতি স্বীকার করল।ফলে আমদানি যতটা না করলেওপারতাম তার চেয়েও আমরা বেশি করলাম। এখন অবশ্য আমদানিঅনেক কস্টলি হয়ে গেছে, এখনবাধ্য হয়েই আমাদের ইমপোর্ট সাবস্টিটিউট করতে  হবে।

এদিকেকরোনাকাল থেকে নতুন দরিদ্রের সৃষ্টি হয়েছে তার সাথে পুরণো দরিদ্র মিলেএখন দারিদ্রের হার ৪০% যা আগে ছিলো২০% তার মানেআমরা যে গল্পটা শুনছিলামদারিদ্র কমছে ক্রমাগত সেটাআর ঠিক থাকলো না।দারিদ্র হঠাৎ করে বেড়েগেলো-এমনকি দারিদ্র্যের পুরনো সংজ্ঞা ধরেই দারিদ্র বেড়েগেল। এখন নতুন এই দারিদ্র কিন্তু পুরণো পদ্ধতিতে সমাধানকরা যাবে না। এখনআমাকে এক্সট্রা অর্ডিনারি মাপকাঠি নিতে হবে। সেটাকিছুটা সরকার করোনাকালে নিয়েছিলো-নানা রকম তহবিল তৈরিকরেছিলো, এসএমই তহবিল, দরিদ্রদের জন্য তহবিল, নগদসাপোর্ট। এখন এগুলো উঠিয়েনেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনতো চালের দাম কমেনি, অনেক কিছুর দামই কমেনি তাই একটা গ্যাপ তৈরি হয়েছে।  বিএনপি'যে বিরাট বিরাট সমাবেশ দেখছেন, সেখানে যখন ইন্টারভিউ নেওয়া হচ্ছে তখন তারা বলছেএটাই, যে আমরাতো এখনখেতেই পারছি না সুতরাং আমাদেরদেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছেআমাদের এখন দাঁড়াতে হবে। কারণেই রাজনৈতিকভাবেই বিরোধী দল একটা সুবিধাপাচ্ছে। এটা সরকার বুঝতে পারছে কি না আমি জানি না।যদি বুঝে থাকে তাহলেসরকারের উচিত ইমারজেন্সি মেজারনিয়ে পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম অফ ফুডস তৈরি করতে হবে।

আমাদেরপ্রধানমন্ত্রীও দুর্ভিক্ষেরকথা বলেছিলেন, পরে বলছেন হবে না। কারণআমরা কিছু চাল আমদানি করতে পেরেছি. সরকারের গুদামেস্টক ভালো আছে। সরকার আশা করছে বোরোএবং আমন ধানের ফলনভালো হবে। যদি এইএ্যাজামশন ঠিক থাকে তাহলেদুর্ভিক্ষ হবে না। চালেরদাম যতটুকু বেড়েছে আর হয়তো বাড়বে না, কমতেও পাড়ে। বিশ্ববাজারে চালের দাম কমছে, বিশ্বব্যাপীতেলের দামও কমছে। সুতরাংআগামী নির্বাচন পর্যন্ত এমন চলতে থাকলেই সরকারেরসুবিধা। আর যদি তা না হয় তবে অর্থনৈতিকসংকট রাজনৈতিক সংকটে পরিণত হবে। অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতারাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় পরিণত হবে।

জুলিয়া:আপনার দৃষ্টিতে দেশে বৈষম্য নতুন বর্তমান দারিদ্রের রূপটি কেমন?

