অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে প্রিমিয়াম আয়ের এক কোটি ১৭ লাখ টাকা কম দেখিয়ে রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছিল বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের তদন্ত দল। কিন্তু অভিযোগ ছিলো আত্মসাতের প্রকৃত তথ্য গোপন করেছে খোদ তদন্তকারীরা। পরে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পুনঃতদন্তে প্রমাণ মিললো এক কোটি নয় মোট ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স।
মতিঝিলে অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের প্রধান কার্যালয়। রাজস্ব ফাঁকি ও অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে গেলো ১৬ নভেম্বর প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য নিতে গেলে এভাবেই চড়াও হন অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের কোম্পানি সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান।
প্রকৃত আয় গোপন করার অভিযোগে চলতি বছরের ২৪ মে অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক প্রতিবেদনের সাথে ব্যাংকের লেনদেন হিসাবে গড়মিল পেয়ে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ২০২০ সালে অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩০ কোটি ২৪ লাখ টাকার প্রিমিয়াম জমা হলেও ঐ বছরের আর্থিক প্রতিবেদনে ২৯ লাখ ৭ হাজার টাকা আয় দেখায় কোম্পানিটি। এতে এক কোটি ১৭ লাখ টাকা আয় কম দেখিয়ে তা আত্মসাৎ করা হয় বলে প্রতিবেদন দেয় তদন্ত দল।
অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের সিইও মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, সাধারণত আমাদের কোম্পানিতে এসব করা হয় না। কেন এসব অভিযোগ আসছে আমি বলতে পারবো না।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে আত্মসাৎ করা প্রকৃত অর্থ ছিলো আরও বেশি। যা তদন্ত দল গোপন করেছে কিংবা অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সকে ছাড় দিয়েছে। এ কারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা দ্বিতীয় দফায় তদন্তে করতে বাধ্য হয়।
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান মো. জয়নুল বারী বলেন, বিষয়টি আমি জানি না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে পুনঃতদন্ত করা হবে।
২০২০ সালে অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স বেসিক, ডাচ বাংলা ও যমুনা ব্যাংকের তিনটি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ৩৮ কোটি ৭২ লাখ টাকা প্রিমিয়াম সংগ্রহের প্রমাণ মেলে। কিন্তু ঐ বছরের আর্থিক প্রতিবেদনে তারা আয় দেখান ২৯ কোটি টাকা। অথ্যাৎ ৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা গোপন করে রাজস্ব ফাঁকি ও আত্মসাৎ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য সুলতান আবেদীন মোল্লা বলেন, ব্যবসার যে প্রিমিয়াম, যে হিসাব সেটি যদি সঠিক না থাকে, তাহলে সেখান থেকে সরকার বঞ্চিত হয় এবং শেয়ার হোল্ডারও বঞ্চিত হয়। অটোমেশনের মাধ্যমে এসবকে এখন ওভারকাম করা যায়। কর্তৃপক্ষকে সচেষ্ট হতে হবে।
৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা আয় কম দেখানোয় ভ্যাট ও স্টাম্প ডিউটি বাবদ দেড় কোটি টাকা রাজস্ব হারায় সরকার।
সহিংস রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে এফবিসিসিআইয়ের উদ্বেগ
অবরোধে ক্ষতির মুখে দেশের অর্থনীতি