আয় বুঝে ব্যয় নয়। বরং ব্যয় ঠিক করেই আয়ের পরিকল্পনা করা হয় বাজেটে। এ কারণেই রাজস্ব আদায়ের উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয় না। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাজস্ব আদায়ে অনলাইনসহ প্রযুক্তির ব্যবহার ও কর কাঠামোর পরিবর্তন না হবার কারণেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না। এরমাঝে পৌনে তিন লাখ কোটি টাকার ঘাটতি নিয়ে আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় আট লাখ কোটি টাকার বাজেট দিতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী।
চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংশোধিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা চার লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। এরমধ্যে জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে আদায় হয়েছে দুই লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা।
গত বছরের তুলনায় রাজস্ব আয়ে প্রবৃদ্ধি প্রায় ১৬ ভাগ। একক মাস হিসেবে এপ্রিলে আয় হয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসেবে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মে ও জুন মাসে কমপক্ষে ৫৫ হাজার কোটি টাকা করে আয় করতে হবে।

অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়, এটা করা হয় প্রায়শই গত বছরের বাজেটের ভিত্তিতে। কিন্তু গত বছরের বাজেটের যে লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছে, সেটা বড় ধরনের ঘাটতি দিয়ে শেষ হয়। ৮৪ শতাংশ, বড়জোর ৮০ শতাংশ অর্জন হয়। কিন্তু ওই ২০ শতাংশ যদি পরবর্তী বাজেটের সাথে যুক্ত করে দেয়া হয়, তাহলে এটা একটা অলৌকিক লক্ষ্যমাত্রা রাজস্ব বোর্ডের জন্য দেয়া হয়।
গেল ১৫ বছরে কৃষি নির্ভর অর্থনীতি থেকে শিল্প নির্ভর অর্থনীতিতে বেশ এগিয়ে বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক অগ্রগতিও হয়েছে। কিন্তু রাজস্ব প্রশাসনের কাঠামোগত কোনো পরিবর্তন হয়নি।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, আমরা মূলত খরচ নির্ধারণ করে সম্পদ খুঁজি। তখন ওই সম্পদ খোঁজার জন্য কতখানি আমরা রাজস্ব বোর্ডের থেকে নিতে পারবো, কতখানি তার বাইরে থেকে নিতে পারবো, বাকিটা কতখানি ব্যাংক থেকে ঋণ নেবো এবং সর্বশেষ আমি বিদেশ থেকে ধার করবো।

এনবিআরের সাবেক সদস্য আলী আহমেদ বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিশাল পরিবর্তন করতে হবে। কর কাঠামোর পরিবর্তন করতে হবে। সরকারকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজটি না করলে ওই পরিমাণে রাজস্ব আয় হবে না।
ভ্যাটসহ পরোক্ষ কর আদায়েই এনবিআরের সকল তোড়জোড়। কিন্তু ধনীদের কর আদায়ে কঠোর নয় এনবিআর। ফলে প্রকট হচ্ছে বৈষম্য।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিগত সময়ে সে সমস্ত আয় আমার করের আওতার ভেতরে নেই কারণ হলো, অনেক ক্ষেত্রে এ আয় আইনানুগ না, পবিত্র না। সেক্ষেত্রে আয় যারা করেছেন তারা ঘোষণা করতে দ্বিধাবোধ করেন। সে যায়গায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ে দুদকের ভূমিকা বেড়ে যায় অনেক বেশি।
আগামী ৬ জুন প্রায় আট লাখ কোটি টাকার বাজেটে দিতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী; যেখানে ঘাটতি স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রায় পৌনে তিন লাখ কোটি টাকা।
আইএমএফের ঋণের তৃতীয় কিস্তি আসছে জুনে