এম এম আকাশ:  দেখুন সরকার অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাতে প্রথম স্বীকার করেছে যে বৈষম্য বেড়েছে,তা কমাতে হবে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিকীপরিকল্পনার প্যানেলে আমি বলেছিলাম বৈষম্যকমানোর গোল অন্তর্ভুক্তি করেন।তখন শামসুল আলম সহ অন্যান্যরাবলেছিলেন আমরা বৈষম্য কমাতেপারবো না কারণ পুঁজিবাদেবৈষম্য বাড়েই, আমরা বৈষম্য নিয়ন্ত্রণেরাখার চেষ্টা করবো। কিন্তু এখন এসে এসডিজি গ্রহণকরেছে তার গোল হচ্ছে বৈষম্যকমানো। নিয়ম হচ্ছে যে, বটমে যারাআছে, দরিদ্র যারা আছে তাদেরআয় বৃদ্ধির হার ধনীদের আয়বৃদ্ধির হারের চেয়ে বেশি হতেহবে। কিন্তু আমাদের দেশে এটা কখনোইহয় না। এখানে ধনী আরো দ্রুতবেগে ধনী হয়, গরীবআরো গরীব হয় ফলে উভয়গোষ্ঠীর মধ্যে গ্যাপ ক্রমাগত বাড়তেই থাকে। সুতরাং আজকে আমরা একইসঙ্গে বৈষম্য ক্রমবর্ধমান বৈষম্যে সাফার করছি, আবার ক্রমবর্ধমান নতুনদারিদ্র থেকেও সাফার করছি। আগে হয়তো সরকারবলতে পারতো দারিদ্র কমছে কিন্তু বৈষম্যবাড়ছে। এখন আর সেটাবলতে পারছে না- এখন বলছেদারিদ্রও বাড়ছে, বৈষম্যও বাড়ছে।

এর আগে দীর্ঘকালআমরা দুটো গল্প শুনেছি-দারিদ্রকমছে এবং উন্নয়ন হচ্ছে।আমি সব সময় বলেছিদারিদ্র কমছে, কিন্তু বৈষম্য বাড়ছে। দারিদ্র কমে কিভাবে- আমরাদারিদ্র্যের সংজ্ঞা কি দেই? আমরাযদি বলি দুই বেলাখেতে পারলেই একটা লোক দরিদ্রনা তা হলে তোদারিদ্র্যের হার অনেক কমেযাবে! আমরা যদি বলিশুধু দুই বেলা খাওয়াহলে হবে না, একটাথাকার জায়গা লাগবে তাহলে দারিদ্র্যের হার আরেকটু বাড়বে।যদি বলি থাকার জায়গালাগবে, খাওয়ার জায়গা লাগবে, শিক্ষা লাগবে চিকিৎসা লাগবে তাহলে আরো একটু বাড়বে।সুতরাং দারিদ্র্য মাপার মাপকাঠির উপর নির্ভর করে দারিদ্রের হারকমছে না বাড়ছে, বেশিনা কম! দারিদ্র আমরাসবসময় দুইভাবে মাপি। একটা মিনিমাম মেজারমেন্টযেটাকে আমরা বলি ডাইরেক্টক্যালোরি ইনটেক (ডিসিআই); একটা মানুষ যদি২১৮৮ ক্যালোরি সমান খাবার খায়তাহলে সে দরিদ্র না।তাহলে এটা তো একটাগবাদি পশু মার্কা ডেফিনেশনহলো! আর আরেকটা হচ্ছেসিবিএন মেথড কস্ট অফবেসিক নিড ; সেখানে আমরা বলি মৌলিকচাহিদা কি কি - অন্ন,বস্ত্র,শিক্ষা,চিকিৎসা বাসস্থান এগুলোথাকে, কেউ কেউ আবারবিনোদন যোগ করে, কেউকেউ আবার সেভিংস যোগকরে যে বিপদে আপদেএকটা সঞ্চয় লাগবে। আবার পরিবারের আয়তনকত, পরিবারের কয়জন কাজ করছে, সেইআয়ের উপরও জিনিসটা নির্ভরকরে। ধরেন ইন্টারন্যাশনালি দারিদ্রআয় এখন আমরা ধরিডলার রেটে, একদিনে যে এক ডলারআয় করতে পারে, সেদরিদ্র না। এখন চারজনের পরিবার হলে চার ডলারলাগবে প্রত্যেক দিন, এখন চারডলার যদি ১১০ টাকাকরে হয় তাহলে ৪৪০টাকা লাগবে ধরেন ৫০০ টাকালাগবে। তাহলে একটা পরিবারের মিনিমাম১৫ হাজার টাকা খরচ লাগবে,ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডে দারিদ্র থেকে পার হওয়ারজন্য। আমাদের এখানে বেশিরভাগ লোকের বেতন ১০ হাজারেরমধ্যে বিশেষ করে যারা ইনফরমালসেক্টরে কাজ করে। এমনকিগার্মেন্টস সেক্টরে অপারেটরদের বেতনও এখনো ১০ হাজারটাকার মধ্যে। তার মানে দারিদ্রসীমা আমরা কিভাবে মাপছিসেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাহলেআমরা যে গল্পটা শুনতামদারিদ্র কমছে, সে গল্পটা বলাহতো আমরা দারিদ্র সীমারঅনেক নিচে, খেতে পারে এইটুকুধরে! কিন্তু এখন তো খেতেওপারবে না কারণ চালেরদাম হঠাৎ ৬০ টাকাকেজি হয়ে গেছে। সেইকারণে এখন দারিদ্র সবচেয়েনিম্নতম আয়েও বেড়ে গেছে।

image


জুলিয়া:মধ্যবিত্ত একটি অর্থনৈতিক শ্রেণি।সমাজ রাজনীতিতেও এদেরঅবদান উল্লেখযোগ্য। বলা হচ্ছে কয়েকবছর ধরেই সবচে বেশিচাপে আছে এই শ্রেণি।এদের প্রতি ক্ষমতাসীন রাজনীতিকদের দায়কী?

এম এম আকাশ: মধ্যবিত্তশ্রেণীর সব সময় দুটোস্তর থাকে। একটি স্তর থাকেনানা সুযোগ সন্ধানী এবং তারা সুযোগপায় ধীরে ধীরেউপরে উঠে যায়। আরআরেকটা স্তর থাকে সেটাইসংখ্যাগরিষ্ঠ, তারা সুযোগ সন্ধানকরেও সুযোগ পায় না অথবাসুযোগ পেলেও প্রতিযোগিতায় হেরে যায় এবংতারা নিচে নেমে যায়।সেজন্য মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে ক্রমাগত আপওয়ার্ড মবিলিটি ডাউনওয়ার্ড মবিলিটিদেখা যায়। করোনাকালে আমরা দেখেছি আপওয়ার্ড মবিলিটির স্কোপটা কমে গেছে। তারফলে মধ্যবিত্তের ডাউনওয়ার্ড মবিলিটির ট্রেন্ড বেড়ে গেছে তাই মধ্যবিত্তরাসংকটে পড়েছে। আমরা দেখতে পেয়েছিটিসিবির লাইনে কম দামে চাল ভোজ্যতেল পেতে বস্তিবাসী গরিবরাই দাঁড়াতো এখন আমরা দেখছিমধ্যবিত্ত কেরানীও দাঁড়ায়। অবশ্য আগে মধ্যবিত্ত পেটে ক্ষুধা, মুখেলাজ নিয়ে বসে থাকতো এখন মধ্যবিত্তের  সংকটওতীব্র। তাই আমার মনে হয় এমনবিশেষ পরিস্থিতিতে সরকারের যেটা উচিত সেটাহল ইউনিভার্সাল সোশ্যাল সিকিউরিটিতে চলে যাওয়া। এতে প্রথমত একটি ডেটাবেজলাগবে তার যে কারাপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, খাদ্য, স্বাস্থ্য শিক্ষা পাচ্ছেনা আমাদের সংবিধানের মৌলিক অধিকারগুলো  কারাপাচ্ছে না। আমি বলেছি আমাদের ১৮ কোটির মধ্যে৬ কোটি লোককে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে আনতে হবে। দুটো শর্ত-এই কোটি লোকেরতালিকা সরকারের থাকতে হবে এবং আর্থিক সক্ষমতায় নিচেরদিকে গণা শুরু করে সামাজিক নিরাপত্তা দেয়ার চেষ্টা করতে