নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে শুরু হচ্ছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ২৯তম আসর। পূর্বাচলে সকাল ১০টায় এই মেলার উদ্বোধন করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) যৌথ উদ্যোগে চতুর্থবারের মতো ওই সেন্টারে মেলা হতে যাচ্ছে।
এরিমধ্যে মেলার সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। এবারই প্রথম মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশে ই-টিকেটিং সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিআরটিসির ডেডিকেটেড বাস সার্ভিসের পাশাপাশি যুক্ত হচ্ছে বিশেষ ছাড়ে উবার সার্ভিস।
এছাড়া মেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে তৈরি করা হয়েছে জুলাই চত্বর ও ছত্রিশ চত্বর। সঙ্গে দেশের তরুণ সমাজকে রপ্তানি বাণিজ্যে উদ্বুদ্ধকরণার্থে তৈরি করা হয়েছে ইয়ুথ প্যাভিলিয়ন। বয়সভিত্তিক দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে তৈরি করা হয়েছে প্রযুক্তি কর্নার।
সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য সিটিং কর্নার। শিশুদের নির্মল চিত্তবিনোদনের জন্য মেলায় থাকছে শিশু পার্কও। বিদেশি উদ্যোক্তা-প্রতিষ্ঠানের সুবিধার্থে থাকছে স্বতন্ত্র সোর্সিং কর্নার, ইলেক্ট্রনিক্স ও ফার্নিচার জোন। মেলায় সম্ভাবনাময় সেক্টর বা পণ্যভিত্তিক সেমিনার আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এ বছর।
এনিয়ে চতুর্থবার বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পূর্বাচলস্থ বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে। বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৩৬১টি প্যাভিলিয়ন, স্টল ও রেস্টুরেন্ট দেশীয় উৎপাদক-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ সাধারণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে শতভাগ স্বচ্ছতায় বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ছাড়াও সাতটি দেশের ১১টি প্রতিষ্ঠান এবারের মেলায় অংশ নিচ্ছে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো হলো- ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়া। দেশে উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য ও সামগ্রী মেলায় প্রদর্শনের পাশাপাশি বিক্রিও করা হবে। নেয়া হবে ক্রয়াদেশও।
বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারের দক্ষিণ-পূর্ব পার্শ্বে জুলাই চত্বর, দক্ষিণ-পশ্চিমে কালচারাল সেন্টার, টেকনোলজি কর্নার, রিক্রিয়েশন কর্নার এবং সেন্টারের উত্তর-পূর্ব (৬ একর) পাশে শিশু পার্ক ও উত্তর-পশ্চিম পাশে ছত্রিশ চত্বর ও নামাজ ঘর স্থাপন করা হয়েছে।
মেলার সার্বিক নিরাপত্তা এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে মেলা প্রাঙ্গণে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, র্যাব, গোয়েন্দা সংস্থাসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবে। প্রাঙ্গণের বাইরে ও নিয়মিত টহল দল থাকবে।
এবারের মেলায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি অধিকতর গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়েছে। এক্সিবিশন হলে পুরুষ ও নারীদের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক আলাদা টয়লেটের পাশাপাশি বাইরেও পর্যাপ্ত সংখ্যক টয়লেট এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলায় খাদ্য দ্রব্যের মান নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন চলবে ভেজালবিরোধী অভিযান।
মেলায় পর্যাপ্ত কার পার্কিংয়ের সুবিধা থাকবে, এমনটি জানিয়ে মেলা কর্তৃপক্ষ জানায়, পাঁচ শতাধিক গাড়ি পার্কিং সুবিধাসহ দ্বিতল কার পার্কিং বিল্ডিং ছাড়াও এক্সিবিশন হলের বাইরে ছয় একর জমিতে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ব্যাংকিং সার্ভিসের জন্য মেলায় থাকবে পর্যাপ্ত সংখ্যক ব্যাংক বুথ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাং সেলিম উদ্দিন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. আবদুর রহিম খান, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ভাইস-চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেনসহ আরও অনেকে।
২০২৪: লাগামহীন লুটপাটের ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে অর্থনীতি
অনলাইনে রিটার্ন দিলেন ১০ লাখ করদাতা, রেজিস্ট্রেশন ১৬ লাখের বেশি