আগামী অর্থবছরে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতে প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। যা চলতি অর্থ বছরের তুলনায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা বেশি। এবার বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনের উন্নয়নকে গুরুত্ব দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন।
তবে বাজেটে বরাদ্দ যাই থাকুক সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে তা কাজে আসছে না বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কাজ যেভাবে এগিয়েছে এর সঞ্চালন লাইন নির্মাণ তার সাথে তাল মেলাতে পারেনি। একইভাবে সরকারের অন্যান্য বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাথে সঞ্চালন লাইন নির্মাণে একই অভিজ্ঞতা। তাই আসছে বাজেটে সঞ্চালন লাইনকে গুরুত্ব দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক।
মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন জানান, সঞ্চালন ও বিতরণের দিকে জোর দেয়া হয়েছে। প্রস্তাবিক ৩৪ হাজার কোটি টাকার বাজেটে মধ্যে ১০ হাজার কোটি টাকা সরকারের পক্ষ থেকে আর ১৮ হাজার কোটি টাকা প্রকল্প সাহায্য আর বাকিটা নিজেদের তহবিল।
নতুন বাজেটে বিদ্যুৎ খাতের বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ৩৪ হাজার ৩৩৬ কোটি টাকা। আর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতে চার হাজার ৪৪৩ কোটি। মন্ত্রণালয়ের হিসাবে দ্বিতীয় স্থানে আছে বরাদ্দ।
প্রতি বছর এই মন্ত্রণালয়ে বাজেটের পরিমাণ বেশি থাকলেও সুষ্ঠু ব্যবহার না থাকায় তা কাজে আসে না বলে অভিযোগ কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলমের।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ মকবুল-ই-ইলাহী চৌধুরী মনে করেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে দেশীয় ও বিকল্প জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ জরুরি।

আগে থেকে দেশীয় জ্বালানি উত্তোলন বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হলে দেশে জ্বালানি সংকট হতোনা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশে রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন সত্ত্বেও লোডশেডিংয়ের পরিমাণ বাড়ার অন্যতম কারণ বিবেচনা করা হয় সঞ্চালন লাইনের দুর্বলতাকে।
জানা গেছে, কয়লাসহ বেশকয়েকটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলেও সঞ্চালন লাইনের সীমাবদ্ধতায় বিদ্যুৎ পরিবহণ করা যাচ্ছে না। এমনকি চলমান বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণে চড়া দামে বন্ধ থাকা তেলভিত্তিক কেন্দ্র চালু হলেও যোগ হচ্ছে না জাতীয় গ্রিডে। এছাড়াও আমদানি বিদ্যুৎ পরিবহণেও বিভিন্ন সময় দেখা দিচ্ছে জটিলতা।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্যানুসারে, চলমান ১৭টি প্রকল্পের মধ্যে কিছু প্রকল্পের মেয়াদ ৭ থেকে ১০ বছরব্যাপী এবং কিছু প্রকল্পের মেয়াদ ৩ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত। সংস্থাটির তথ্য বিশ্লেষণে জানা যায়, অধিকাংশ প্রকল্প শেষ হবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর ও ২০২৫ সালের ডিসেম্বর নাগাদ।
এছাড়াও কিছু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৮ সালে। এর বাইরে দুইটি প্রকল্পের একটি চলতি বছর জুন ও অপরটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২১ সালে।
যেসব প্রকল্প ২০২৪ সাল নাগাদ শেষ হওয়ার কথা, তার অনেকগুলোরই ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কাজ বাকি রয়েছে, যা নির্ধারিত সময়ে শেষ হওয়া নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
বিদ্যুতের নির্ভরযোগ্য সঞ্চালনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কারকাজের লক্ষ্যে চলমান প্রকল্পের আওতায় আরও রয়েছে, বিদ্যমান ১৩২ কেভি ট্রান্সমিশন লাইনের কন্ডাক্টর আপ গ্রেডেশন, একটি করে ৪০০/১৩২ কেভি ও ২৩০/১৩২ কেভি সাবস্টেশন নির্মাণ, বিদ্যমান ২৩০/১৩২ কেভি সাবস্টেশনগুলির ক্ষমতা বৃদ্ধি, নতুন ২৮টি ১৩২/৩৩ কেভি সাবস্টেশন নির্মাণ, বিদ্যমান ২৮টি ১৩২/৩৩ সাবস্টেশনের ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিদ্যমান ১৪টি ১৩২ কেভি সাবস্টেশনের সংস্কার।
ঘূর্ণিঝড় রিমাল: সারাদেশে ৯ মৃত্যু
বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুন: যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের প্রধানমন্ত্রী