হবে। কোটি পর্যন্ত যদি নিরাপত্তা দিতে হয়তাহলে বাকি ১২ কোটিথেকে ট্যাক্স আদায় করে তারপর দিতেহবে। ওয়েলফেয়ার স্টেটের ধারণা এখান থেকেই আসে। সেখানে সকল নাগরিককেআমরা মিনিমামটা দেওয়ার চেষ্টা করব সুতরাং মিনিমামএর উপর যারা আছেতাদেরকেও দায়িত্ব নিতে হবে মিনিমামএর নিচে যারা চলেগেছে তারাও তাদের ভাই তাদের বোনদেশের নাগরিক। এখন সেই কাজটাকরতে হয় সরকারকে। সরকারেরঅঙ্গীকার যদি থাকে মধ্যবিত্তএবং গরিবের প্রতি তাহলে এটা সম্ভব। কিন্তুসরকারের অঙ্গীকার যদি শুধু থাকে ধনীদেরউপর তাহলে সম্ভব না। এখন বাংলাদেশসরকারের অঙ্গীকার হয়ে গেছে ধনীদেরউপর কারণ তারা জানেনির্বাচনে গরীবরা জিততে পারবে না এবং আমিক্ষমতায় থাকতে পারবো না সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠনা হতে পারলে। সুতরাংপার্লামেন্টে আমাকে এমন লোককে মনোনয়নদিতে হবে যার টাকাআছে। আমাকে নির্মলেন্দু গুণ যেমন বললোআমি ২০১৮ নির্বাচনে মনোনয়নলাভের জন্য আওয়ামী লীগেরকাছে দরখাস্ত করলাম, তারপর ইন্টার্ভিউ দিতে গেলাম, মনোনয়নবোর্ড আমাকে জিজ্ঞেস করলো তোমার ব্যাংকেকত টাকা আছে! আমিবললাম ৫০ হাজার টাকাআছে, সবাই হাসলো। হেসেবললো ব্যাংকে কোটি টাকানা থাকলে মনোনয়নের সুযোগ নাই। তাহলে কোটিপতিদেরমনোনয়ন দিবে আওয়ামী লীগতাদের হারাতে বিএনপিও কোটিপতিদের মনোনয়ন দিবে আর সংসদ হবে কোটিপতিদের ক্লাব।তখন কোটিপতি ক্লাব কোটিপতিদের পক্ষে পলিসি তৈরি করবে তাহলে কল্যাণরাষ্ট্র কেমনে হবে!

জুলিয়া:আওয়ামী লীগের দর্শনে ১৯৯৬ সালের আগে মুক্তবাজার অর্থনীতিছিলো না। এরপর ক্ষমতাসীনআওয়ামী লীগ আস্তে আস্তেমুক্তবাজারের সেবক হয়ে উঠে,ব্যবসাবান্ধব হয়ে উঠে। আওয়ামীলীগের বর্তমান অর্থনৈতিক দর্শন নিয়ে আপনার পর্যালোচনাশুনতে চাই।

এম এম আকাশ: আওয়ামীলীগ একটা মাল্টিক্লাস পার্টিছিলো। একটা জাতীয়তাবাদী সংগ্রামেরমধ্য দিয়ে তারা দেশকেস্বাধীন করেছে। আপনি যদি বঙ্গবন্ধুশেখ মুজিবুর রহমান এর ক্রমবিবর্তন দেখেন, তাহলে আপনি আওয়ামী লীগকে বুঝতেপারবেন। তরুন বয়সে শেখমুজিব করেছেন মুসলিম লীগ তারপরে আওয়ামী লীগ আর মৃত্যুর আগে বাকশাল। তারমানে ক্রমাগত সাম্প্রদায়িক রাজনীতি থেকে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি এবং শেষে কৃষক শ্রমিকরাজনীতিতে তাঁর উত্তরণ ঘটেছে।সেইজন্যই মুক্তিযুদ্ধের পরে যে বছর তিনি বেঁচেছিলেন, তিনিকিন্তু মুক্তবাজার অর্থনীতির দিকে যাননি। তিনিশতকরা ৮৬ ভাগ সম্পদবৃহৎ কলকারখানা রাষ্ট্রায়ত্ব করেন,ব্যাংক রাষ্ট্রায়ত্ব করেন, বৈদেশিক বাণিজ্য কন্ট্রোলে আনেন। পারমিট লাইসেন্সের বদলে টিসিবি তৈরি করেন এবং রেশন ব্যবস্থাচালু করেন। গ্যাসফিল্ডগুলো বিদেশিদের থেকে নিয়ে, চাবাগানগুলো নিয়ে নেন। তিনিবলেন আমি সমাজতন্ত্র করতেচাই। আওয়ামী লীগে ৯০ সাল পর্যন্ত  বঙ্গবন্ধুর দর্শনের রেশ কিছু কিছু ছিলো।

দেখুনবঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পেছনে ছিলো আওয়ামী লীগের দক্ষিণপন্থী অংশেরষড়যন্ত্র। ওবায়দুর রহমান, খন্দকার মোশতাক বা এম আর সিদ্দিকী বলেনতারা  বঙ্গবন্ধুরআমলেই  দক্ষিণপন্থী-এই  অংশঅবশ্য  বাকশালেওযোগ দিয়েছিলো। তবে যোগ দিয়েছিলো অন্য উদ্দেশ্য নিয়ে। তারা ঘাপটি মেরে বসেছিলো যেসমাজতন্ত্র থেকে আওয়ামী লীগ নিশ্চয়সরে আসবে। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর শেখ হাসিনানেতৃত্বে ছিলেন না। যারা ছিলেনতারা আওয়ামী লীগকে একটা কম্প্রোমাইজিং দলকরে রেখেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর  রাষ্ট্রপতিজিয়ার পর ৯০ সালপর্যন্ত  ক্ষমতায়ছিলো এরশাদ- তিনি পুরো রাজনীতিটাইনিয়ে গেছেন মুক্তবাজারের দিকে। এরপর বিএনপির পরআওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসলোতখন মুক্তবাজার অর্থনীতির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ যেতে পারলো না।ওইটাকে গ্রহণ করে নিয়েই মুখেবললো আমরা মুক্তবাজার অর্থনীতিতেবিশ্বাস করিনা, আমরা মিশ্র অর্থনীতিতেবিশ্বাস করি। বিএনপির  আগে এরশাদ মুক্তবাজারকেব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেয়।অবশ্য এরশাদের ভোট ছাড়া তাদেরসরকার টিকতেও পারতো না তাই স্বৈরাচারেরপ্রবর্তিত অর্থনীতির উত্তরাধিকার আওয়ামী লীগ বহন করছে এবংকম্প্রোমাইজ করেই দেশ চালাচ্ছে।ওয়ার্ল্ড ব্যাংক আইএমএফ এরসাথে কম্প্রোমাইজ করেই দেশ চালাচ্ছে।তবে চায়না একটা নতুন পাওয়ারহিসেবে আবির্ভাব হয়েছে এবং পৃথিবী এখনআর ইউনিপোলার নাই। সমাজতন্ত্রের পতনের পর সবাই ভেবেছিলোএখন শুধু আমেরিকা কিন্তুসেই পরিস্থিতি আর নাই। এখন আমেরিকানাকি চায়না নাকি ইউরোপ নাকিআমরা আলাদা। এখন নিশ্চিতভাবে বলাযায় পৃথিবী হবে মাল্টিপোলার। এই মাল্টিপোলার ওয়ার্ল্ডে হাসিনা সরকারের স্কোপ ফর বার্গেইনিং বেড়েছে।এখন যদি আমেরিকা সরকারবলে আমি চাল-গম  দিবো না তাহলেওহাসিনা বলতে পারে আমাদেরদুর্ভিক্ষ হবে না। কারণ আমরা টাকা দিয়ে আমদানি করতে পারবো অন্য অনেক দেশ থেকে। ৭৪সালে বঙ্গবন্ধু যখন বলেছিলেন চাল আমিবাহির থেকে আনবো- তবে স্কোপ ছিলো না, আমেরিকা থেকেইআনতে হতো। তাই তখন আমেরিকাবলেছিলো তুমি যদি কিউবাতেপাট রপ্তানি করো আমি তোমাকেচাল দিবো না এবংদেয়নি বিধায় দুর্ভিক্ষ হয়েছিলো। সেটা বঙ্গবন্ধুর দোষে হয়নি বা তাঁর নীতির কারণেওনা।

যেটি ভাববার বিষয় সেটি হলো, ইতিমধ্যেই আওয়ামী লীগে ধনীকশ্রেণীরএকটি ক্লাব তৈরি হয়েছে যেটাকিছু আগে ভোট ব্যবস্থানিয়ে বললাম। শক্তিশালী কায়েমি স্বার্থ যখন তৈরি হয়েগেছে ওইটা ব্রেক করেআবার বঙ্গবন্ধুর পথে ফিরে আসাআওয়ামী লীগের পক্ষে আমি মনে করি না সহজ ব্যাপার। সম্ভবত এটা আর হবেওনা।  সেজন্যইআমি বলছিলাম আওয়ামীলীগ বিএনপি যেই ক্ষমতায়থাকুক মুক্তবাজার অর্থনীতি থাকবে  আর অনিবার্যভাবেই বৈষম্যও থাকবে।

image


জুলিয়া:দেশের আর্থিক খাত নিয়ে আপনারপর্যবেক্ষণ মন্তব্য কি?

এম এম আকাশ: প্রথমতআর্থিক খাতে একটা ডিসিপ্লিনের অভাব দেখা দিয়েছে। সব ইকোনোমিস্ট- ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, আইএমএফ,থেকে শুরু করে দেশীয়-সবাই বলেন আর্থিক খাতবিশৃঙ্খল এবং সুশাসনের অভাবরয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব ছিল আর্থিক খাতকেম্যানেজ করা পারেনি তার কারণ হলোএর অটোনোমি নাই-যে শায়ত্বশাসন দরকার ছিল সেটা পাচ্ছেনা। এটি পলিটিক্যালি এবং অর্থমন্ত্রণালয়ের  ফাইন্যান্সডিপার্টমেন্ট দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। কিন্তু আপনি ভারত সহঅন্যান্য দেশে দেখেন সেখানে ব্যাংকেরগভর্নরের যে ক্ষমতা এবংকেন্দ্রীয় ব্যাংক আমাদেরমতো ফাইন্যান্স মিনিস্ট্রি নির্ভর না। এই কারণেকোনো একটা ব্যাংক ইনসাইডল্যান্ডিং করলেও তার টাকা তারমালিকদেরকে দিলে, ব্যাংকের বোর্ডে আত্মীয় স্বজনকে ঢুকালে অথবা তারা খেলাপিরা ঋণ শোধনা করলেও বাংলাদেশ ব্যাংক আর কন্ট্রোল করতেপারছে না। করতে গেলেই উপর থেকেসুতা নাড়া হচ্ছে আর সুতা নাড়ালেই সব কিছু থেমে যাচ্ছে।আইনও তৈরি করছে ফাঁকরেখে। আর দক্ষতার অভাবওআছে বাংলাদেশ ব্যাংকের। সেটাতো আমরা মানি হেইস্ট কেইসেই দেখলাম। কোথা দিয়ে রিজার্ভ থেকেটাকা চুরি হয়ে গেলোআজও তার কোনো হদিসপাওয়া গেলো না। কেমনে হলো কে দোষী।