রমজানে মাসে ইফতার সামগ্রীর অন্যতম অনুষঙ্গ বেগুন। তাই রমজান আসার আগ থেকেই দাম বাড়তে থাকে এই সবজির। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। রোববার কেজি প্রতি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। যা গত সপ্তাহেও বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা কেজি।
এমন প্রেক্ষাপটে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ হুমায়ূন ক্ষোভের সঙ্গে বলেছেন, রোজায় ক্রেতারা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কেনে আর এর সুযোগ নেয় ব্যবসায়ীরা। আর, রোজা এলেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে কিছু ব্যবসায়ী পরিবার নিয়ে সৌদি আরব চলে যায়। অন্যান্য দেশে রমজানে পণ্যের দাম কমলেও, বাংলাদেশে উল্টো।
এই যেমন এবার রোজার অনেক আগেই খেজুরের ওপর আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহার করে নিয়েছে সরকার। তারপরও গেলো বছরের তুলনায় সব রকম খেজুরই প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। শুধু খেজুরই নয়, অন্য সব পণ্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী। সেই সঙ্গে আছে ভেজাল পণ্যে বাজার সয়লাব হবার আশঙ্কা।
এসব বিষয়কে সামনে রেখে রমজানে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, সঠিক ওজন ও ভেজাল রোধে বিএসটিআইয়ের কার্যক্রম জানাতে রোববার রোববার তেজগাঁওয়ে সংস্থাটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন নূরুল মজিদ হুমায়ূন। ছিলেন শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা, বিএসটিআই প্রধান এস এম ফেরদৌস আলমও।
নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বলেন, ভেজাল, নকল, পরিমাপে কারচুপি এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্যে পণ্য বিক্রি করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে বিএসটিআই। ভেজালকারী ছোট হোক বা বড় হোক কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সব ভেজালকারীর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, রমজানে পণ্যের মান এবং ওজন ও পরিমাপে কারচুপি রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। ঢাকা মহানগরীতে প্রতিদিন তিনটি বিশেষ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। এ ছাড়া জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসনের সহযোগিতায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবে বিএসটিআই।
তিনি আরও জানান, একইসঙ্গে র্যাব ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। এসব কার্যক্রম পরিচালনার সময় অনৈতিকভাবে ব্যবসায়ীরা যাতে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করতে না পারেন, তা মনিটরিং করবে বিএসটিআই।
মন্ত্রী বলেন, আকস্মিক অভিযানে বিশেষ করে রোজাদাররা সচরাচর যে খাবার ও পানীয় গ্রহণ করে থাকেন, সেগুলোর ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হবে। এ সময় ফলমূল, পানীয়, ফলের সিরাপ, মুড়ি, খেজুর, কোমল পানীয়ের পাউডার, কার্বোনেটেড বেভারেজ, ভোজ্যতেল, সরিষার তেল, ঘি, পাস্তুরিত দুধ, নুডলস, সেমাই, পানি, ডেক্সট্রোজ মনোহাইড্রেট এবং ইফতার সামগ্রীর মান ও দাম নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
তিনি বলেন, ‘সারা দেশ থেকে মোট ৬১৬টি খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এরমধ্যে এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৫৬২টি। যার মধ্যে মানসম্মত নমুনা ৫১১টি, নিম্নমানের নমুনা ৫১টি। এছাড়া আরও ৫৪টি নমুনা পরীক্ষাধীন রয়েছে। নিম্নমানের পণ্য সরবরাহকারীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হাইকোর্টের নির্দেশ থাকায় এবং জনস্বার্থ বিবেচনা করে বিএসটিআই ফলমূলে ফরমালিন পরীক্ষা করে থাকে। এ বছর বাজার থেকে ১৯২টি নমুনা ক্রয় করে ফরমালিনের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়। তবে কোনোটিতে ফরমালিনের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
শিল্পমন্ত্রী জানান, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮ মাসে বিএসটিআই পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও পণ্যের ওজন ও পরিমাপে কারচুপি রোধকল্পে ১৫৫৩টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে। এ সময় ১৫৪৩টি মামলা দায়ের এবং ৪ কোটি ৮৪ লাখ ২৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময়ে ২৩টি কারখানা এবং পরিমাপে কম দেওয়ায় পেট্রোল পাম্পের ৩৯২টি ইউনিট সিলগালা করা হয়।
‘পাঁচ টাকার লেবু ১৫ টাকা হয় কীভাবে?’