ঈদবাজারে এবার ‘মুরগি’ কী হতে যাচ্ছে টক অব দ্যা মার্কেট। পরিস্থিতি তাই ইঙ্গিত দিচ্ছে। সরকারে বেঁধে দেয়া দাম তো মানাই হয়নি, উল্টো ঈদের বাড়তি চাহিদা পুঁজি করে কেজিতে কমপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে মুরগির দাম। বেশি দামের চলতি হাওয়া পিছিয়ে নেই সেমাইও। গেল বার ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া সেমাই এবার ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও তারও বেশি।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে শেষ শুক্রবার, জুমাতুল বিদার দিনেই অনেকটা ঈদের আমেজ এসে গেছে রাজধানীর বাজারে। ঈদবাজারে যথারীতি বাড়ে মুরগির চাহিদা। আর এবারও চাহিদা বাড়ায় রাজধানীর সব বাজারে ব্রয়লার, লেয়ার, কক, দেশি, সব ধরনের মুরগির দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে, ব্রয়লার মুরগি ২৪০ থেকে ২৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ছিলো মুরগি ২০০ থেকে ২০৫ টাকা। সোনালি মুরগী কেজি ৩৪০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ৩২০ টাকা, দেশি মুরগি ৬৫০ থেকে ৬৮০ টাকা, লাল লেয়ার মুরগি ৩৪০ টাকা এবং সাদা লেয়ার ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর মালিবাগ, মগবাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২৩০-২৪০ টাকা, আর সোনালি মুরগি ৩৩০-৩৫০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, গত এক সপ্তাহে সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। আর প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ২০-৩০ টাকা বেড়েছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারে সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় খামারিরা মুরগির দাম বাড়িয়েছেন। এদিকে বাজারে গরুর মাংসের দামও এখন চড়া। লম্বা সময় পর মাংসের বাজারে ভিড়ও বেড়েছে। দাম এখন কেজি ৭৫০, খাসির মাংস কেজি ১১০০ আর বকরির মাংস ১০০০ টাকা।
প্রান্তিক খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমন হাওলাদার বলেন, মুরগির দাম যে বাড়বে, তা আগে থেকেই বোঝা যাচ্ছিল। কারণ, খামারিদের চড়া দামে বাচ্চা কিনতে হচ্ছে। বাচ্চার বাজারে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। মুরগির খাবার ও ওষুধের দামও বাড়তি।
বাজারে ঈদের অন্যতম প্রধান আইটেম সেমাই। ঈদ এলেই বাজারে সেমাইয়ের চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের ঈদেও বাজারে বেড়েছে সেমাই বিক্রি। বাহারি রংয়ের সেমাই থরে থরে সাজানো সব দোকানে । ক্রেতারা ঘুরে দেখছেন আর কিনছেন।
বাজারে কয়েক ধরনের সেমাই পাওয়া গেলেও ভোক্তাদের পছন্দের শীর্ষে লাচ্ছা সেমাই। বরাবরের মতো এবারও লাচ্ছা সেমাইয়ের চাহিদা বেশি বলেই জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। খোলা লাচ্ছা সেমাই বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায়। আর চিকন সেমাই কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪০ টাকায়।
এছাড়া, প্যাকেটজাত সেমাইয়ের মধ্যে রয়েছে ব্র্যান্ডের ভিন্নতা। এর মধ্যে ড্যান কোম্পানির ৪০০ গ্রাম পরিমাণের লাচ্ছা সেমাই বিক্রি হচ্ছে ২৭০ টাকায়, যা অন্যান্য প্যাকেটজাত সেমাইয়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।
দোকানিরা বলছেন, এ সেমাইয়ের মান ও স্বাদ অন্যান্য সেমাইয়ের চাইতে ভালো বিধায় দামটা বেশি।
এদিকে, মসলা, তেল, পোলাও চাল এবং চিনির দাম নতুন করে বাড়েনি, তবে চাহিদার তুলনায় গুড়ো দুধের সরবরাহ কম। বাজারে অনেক খুঁজে কিনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। আর চাল, ডাল, আটা, ময়দা ও সয়াবিনের মতো নিত্যপণ্যগুলোর দাম উচ্চ মূল্যে স্থিতিশীল আছে।
শুক্র থেকে রোববার যেসব এলাকায় ব্যাংক খোলা