কিছু কিছু ব্যাংক ফেইলওকরলো যেমন ফারমার্স ব্যাংকআপনি জানেন ওটার মালিক ছিলমহিউদ্দিন খান আলমগীর। এইব্যাংক ফেইল করলো কেনসেটাও সবাই জানে। সোনালিব্যাংকের হলমার্ক কেলেঙ্কারি সেটাও সবাই জানে। অনেক প্রাইভেট সেক্টরেরব্যাংকেও তাই। তবে এটা ঠিক যে ব্যাংকগুলো অবস্থায় পৌঁছায়নি যে লালবাতি জ্বলবেকারণ যেমনে হোক একটা ব্যবস্থাচলছে। কিন্তু এর চেয়ে অনেকভালোও সে থাকতে পারতোএবং লোনগুলো ঠিক জায়গামতো দিতেপারতো। অনেক লোন ননপ্রোডাকটিভ সেক্টরে দেয়া হয়েছে, ব্যবহারও হয়েছে ননপ্রোডাকটিভলি পরে আর শোধহয়নি-কন্টিনিউয়াসলি রিসিডিউলকরে গেছে। লক্ষ কোটি টাকারবেশি এখন ডিফল্ট লোন।এসব নিয়ে একটা পৃথক ব্যাংকিংকমিশন গঠন করা দরকার।আগের কমিশনগুলোর রিপোর্টগুলো জোগার করা দরকার। নতুনব্যাংকিং কমিশনকে বলা দরকার ওইরিপোর্টের সুপারিশগুলো আজও কেন বাস্তবায়িতহলো না। কারা দায়ীতাদের চিহ্নিত করে শাস্তি দাবীকরা দরকার।

 

জুলিয়া:এদিকে আর্থিক খাতের বড় সমস্যা কিন্তু এখন হুন্ডি-এনিয়ে আপনার অভিমত কি??

এমএমআকাশ: দেখুন প্রাবসীরা তাদের আয়ের  ডলার-রিয়েল-রিঙ্গিত সরাসরি বাংলাদেশেই পাঠাতেচায়। ধনীরা পাঠাতে না চাইলেও দরিদ্র  শ্রমিকরা কিন্তু পাঠাতে চায়। কিন্তু সে এখন দেখে একডলার আমি কার মাধ্যমেটাকায় ট্রান্সফার করলে বেশি টাকা পাবো।সে দেখে মধ্যপ্রাচ্যে হুন্ডিএজেন্টরা এক ডলারে ১২০ টাকা দিচ্ছে। হুন্ডিওয়ালাদের ক্লায়েন্ট ধনীরা ডলার কিনে বাইরে পাঠিয়েদিবে। তাই হুন্ডি ওয়ালা যেটা দিচ্ছে, তারচেয়ে বেশি টাকা অফিসিয়ালিদিতে হবে, দেওয়ার ব্যবস্থাকরতে হবে। আমাদের রাষ্ট্রদূতদের বলতে হবে, তুমি আলাদাব্যাংকিং উইন্ডো খোলো হুন্ডির বাজারের সাথে কম্পিট করো। তুমি প্রবাসীকে সিকিউরিটিদাও, হুন্ডিতে নিশ্চয়ই সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনালাইজেশন কম। সুতরাং তুমি১২০ টাকাও যদি না দাও ১১৮টাকা দাও। এই কাজ কাজের প্রণোদনা রাষ্ট্রদূতদের আছে কি না বাইকনোমিক কাউন্সিলরের আছে কি না নাকিতারাও চায় হুন্ডি হলে হোক- এটা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।

জুলিয়া:সমালোচকরা বলেন, অর্থনীতি রাজনীতির সম্পর্কেএখন স্বার্থই মূখ্য হয়ে উঠেছে। এনিয়েআপনার মত কী?

