সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, উত্তোলনে আন্তর্জাতিক দরপত্র 

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২৪, ০৪:১৮ পিএম

শতভাগ মুনাফা ফিরিয়ে নেওয়ার সুবিধা, যে কোনো ধরনের স্বাক্ষর বোনাস বা সত্ত্ব মূল্য তুলে দেওয়া এবং আকর্ষণীয় মূল্য নির্ধারণ করে দীর্ঘদিন পর গভীর ও অগভীর সমুদ্রে ২৪টি ব্লকে তেল, গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে সরকার।

রোববার বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন পেট্রোবাংলার ওয়েবসাইটে এ দরপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞাপন।

অগভীর সমুদ্রের ব্লকগুলোতে রাষ্ট্রায়ত্ত বাপেক্সকে বাধ্যতামূলকভাবে বিদেশি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে নিতে হবে এবং ১০ শতাংশ অংশীদারিত্ব দিতে হবে বলেও দরপত্রে উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে দরপত্র জমা দিতে সময় দেওয়া হয়েছে ছয় মাস। অর্থাৎ আগামী নয় সেপ্টেম্বরের মধ্যে আগ্রহীদের ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৪’ এ অংশ নিতে হবে। এরপর যাচাই করে কাজ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।

বাংলাদেশের সমুদ্র থেকে তেল, গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য সর্বশেষ দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিলো ২০১৬ সালে। কিন্তু সরকারের প্রস্তাব আকর্ষণীয় না হওয়া তখন তেমন একটা সাড়া মেলেনি।

এরপর ২০১৯ উৎপাদন অংশীদারি চুক্তিতে (পিএসসি) ব্যাপক পরিবর্তন আনে সরকার। আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করতে সেখানে যুক্ত করা হয় আকর্ষণীয় সব প্রস্তাব।

কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারিসহ নানা কারণে নতুন পিএসপি প্রণয়ণের চার বছর পর সাগরের তেল, গ্যাস উত্তোলন, অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক দরপত্র ডাকা হলো। গত জুলাইয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয় নতুন পিএসসির। ২০১৯ সালের পিএসসিতে গভীর সমুদ্রে প্রতি হাজার ঘনফুট ৭ দশমিক ২৫ ডলার এবং অগভীর সমুদ্রে ৫ দশমিক ৫ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছিলো। আর এবার গ্যাসের দাম হবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামের ১০ শতাংশ; যা আন্তর্জাতিক বাজারের দরের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে। 

পেট্রোবাংলার এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, মডেল পিএসসিকে আগের থেকে অনেক আকর্ষণীয় ও বিনিয়োগবান্ধব করায় অনেক আসার আগ্রহ দেখাবে।

আর এবারের দরপত্রে অংশ নিতে বিশ্বের বড় বড় তেল, গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং ৫৫টি কোম্পানিকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে বলে পেট্রোবাংলা থেকে বলা হয়েছে।

সংগৃহীত ইমেজ।

বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৪-এ অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য বেশকিছু শর্ত বেধে দিয়েছে পেট্রোবাংলা।

এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে- দরপত্রে অংশ নিতে হলে কোনো কোম্পানির (জয়েন্ট ভেঞ্চার হলে তাদের অন্তত একটি কোম্পানির) সাগর থেকে প্রতিদিন ১৫ ব্যারেল তেল অথবা ১৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। প্রত্যেক কোম্পানিকে নিজ দেশের বাইরে অন্তত একটি দেশে সাগরে তেল, গ্যাস উত্তোলন ও অনুসন্ধানের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

বাংলাদেশের সমুদ্রে মোট গ্যাস ব্লককে ২৬ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে অগভীর সমুদ্রের ১১ ব্লকে ও গভীর সমুদ্রে ১৫টি।

অগভীর সমুদ্রে দুটি ব্লকে ইতোমধ্যে তেল গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের কাজ করছে ভারতে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ওএনজিসি। আর ওই দুটি ব্লক বাকি রেখে অগভীরে নয়টি ও গভীরের ১১টি ব্লকে দরপত্র ডাকা হয়েছে। অগভীরে এসএস-৪ ও ৯ বাদে ১ থেকে ১১টি। আর গভীর সমুদ্রে ডিএস-৮ থেকে ২২ পর্যন্ত।

২০১২ সালে মিয়ানমার ও ২০১৪ সালে ভারতের সাথে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির পর সাগরে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের মালিকানা। এরপর সাগরের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিষয়ে উদ্যোগী হয় সরকার।

অবশ্য সমুদ্রসীমা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিরোধ মেটার আগেই সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালে আন্তর্জাতিক দরপত্র ডাকা হয়। গভীর সমুদ্রের দুটি ব্লকে অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য ২০১০ ঠিকাদারি দেয়া হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কনোকো ফিলিপস।

কোম্পানিটি দ্বিমাত্রিক জরিপ চালিয়ে মিয়ানমারের সীমানা ঘেঁষা ওই দুই ব্লকে বিপুল গ্যাসের সন্ধান পায়। কিন্তু কনোকো ফিলিসপের গ্যাসের দাম বাড়ানোর দাবি জানায়। সরকার তাতে রাজি না হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে সরে যায় তারা। একইভাবে চুক্তির পর তেল, গ্যাস উত্তোলন না করেই চলে যায় অস্ট্রেলিয়ার স্যান্টোস ও দক্ষিণ কোরিয়ার পস্কো দাইয়ু।

এরপর গত বছর বাংলাদেশের সমুদ্রে তেল, গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের আকর্ষণীয় প্রস্তাব দেয় প্রভাবশালী মার্কিন কোম্পানি এক্সনমবিল। সাগরে তেল, গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে এক্সনমবিলকে ‘গেইম চেঞ্জার’ হিসেবে দেখা হয়।  

তারা বঙ্গোপসাগরে তেল গ্যাস অনুসন্ধানে প্রায় সোয়া তিন লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগে আগ্রহী বলে গত বছরের জুলাই মাসে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের ভূমি (অনশোর) থেকে সবচেয়ে বেশি গ্যাস উত্তোলনকারী আরেক মার্কিন শেভরন। আর বঙ্গোপসাগরের তেল, গ্যাসে নজর রয়েছে বিভিন্ন দেশেনর আরো কিছু বিদেশি কোম্পানির। 

আরবি
সরকার বর্তমানে গ্যাসের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা করেনি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)।
ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জে চীনা কোম্পানি হানডার বিনিয়োগ বিষয়ে গত ১ এপ্রিল একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচার করে একাত্তর টেলিভিশন। তাতে উঠে আসে, বিনিয়োগ পেতে হানডাকে বিশেষ ও বৈষম্যমূলক সুবিধা দিচ্ছে...
এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে তিতাস গ্যাস অধিভুক্ত এলাকায় ২৪ ঘণ্টা গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করবে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। 
নভেম্বর মাসে ভোক্তাপর্যায়ে এলপি গ্যাসের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম এক হাজার ২৪১ টাকা থেকে ২৬ টাকা কমিয়ে এক হাজার ২১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আরাধ্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মতিথি ও জন্মাষ্টমী শুক্রবার। ন্যায়নীতি, সত্য ও সুন্দরকে প্রতিষ্ঠা এবং দুষ্টের দমন করে মানবজাতির কল্যাণের লক্ষ্যে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের এই...
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) বাতিল হওয়ার কারণে খেলোয়াড়দের আয়ের সুযোগ কমে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচ ফি দ্বিগুণ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-এর পরিবর্তে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে পুলিশের একটি নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে।
২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যকে কোনো স্লোগান নয়, বরং একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর