কোরবানির ঈদের আগে এবার রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে মসলার দাম। বিশেষ করে গত বছরের ঈদের সঙ্গে তুলনা করলে কিছু কিছু মসলার দাম এবার দুই থেকে পাঁচ গুণ বেশি।
মঙ্গলবার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ভালো মানের জিরা ও আদার দাম। রাজধানীর মসলার পাইকারি বাজার মৌলভী বাজারে সপ্তাহ ব্যবধানে জিরার দাম বেড়েছে ১০০ টাকা। এছাড়া হলুদ, আদা, শুকনা মরিচের দামও বাড়তি বলছেন শ্যামবাজারের পাইকাররা। প্রতি কেজি জিরা বিক্রি হচ্ছে ৯৩০ টাকা কেজি দরে, এলাচ এক হাজার ৪০০ টাকা, দারুচিনি ৩৭০ থেকে ৪০০। আর আদা বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজি দরে।

কয়েকজন বিক্রেতা জানান, এক বছরের ব্যবধানে ৩০ কেজির এক বস্তা জিরার দাম বেড়েছে সাড়ে ১৬ হাজার টাকা। মোকাম থেকে এখন এক বস্তার বেশি জিরা দিতে চায় না। সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের ছোট ছোট দোকানে তদারকি করা হয় কিন্তু যারা এই দাম বাড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত তাদের ওখানে তদারকি করা হয় না।
তবে এ সময়ে অপরিবর্তিত আছে পেয়াঁজ আর রসুনের দাম যা আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে।
পাইকারি থেকে খুচরা বাজারে এলে এই জিরার দাম আরো চড়া। ৯৩০ টাকার জিরা বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে এক হাজার ১০০ টাকায়, দারুচিনি ৫০০ টাকা, ধনিয়া সবোর্চ্চ ২২০, লবঙ্গ এক হাজার ৫০০, আদা ৪০০, রসুন ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। গেলো।

তবে সবকিছু ছাড়িয়ে প্রায় ১৩৪ শতাংশ বেড়েছে কাচাঁ মরিচের দাম। কারওয়ানবাজারে যে মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়, তা হাতিরপুলে ৪০০ টাকা দাম হাঁকাচ্ছেন বিক্রেতারা।
পাইকার কিংবা খুচরা সব পক্ষের ব্যবসায়ীর দাবি, মশলার বাজারে এ বাড়ন্ত দাম ঈদকে ঘিরে নয়, বরং পণ্য আমদানিতে খরচ বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে বাজারে। যার কারনে পকেট শূন্য হচ্ছে ক্রেতার।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের দাবি, এ বছর দেশীয় উৎপাদন ছিল প্রায় ৩৪ লাখ মেট্রিক টন। কিন্তু মজুত সুবিধার অভাবে দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের প্রায় ২৫ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে দেশে এখনো প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টন পেঁয়াজের ঘাটতি রয়েছে।
আরও পড়ুন: কমলাপুরে মানুষের ঢল, সব ট্রেন ছেড়েছে সময় মতো
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, দেশে আদার চাহিদা প্রায় ৩ লাখ ৭১ হাজার ৩৩৫ মেট্রিক টন। গত অর্থবছরে দেশে আদার উৎপাদন ছিল ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন। আমদানি করা হয়েছিল ১ লাখ ৬৬ হাজার ৯৯৫ মেট্রিক টন।
এ বছর উৎপাদন কমে হয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার মেট্রিক টন। গত অর্থবছরে ১৭ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে আদা চাষ হয়েছিল। চলতি অর্থবছরে ১৫ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আদা চাষ হয়েছে।
একাত্তর/এসি