এমএম আকাশহ্যাঁ, স্বার্থও আছে পরার্থপরতাও আছে।মানুষ পুরোপুরি জন্তুও না, মানুষ পুরোপুরিফেরেশতাও না। হাফ বিস্ট,হাফ এনজেল। সুতরাং রাজনীতিও হাফ বিস্ট হাফএনজেল। আমাদের চেষ্টা করতে হবে এমনপরিবেশ এমন নিয়ম-কানুন,এমন ইনস্টিটিউশন তৈরি করা যাতেবিস্টলি প্রবণতাগুলো কমে এবং এনজেলিকপ্রবণতা যেন বাড়ে। যেমনধরেন আমরা যদি, আমাদেরসংবিধানে যেটা আছে প্রত্যেকেতার সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করবে এবংপ্রত্যেকে তার কাজের পরিমাণ গুণ অনুযায়ী পুরস্কার পাবে। এই সাংবিধানিক নির্দেশনামেনে আমরা যদি ইনসেনটিভস্ট্রাকচার সাজাতে পারি। তার মানে একটিগরীব কৃষক সাধ্য আছেএকটা ফসল ফলানোর কিন্তুতার পাওয়ার ট্রীলার নাই যে জমিটা চাষ করবে, তারসার নাই, কিটনাশকটা নাই আমাদেরএমন নীতি করতে হবেযাতে সবাই  সাধ্যমতো সক্ষম থাকে-  পুঁজিটা তারকাছে পৌঁছে দিয়ে কাজ শেষে টাকাটা আদায়করে নিতে হবে। আরেকটা হল দেওয়ার পরএকা একা তো কেউকাজ করে না, সবাইমিলে কাজ করে। তো অনেকেমিলে যখন কাজ করেকাকে কতটা দিব সেখানেবণ্টনের একটা প্রশ্ন আছে।যে লোকটা কোন কাজ করলোনা, খালি মধ্যস্বত্ব ভোগকরলো অথবা যে শুধুহুকুম দিল অথবা যেশুধু সম্পত্তির মালিক শুধু তাকে দিলেই হবে না। ধরুন একজন গার্মেন্টস মালিককোনদিন কারখানায় যায় না, সুপারভাইজ করেনা শুধু চেকবই সিগনেচার করে আর শ্রমিকটাউদয়াস্ত পরিশ্রম করে বাথরুম চেপে রেখেও সেলাই চালিয়ে যায় আর পোশাকটি  তৈরিকরে। আমরা যদি পুরস্কারের অনুপাতে মালিককে দেই১০০০ আর শ্রমিককে তাহলেতো ন্যায়নীতি হলো না।

জুলিয়া:আপনাকে ধন্যবাদ

এমএমআকাশ: আপনাকেও ধন্যবাদ।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এশিয়ার অর্থনীতিতে চলতি এবং আগামী বছরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সতর্ক করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।
আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশে পরিণত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ইরানের সাম্প্রতিক হামলা বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে এক বিশাল পরিবর্তনের সংকেত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন অগ্রগতিকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো।
স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের এমনটিই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্পেনের মহাকাব্যিক জয় শুধু একটি ঐতিহাসিক ট্রফি অর্জন আর রূপকথার গল্প নয়, এটি ছিল ফুটবলের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজংশে ব্যাটন হস্তান্তরের স্মারক। ফুটবল...
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ইনজুরি টাইমে ফেরান তোরেসের অবিশ্বাস্য গোল স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন ইতিহাস লিখেছে। ২০১০ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশকে...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর